বাংলায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপি, প্রশান্ত কিশোরের অডিয়ো টেপ ভাইরাল

খড়গপুর২৪×৭: বাংলায় আসছে বিজেপির সরকার। দিল্লির সাংবাদিক ‘বন্ধু’দের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই স্বীকারোক্তি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি অডিয়ো টুইট করেছেন।

ওই অডিয়ো টেপে প্রশান্তের কণ্ঠে বলতে শোনা যাচ্ছে, বাংলায় মমতার মতোই জনপ্রিয় মোদী। সমীক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটদাতাই বলেছেন, বিজেপিই সরকার গড়তে চলেছে বাংলায়। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ বাম ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। অমিত মালব্যর অডিয়ো টেপের সত্যতা যাচাই করেনি খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল।

বাংলার নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী, হিন্দিভাষী, এসসি ভোট ও মেরুকরণই ফ্যাক্টর বলে মনে করেন প্রশান্ত কিশোর। অডিয়োক্লিপে তাঁর গলায় শোনা যাচ্ছে, ‘মোদীর নামে ভোট হচ্ছে। হিন্দুরাও ভোট দিচ্ছেন বিজেপিকে। মেরুকরণ, মোদী, হিন্দিভাষী, এসসি- এগুলিই ভোটের ইস্যু।

শুভেন্দু চলে গিয়েছে বা প্রশান্ত কিশোর এসেছে, এগুলি কোনও প্রভাবই ফেলবে না। মোদী এখানে জনপ্রিয়। হিন্দিভাষীদের ১ কোটির বেশি ভোট রয়েছে। দলিত ২৭ শতাংশ। আর তারা সবাই বিজেপির পাশে। এর সঙ্গে মেরুকরণ তো আছেই।’

এক সাংবাদিক জানতে চান, মতুয়া সমাজ কাকে ভোট দিচ্ছে? সেই ভোট কিছুটা তৃণমূলে ফিরলেও অধিকাংশ ভোটই যাচ্ছে বিজেপির ঘরে। প্রশান্ত কিশোর বলেন,’মতুয়ারা অধিকাংশই বিজেপিকে ভোট দিতে চলেছে। তবে ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি নয়। আমার মনে হয়, ৭৫ শতাংশ মতুয়াই বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। ২৫ শতাংশ মতুয়া ভোট তৃণমূলের দিকে আসছে। আমরা সমীক্ষায় প্রশ্ন করি, ভোট কাকে দেবেন? সরকার কার হবে? সমীক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠই জানিয়েছেন, বিজেপির সরকার আসছে।

কেন এমনটা হচ্ছে? যারা বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে তারা তো বলছেই। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাম ভোটারদের দুই তৃতীয়াংশও মনে করছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটদাতাই বলছে, সরকার গড়ছে বিজেপি। বামপন্থীরা ভাবছেন,বিজেপি আসলে আমাদের দোকান খুলে যাবে। এখন মমতাদিকে হারানো উচিত। এগুলি সব আসলে ধারণা। এই ইস্যুগুলি ভোটের ময়দানে রয়েছে।

বাইরে থেকে আমরা ভাবি, তৃণমূলস্তরে বোধহয় বিজেপির সংগঠন নেই। এমনটা কিন্তু নয়, বিজেপির প্রচুর কর্মী রয়েছে। সবাই বামেদের ঘর থেকে এসেছে। তবে তাঁরা একনিষ্ঠভাবে বিজেপি করছেন। একটা-দুটো জেলা ছাড়া বিজেপির সংগঠন সব জায়গায় শক্তিশালী।’ তাহলে কারা তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে? প্রশান্তের উত্তর,’ওই যে বললাম, ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হিন্দু বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে।’

সংখ্যালঘু তোষণ যে বাংলায় মেরুকরণ করেছে, তাও মেনে নিয়েছেন প্রশান্ত। তবে তাঁর অভিমত, শুধু তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলা যায় না। বাম, কংগ্রেসও সমান দায়ী। প্রশান্তের কথায়,’গত ২০ বছর ধরে চলেছে সংখ্যালঘু তোষণ। বাংলাতেই দেখুন। রাজনীতির একটাই অভিমুখ, মুসলিমরা যাকে ভোট দেবে সরকার তার। এটাই বাম, কংগ্রেস বা দিদির রাজনৈতিক কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম ভোট পাওয়ার রাজনীতি করেছে সকলে। প্রথমবার হিন্দুদের মনে হচ্ছে, আমাদের ভোটেরও গুরুত্ব রয়েছে। সমাজব্যবস্থায় গলদ রয়েছে বলব না, তবে একটা কিছু তো হয়েছেই। আর এগুলিই ব্যবহার করছে বিজেপি। সংখ্যালঘু রাজনীতি অপব্যবহার করেছে এই পার্টিগুলি। এ অস্বীকার করতে পারি না।’

মোদী কেন এত জনপ্রিয়? শুধু মেরুকরণ? ‘না’, এমন সরলীকরণ মানতে নারাজ প্রশান্ত। তাঁর কথায়,’বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া নেই। আর গোটা দেশে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছেন তিনি। ১০ থেকে ১৫ থেকে শতাংশ ভোটার মোদীর মধ্যে ভগবানকে দেখেন। তা ঠিক না ভুল এনিয়ে বিতর্ক হতে পারে। হিন্দিভাষীরা মোদীকে সমর্থন করছেন। আর প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।

মোদী ও মমতা বাংলায় একই রকম জনপ্রিয়। সমীক্ষাও তাই বলেছে। এটা একটা বড় ব্যাপার। এখানে মোদী এজন্যেও জনপ্রিয়,৩৫ বছর ধরে বাংলার মানুষ কখনও বিজেপির সরকার দেখেনি। তাঁরা ভাবছেন, বিজেপি উন্নয়নের জন্য এমন কিছু করেছে, যা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। খানিকটা লাড্ডু খাওয়ার মতো ব্যাপার। এটাও একটা ফ্যাক্টর। বিজেপি লোক আনতে পারছে। মোদীর জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। তার উপরে বিজেপির নির্বাচনী মেশিনারি। তবে এই মূলত এই তিনটেই ইস্যু।’