Thursday, September 23, 2021
Homeস্বাস্থ্যশঙ্খধ্বনী কি শুধু মঙ্গলের জন্যেই?

শঙ্খধ্বনী কি শুধু মঙ্গলের জন্যেই?

- Advertisement -

শিক্ষক, অরিজিৎ দাস অধিকারী :- “শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে।”
প্রাচীনপুরাণ থেকে আধুনিক পরিমণ্ডলেও শঙ্খধ্বনি মঙ্গলজনক । এত শব্দ থাকতে শঙ্খ কেন ? শঙ্খের শব্দ কি শুধুই মঙ্গলের জন্যেই ? কিভাবে হয় এই মঙ্গল ? এছাড়া কি অন্য কোনও উপকার  হয় শঙ্খ বাদনে ?
ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্য , অর্জুনের দেবদত্ত ,  ভীমদেবর পৌণ্ড্রং , যুধিষ্ঠির অনন্ত বিজয় , নকুল  সুঘোষ , সহদেব মণিপুষ্পক , কাশীরাজ , শিখণ্ডী , ধৃষ্টদ্যুম , রাজা বিরাট , সাত্যকি , দ্রুপদ , দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র , অভিমুন্যু , সহ সকল রথীমহারথী নিজ নিজ শঙ্খেধ্বনি দিয়ে প্রস্তুতি জানানোর সাথে সাথেই যুদ্ধের সূচনা সংঙ্কেত দিয়েছেন ।  কথিত আছে , সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই শঙ্খের ব্যবহার হয়ে আসছে ।

আমাদের দেশ মাতার শৃঙ্খল মোচনের জন্যে স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও শঙ্খধ্বনী সংঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করতেন । আজও বিপদ বা কোনও বিপর্যয় বোঝাতে সাবধান – সতর্ক হতে বা বিশেষ সহযোগিতার জন্য শঙ্খধ্বনি ব্যবহৃত হয় । বন্যা বা ভূমিকম্পে আজও শঙ্খধ্বনি দিয়ে জানান দেওয়া হয় । গ্রাম্য পরিবেশে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে শুতে যাওয়ার সময় শঙ্খধ্বনি করা হয় । পূজা – পার্বণ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক মাঙ্গলিক নানান কর্মে শঙ্খধ্বনির ব্যবহাত হয় । বিবাহ অনুষ্ঠানে জোড়া শঙ্খধ্বনি তো উলুধ্বনির সাথেই অত্যাবশকীয় । বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের সাথে সাথেই জোড়া শঙ্খের প্রকম্পন এক ভিন্ন আবেশ রচনা করে বৈকি । মন্দ্রিত ও মুখরিত সেই শব্দই ঘোষিত করে দুটি জীবনের একখাতে পথ চলাকে । জোড়া শঙ্খ দুই জীবনের মঙ্গলের দ্যোতক । তবে কোনকোন স্থানে বিবাহের অনুষ্ঠানে বিজোড়া শঙ্খ বাজানোর রীতিও দেখা যায় । শঙ্খ নারায়নের হাতে থাকে বলে মঙ্গলের বলেও ধরা হয় । তিন বার শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে তিন যুগকে স্বাগত জানানো হয় ।
বৈজ্ঞানিক মতে শঙ্খধ্বনি নানান ধরনের জীবাণু বিণাশ করে । গ্রামে কোন কোন বাড়িতে রাতে শুতে যাওয়ার আগে শঙ্খধ্বনি দিয়ে জানান দেয় যে ওই পরিবার ঘুমোতে গেল , এরপরে ওখানে কোন সমস্যা বা বহিরাগতের আনাগোনা সন্দেহজনক সেই সঙ্গে অন্য প্রতিবেশীদের সচেতন করা হয় । ভোর বেলার শঙ্খধ্বনি নিজের বাড়ির অন্যদের সাথেসাথে প্রতিবেশীদেরও জাগানো হয়  তেমনি দিনের শুরুতে দিবাকরের আহ্বান জানানো হয় শঙ্খধ্বনিতে সেই সঙ্গে ভোরের শীতল সমীরণে ভাসমান জীবানুদেরও বিণাশ ঘটিয়ে পরিবেশকে আরো নির্মল করা হয় । তাছাড়া যিনি শঙ্খে ফুঁ দেন তারও বিশেষ শ্বাসপ্রক্রিয়ার ব্যায়াম হয় । ফুসফুসের সাথেসাথে হৃৎপিণ্ড সুস্থ্য থাকে । নিয়মিত শাঁখ বাজালে শ্বাস প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বাড়তে থাকে ।  আজো সেমিটাউন থেকে শহুরে জীবনের ইতিউতি শোনা যায় — ” ধুলোমাখা বিকেল ছিল

- Advertisement -

শিশির ভেজানো মাঠ

সন্ধ‍্যা নামলেই শঙ্খধ্বনি

মৃদু আলোয় সহজ পাঠ ।। “

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!