Saturday, July 2, 2022
Homeনিউজস্যোশাল মিডিয়ায় আসক্তির কারণে,আজ বাস্তুহারা গ্রিটিংস কার্ড
Advertisement

স্যোশাল মিডিয়ায় আসক্তির কারণে,আজ বাস্তুহারা গ্রিটিংস কার্ড

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: যেন বাস্তুহারা গ্রিটিংসকার্ড। জাঁকিয়ে বসেছে হোয়াটঅ্যপ , ফেসবুক , টুইটার ও এস এম এস। যুগ এখন শুধু আধুনিক নয় , অতি আধুনিক। এই অতি আধুনিকতার প্রমাণ মেলে এই নিউ ইয়ায়ে। সময় এখন ই–কার্ডের। ভার্চুয়াল মাধ্যম হোয়াটঅ্যপ , টুইটার , ফেসবুক –মাধ্যম হাজারো। শুধু আঙ্গুলের ছোঁয়াতেই পৌঁছে যাচ্ছে শুভেচ্ছা।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

আর গ্রিটিংসকার্ড! পরোপুরি ইতিহাস না হলেও আজ যেন জীবন্ত জীবাশ্ম। তবুও কোথাও থেকে যায় সেই পুরানো আবেগ , পুরানো ভালোবাসার বন্ধন। প্রথম চিনে নতুন বছরে একে অন্যকে সংবাদ আদানপ্রদান করতে ব্যবহার করেন। এরও আগে ইজিপ্টরা প্যপিরাস পাতার এর উপর হাতে নানান কিছু বানাতো পনেরো শতকেই এর শুরু। প্রথম খ্রিষ্টমাস কার্ড ১৮৪৩ এ জন ক্যলকর্ট হোসলে প্রচলন করেন। ১৮৪৩ সালে ভিক্টোরিয়া যুগে প্রথম১০০০ কপি কার্ড ছাপানো হয়েছিল।

হাতে আঁকা লিথোগ্রাফি পদ্ধতিতে তৈরী সেই কার্ডে যে বার্তা ছিল তা হল , A merry Christmas and a Happy New Year to You. রেড ওয়াইনের গ্লাস ধরা এক পারাবারিক ছবি দেওয়া ছিল। তখন রক্ষনশীল সমাজ ওই ছবিটির জন্যে কিনতে চাননি। তাই সেই প্রাচীন গ্রিটিংসকার্ড বিক্রির জন্যে মার্ভিন গেটম্যান নামে বস্টনের এক বই বিক্রেতা সেই কার্ড বিক্রির জন্যে প্রকাশ্যে আনলেই এই ইতিহাস প্রকাশিত হয়।

সময়ের অভিঘাতে বয়ে গেছে অনেক ধারা। আজ আমরা আধুনিক নয় আমরা অতি আধুনিক ডট কমের যুগে বাস করছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবদ্ধ আট থেকে আশি। ইংরেজি নববর্ষের এই শুভেচ্ছা বিনিময়ে কার্ডের ব্যাপক ও বিশাল বাজার , আর্থিক মুনাফাই ক্রমে বাংলা নববর্ষ , জন্মদিন , অন্নপ্রাশন থেকে বিবাহের শুভকামনা কল্পে ব্যবহৃত হতে থাকল। নভেম্বর মাস থেকে শুরু হত কার্ডের বাজার। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত কার্ডকর্ণার।

আবার দাম অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলো কার্ডের গঠনে। কোন কোন কার্ড খুললেই বলে উঠতো হ্যাপি নিউ ইয়ার। হ্যাপি বার্থ ডে। হ্যাপি ম্যারেজ অ্যানিভারসারী ইত্যাদি। কোন কোন কার্ড খুললেই থরেথরে সাজানো থ্রি ডি চিত্রের নিখুঁত চিত্রকল্প। সেই নজিরকে সামনে রেখে অরিগামী করে গ্রিটিংসকার্ড বানাতে তৎপর হয়ে উঠলো আধুনিক প্রজন্ম। কখনো কবিতার লাইন , কখনো নিছক টু এণ্ড ফ্রম , এই দুটি নাম লিখলেই হয়ে যেত। তবুও একটা পার্শনাল টার্চ তো থাকতোই। এখন সে সব গল্প।

