Saturday, October 16, 2021
Homeদেশআসিফ হত্যার অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে,হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারকে চিঠি বৃন্দা কারাতের

আসিফ হত্যার অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে,হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারকে চিঠি বৃন্দা কারাতের

- Advertisement -

KGP 24X7: হিন্দুত্ব বাহিনীর হামলায় নিহত যুবক আসিফের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারকে চিঠি দিলেন সিপিআই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। সম্প্রতি ওই হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের ছাড়াতে লকডাউন ভেঙে মহাপঞ্চায়েতের জমায়েত করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন কারণি সেনা।

মহাপঞ্চায়েতে হিন্দুত্ব বাহিনীর হুমকিতে বিজেপি শাসিত হরিয়ানার পুলিশ প্রশাসন ধৃত কয়েকজন দাগী অপরাধীকে ছেড়েও দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে প্রচার চালাচ্ছে হিন্দুত্ব বাহিনী। নিহত যুবক আসিফের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে বুধবার দেখা করেন সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত ও বামপন্থী প্রতিনিধিরা। এই ঘটনায় যুক্ত হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আসিফের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে জেলা শাসক শক্তি সিংকে ডেপুটেশন দেন প্রতিনিধিরা। প্রতিনিধি দলে বৃন্দা কারাতের সঙ্গে ছিলেন সিপিআই (এম) নেত্রী অমরজিৎ কওর, সিপিআই(এম)’র হরিয়ানা রাজ্য সম্পাদক সুরিন্দর সিং, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক দরিয়াব সিং কাশ্যপ, ঊষা সারোহা, মেজর এস আই প্রজাপতি, বিনোদ ভরদ্বাজ, সারাফুদ্দিন মেওয়াতি, জাফর আরশাদ খান প্রমুখ।

- Advertisement -

গত ১৬ মে হরিয়ানার নুহ জেলায় খেয়াখালিপুর গ্রামে মুসলিম যুবক অসিফকে প্ররোচনা ছড়িয়ে পিটিয়ে খুন করে হিন্দুত্ববাদী বাহিনী কারণি সেনা। আসিফ গ্রামে বিভিন্ন জনসেবার কাজে যুক্ত থাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। এলাকায় বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হিন্দুত্ব বাহিনী ও বিজেপি’র নেতারা। লকডাউনের সময় বিকালে ওষুধ কিনে ঘরে ফেরার সময় তাকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে কারণি সেনার কর্মীরা। সেই হামলায় গুরুতর জখম হন তাঁর খুড়তুতো ভাই রশিদও।

এদিকে এরপরেই হত্যার সমর্থনে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে প্রচার চালায় হিন্দুত্ব বাহিনী ও বিজেপি নেতারাও। ইতিমধ্যে পুলিশে হত্যার অভিযোগে মোট ১২জনকে গ্রেপ্তার করে। তাতে খুনের দাগী অপরাধীরা ছিল। অপরাধী কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশে চাপ সৃষ্টি করে কারণি সেনা। চাপ বাড়াতে থাকায় গত ৩০ মে হরিয়ানার নুহ জেলায় ছবি বদলে যায়। রাজ্যে লকডাউনের মধ্যে ঐদিন হিন্দুত্ব বাহিনী হিন্দু মহাপঞ্চয়েতের মহাসমাবেশের ডাক দেয়। পুলিশ প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করে।

তা ভেঙে নুহ জেলার ইন্দ্রি গ্রামের সঙ্গম স্কুল প্রাঙ্গণে মহাপঞ্চায়েতের মহাসমাবেশ চলে। বেলা ১১টে থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত চলে সমাবেশ। এলাকার সংবাদপত্রে প্রকাশ দিল্লি, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেই সমাবেশে ছিলেন লকডাউনের সব নিয়ম কানুন উড়িয়ে দিয়েই সমাবেশ ভাষনে চলে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ হিংসা ছড়ানোর প্ররোচনা মূলক প্রচার। হিন্দুত্ব বাহিনীর নেতাদের নানা প্ররোচনামূলক ভাষণের ভিডিও ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। সমাবেশের মূল দাবি ছিল হত্যায় ধৃত সকলকে বেকসুর মুক্তি দিতে হবে। তার সঙ্গে পরিষ্কার ঘোষণা খুন করে কোনও অপরাধ করা হয়নি।

হিন্দুত্বের প্রচারক বিট্টু বজরঙ্গীর ভাষণে, সোজা হুমকি যারা হত্যা করেছে তাদের পাশে আমরা আছি। তারা নিরাপরাধ। তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। কর্মী সেনার সভাপতি সুরজপল আমু ভাষণে বলেছেন, আরিফের হত্যায় ভালো কাজ হয়েছে। এতে কেন হিন্দুদের গ্রেপ্তার করা হবে? যাদের ধরা হয়েছে তাদের সকলকে ছেড়ে দিতে হবে। তার স্পষ্ট ঘোষণা ভারতে হিন্দু মুসলিম ভাই বলে কিছু নেই। মুসলিমরা কোনও ভাই নয়। তারা আমাদের শত্রু। সভায় হিন্দুত্ব বাহিনীর ভারত মাতার নেতারাও প্ররোচনামূলক ভাষণ দেন। সভায় বিজেপি’র এলাকার বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন।

সভা থেকে হত্যাকাণ্ডে ধৃত সকলকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে পুলিশে ডেপুটেশন দেওয়ার পরে পুলিশ ৪ জনকে ছেড়েও দেয়। এদিকে লকডাউন ভেঙে চরম সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়ে সমাবেশ হলেও নিয়ে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী খাট্টারকে দেওয়া ডেপুটেশনে এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাড়াও রাজ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রচার চালানো নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখা হয়েছে।

তা হলো, রাজ্যে লকডাউনের সময় ১৪৪ ধারা জারি হলেও তবু মহাসমাবেশ ডেকে কিভাবে মহাপঞ্চায়েত হলো? সেই মহাপঞ্চায়েতে যেভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়িয়ে ভাষণ দেওয়া হলো তার ভিডিও রাজ্যে সকলের কাছে থাকলেও তাতে কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না? সমাবেশে জুনেইদ খুনে ধৃত হিন্দুত্ব বাহিনীর নেতা নরেশকুমার জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সেই সমাবেশে হিংসার প্রচার চালালেও কেন তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হলো না? কেন মহাপঞ্চায়েতে হিন্দুত্ব বাহিনীর হুমকিতে ধৃত চার অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হলো? ডেপুটেশনে আরিফের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন বৃন্দা কারাত সহ বামপন্থী প্রতিনিধি দল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!