মায়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ,মৃত ২৫

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: মায়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ২৫জন। সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, নিহতদের মধ্যে বিদ্রোহীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রয়েছেন। মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে ক্ষমতাসীন সামরিক জুন্টা।

শুক্রবার থেকেই সাগাইং অঞ্চলের ডেপাইন টাউনশিপে সংঘর্ষে জড়ায় জুন্টা এবং বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের কোনঠাসা করতে যথেচ্ছ গোলাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মায়ানমার সেনার বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোট ২৬বার গোলাবর্ষণের আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে গোটা এলাকা থেকে। একইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, অভিযান চলার সময় সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করেও গুলি চালিয়েছে মায়ানমার সেনা।  রবিবার সামরিক অভিযান কিছুটা স্তিমিত হতে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

 

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে জুন্টাপন্থী   সংবাদ সংস্থা গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মায়ানমার নিউজপেপার জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন সেনা জওয়ানরা। এই ঘটনায় এক  সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।  অভিযানে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানালেও, মোট মৃত বিদ্রোহীর সংখ্যা জানানো হয়নি গ্লোবাল নিউ লাইটের তরফে।

২০২১সালের ফেব্রুয়ারিতে আং সান সুকি’র নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে মায়ানমার সেনা। তারপর থেকেই একাধিক বার রক্তাক্ত হয়েছে সেদেশের রাজপথ। প্রাথমিক ভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামেন সাধারণ মানুষ।

কিন্তু চরম বলপ্রয়োগ করে সেই আন্দোলনগুলিকে দমন করার পথে হাঁটে সামরিক জুন্টা। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ৮৯০জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে।

এর পরবর্তীতে বিদ্রোহীরা হাতে অস্ত্র তুলে নিতে শুরু করেন। ডিফেন্স ফোর্স নামে মায়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহী বাহিনী গড়ে উঠতে শুরু করে। সেই বিদ্রোহকে চিরতরে নির্মূল করতে আরও দমনপীড়নের পথে হাঁটছে মায়ানমারের সামরিক জুন্টা।