ই -কার্ডেই কয়েক সেকেন্ডেই সারা হয়ে যাচ্ছে হ্যাপি নিউ ইয়ার থেকে সব ধরনের উইশ। বাল্য – কৈশোর – যৌবন সম্পর্কস্থাপনে কার্ড সংস্কৃতি একটা বিরাট জায়গা দখল করে থাকতো। আভিজাত্য ও আর্থিক সচ্ছলতা বোঝানো হত কার্ডের নতুনত্ব ও গুণমানের উপরে।

একটা সময় ছিল বছরের শেষের দিক , মানে গ্রিটিংসকার্ড কিনতে দোকানে হুড়োহুড়ি , স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের থেকে কলেজ পড়ুয়াদের জমাট ভীড়। দিনের শেষে কার্ড বিক্রির টাকা গুনতে গুনতে ব্যবসায়ীদের মুখে থাকতো চওড়া হাসি । এস এম এস , ফেসবুক , হোয়াটসঅ্যপ , টুইটারের গুঁতোয় এ সব এখন ইতিহাস হতে বসেছে।

আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজ স্বাক্ষরিত শুভেচ্ছা পত্র রাজ্যের সকল ছাত্র -ছাত্রী ও অভিবাসীদের পাঠিয়ে ছিলেন। এখন তিনিও দপ্তর থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নিজের অফিসিয়াল পেজে কার্ডের মাধ্যমে রাজ্য সহ গোটা দেশকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নবীন প্রজন্ম অবশ্য শুভেচ্ছা জানাতেই হোয়াটসঅ্যপে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য। ছোট হোক বা বড় ভালোবাসার আসল ভাষা আজও রয়েছে দু’মলাটের মাঝে। এই সরল সত্যটা স্বীকার করেও সৌমিলী বলল ” কেবল কার্ড কিনলেই তো হল না , খাম কেন , তাতে ঠিকানা লেখ , ডাকঘরে প্রয়োজন মতো ডাক টিকিট লাগাও , ফের পোষ্ট করো। ব্যস্ততার মধ্যে এতসব করেও প্রাপকের কাছে যথাসময়ে ও যথাগুনমান নিয়ে পৌঁছাবে কিনা তার নিশ্চয়তা নাই।

কিন্তু ভার্চুয়াল মাধ্যমে আঙুলের আগায় জানানো যায় সহজেই। আবার তা ঠিক 00. 00 00 সময়েই। ” এই সরল সত্যটাই পিছিয়ে দিচ্ছে কার্ড সংস্কৃতিকে। শ্যামসুন্দর তুলল খরচের কথা। ” গতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বন্ধুদের সংখ্যাও। ফলে সবার জন্যে যদি খুব কম করে দশ টাকা করেও খরচ করতে চাই তাতেও পেরে উঠি না।”

তবুও আবেগের এই ধারাকে টিকিয়ে রাখতে অনেকেই চেষ্টা করছেন , দিচ্ছেন প্রশিক্ষণও। ঋত্বিকা , ওম , পিয়ালী , দিৎসী অঙ্কষরা আজও নিজেদের সৃজনসীলতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রিটিংসকার্ড বানিয়ে চলছে। হৃদয়ের আবেগ , ভালোবাসা ও শ্রর্দ্ধা দিয়ে প্রিয় বন্ধুদের সাথে সাথে গুরুজনদের প্রণাম সরছে এই ডট কমের যুগেও। আর্ট পেপার , রং- তুলী , চমকী , রিবন আঠা দিয়ে যেমন বানাচ্ছে তেমনি নো কষ্ট লো কষ্ট ফেলে দেওয়া নানান সামগ্রী দেয়েও বানিছে আকর্ষণীয় চমৎকার কার্ড।

এই  ফল্গুধারা নব প্রজন্মের মধ্যে যতই সঞ্চালিত হতে থাকবে ততই জেগে উঠবে আন্তরিকতার কার্ড সংস্কৃতি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যত তাড়াতাড়ি শুভেচ্ছা আসে তা হারিয়ে যায় ততোধিক দ্রুত গতিতেই । স্মৃতির এ্যালবামে ও মনের আলিম্পনে অনেক দীর্ঘস্থায়ী গ্রিটিংসকার্ড। সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের এই মুক্ত দিগন্ত দিকেদিকে প্রসারিত হোক। নানান স্থানে একক বা সম্মিলিত এই সংস্কৃতি ওয়েসিস হয়ে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক।।

 

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!