Saturday, October 16, 2021
Homeদেশদলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে ক্ষুব্ধ হয়ে, ইস্তফা দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দার সিং

দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে ক্ষুব্ধ হয়ে, ইস্তফা দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দার সিং

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই ঘোর সঙ্কটে পাঞ্জাবের কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দার সিং শনিবার পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যপালকে ইস্তফার চিঠিও দিয়ে দিয়েছেন। তা গৃহীত হয়েছে।

কংগ্রেসের অধিকাংশ বিধায়ক অমরিন্দারের পাশে নেই, এই অবস্থায় এই পদত্যাগ। কংগ্রেস পরিষদীয় দলের হঠাৎ ডাকা বৈঠকে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেবার। রবিবার সকাল ১১টায় পরিষদীয় দল আবার বৈঠকে বসবে। সেখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।

- Advertisement -

পাঞ্জাব কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রবল আকার নিয়েছে গত কয়েক মাস ধরেই। নতুন প্রদেশ সভাপতি হিসাবে নভজ্যোৎ সিং সিধুকে নিয়োগ করা হয়েছিল অমরিন্দারের অমতেই। তারপর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। গত কয়েকদিনে পাঞ্জাবের বিধায়করা দফায় দফায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের একাংশ অমরিন্দারকে সরানোর কথা বলেন।

অমরিন্দার নিজে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তারপরে শুক্রবার অনেক রাতে জানানো হয় কংগ্রেস পরিষদীয় দল শনিবার বৈঠকে বসবে। ইঙ্গিত মেলে, অমরিন্দারকে সরাতেই ওই বৈঠক। কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক হরিশ রাওয়াত গতরাতেই টুইটে জানান, বড় সংখ্যায় পাঞ্জাবের বিধায়করা পরিষদীয় বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেছেন। প্রায় ৫০ জন বিধায়ক সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন বলেও কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়।

ক্ষুব্ধ অমরিন্দার তাঁর সমর্থক বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সন্ধ্যায় রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিয়ে আসেন। কংগ্রেস বিধায়কদের সভায় ৮০ বিধায়কের ৭৮ জন উপস্থিত ছিলেন বলে হাইকম্যান্ড থেকে পাঠানো পর্যবেক্ষক অজয় মাকেন দাবি করেছেন। ‘সর্বসম্মতিতে’ নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষমতা সোনিয়াকে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। অমরিন্দার এই বৈঠকে যোগ দেননি।

বরং নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যই কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে একহাত নিয়েছেন ৭৯ বছর বয়সি অমরিন্দার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত দু’মাসে আমি বারবার কংগ্রেস নেতৃত্বের হাতে অপমানিত হয়েছি। দু’বার তাঁরা দিল্লিতে বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছেন।

আজ তৃতীয় বার বৈঠক ডেকেছেন। আমার ওপরে দলের নেতৃত্বের কোনও আস্থা নেই বলেই মনে হচ্ছে। তাঁরা মনে করেন আমি আমার কাজ করতে পারছি না। যেভাবে তাঁরা চালাচ্ছেন তাঁরা নিজেদের কাজই করতে পারছেন না। এখন যাকে খুশি তাঁরা নিয়োগ করুন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অমরিন্দার বলেন, এখন পর্যন্ত কংগ্রেসে আছি। তবে বিকল্প খোলা রয়েছে। পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলের মধ্যে চর্চা চলছে কোন বিকল্প বেছে নিতে পারেন সাড়ে ৯ বছরের ওজনদার মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে অমরিন্দার নিজে কোনও দল বানাতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসকে ধাক্কা খেতে হতে পারে।

পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে। অমরিন্দারের সমর্থকরা সিধুকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। অমরিন্দার নিজেও তা জানিয়ে বলেছেন, ‘সিধু জাতীয়তা বিরোধী, বিপজ্জনক’। নাম আসছে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি সুনীল জাখরের। তিনিই দৌড়ে এগিয়ে। তবে তিনি শিখ নন, পাঞ্জাবের জনবিন্যাসে সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের সুবিধা হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জাখর অমরিন্দারের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। জাঠ নেতা সুখজিন্দার রণধাওয়া, দলিত নেতা চরণজিৎ চান্নি, সাংসদ প্রতাপ বাজওয়ার নামও ঘোরাফেরা করছে। এমনও হতে পারে যে পরিচিত নেতাদের বাইরে কোনও নাম বেছে নিতে পারেন সোনিয়া।

দলের অন্তর্বিরোধ মেটানোর জন্য পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হরিশ রাওয়াত বিস্তর চেষ্টা করেছিলেন। তারপর মল্লিকার্জুন খাগড়ের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয় যারা সবদিক খতিয়ে দেখে সুপারিশ জমা দেয়। ২০২২-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের কী কী করা উচিত, তেমন ১৮ দফা সুপারিশ ছিল।

অমরিন্দার বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তা রূপায়ণ করছেন না। অমরিন্দারকে রেখে ভোটে গেলে পাঞ্জাবে কংগ্রেস হারবে। যদিও অমরিন্দার দাবি করছিলেন, এই সুপারিশের অধিকাংশই রূপায়ণের কাজ চলছে। প্রদেশ সভাপতি সিধু ও চার কার্যকরী সভাপতির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকেও বসেছিলেন। কিন্তু দ্বন্দ্ব মেটেনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!