ভোটে জিতলে পুজো! মানত তৃণমূলের, জেতার পুজো দিয়ে মানত শোধ করলেন কেশিয়াড়ির তৃণমূল কর্মীরা

KGP 24X7: ‘দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলে, এবং কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ মুর্মু পুনঃনির্বাচিত হলে তোমার কাছে দুটি বড় ঘোড়া এবং অন্নভোগ সহকারে পুজো দেবো মা!’ গ্রামের মনসা মন্দিরে এমনই মানত করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের ৬ নম্বর নছিপুর অঞ্চলের পানসগঞ্জ বুথের নেতা কর্মীরা। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হলেও, তৃতীয় বারের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী পরেশ মুর্মুও পুনরায় জিতেছেন। তাই কথা মতো মনসা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রায় সাতশো লোককে অন্নভোগ খাওয়ানো হোল তৃণমূলের উদ্যোগে।

ঘটনার কথা স্বীকার করলেন, কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মু থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বুধবার কেশিয়াড়ির পানসগঞ্জ গ্রামের মনসা মন্দিরে উৎসব সহকারে এলাকার বিধায়ক পরেশ মুর্মুর উপস্থিতিতে পুজো দেওয়া হয় তৃণমূলের উদ্যোগে। পুজো শেষে অন্নভোগ বিতরণ করা হয়।

তৃণমূলের মানত শোধের পুজোর্চনাতে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামনি মান্ডি, ব্লক তৃণমূলের নেতা ফটিক চন্দ্র পাহাড়ি, নছিপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সুতনু মিশ্রি, অঞ্চলের চেয়ারম্যান গোবিন্দ মাইতি সহ একাধিক নেতা কর্মী। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুজোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন, এলাকার বুথ সভাপতি কালীশঙ্কর দাস।

কী কারনে পুজো ও অন্নভোগ বিতরণ? বিধায়ক পরেশ মুর্মু বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গত ২২ বা ২৩ মার্চ আমি নছিপুর অঞ্চলের পানসগঞ্জ গ্রামে গিয়ে ছিলাম। প্রচার শেষে গ্রামের মহিলা, পুরুষ ও আমাদের দলের কর্মীরা আমাকে বললেন, “যদি ‘দিদি’ তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন, আর আপনি যদি বিধায়ক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন, তাহলে আমরা মা মনসার মন্দিরে দুটি বড় ঘোড়া দিয়ে পুজো দেবো মানত করেছি। আপনাকে ওইদিন কিন্তু আসতে হবে। মায়ের মন্দিরে প্রণাম করতে আস্তেই হবে।” আমি কথা দিয়েছিলাম যাবো।

বুধবার গ্রামের মানুষজন মনসা মন্দিরে পুজো দেন। পুজোর পর প্রায় সাতশো জনকে অন্নভোগ খাওয়ানো হয়। সকলের সঙ্গে বসে আমিও নিরামিষ অন্নভোগ খেয়েছি। বিধায়ক বলেন, কিছুক্ষেত্রে দলের কর্মী ও গ্রামের মানুষের আবেগকে মর্যাদা দিতে হয়।’

ব্লক তৃণমূলের নেতা ফটিক চন্দ্র পাহাড়ি বলেন, ‘ওই বুথের সভাপতি কালীশঙ্কর দাসের নেতৃত্বে এই পুজো ও অন্নভোগ খাওয়ানো হয়েছে। আমাকেও ডেকেছিল। আমি গিয়েছিলাম। অংশগ্রহনও করেছি।’

কেশিয়াড়ির পানসগঞ্জ বুথের সভাপতি কালীশঙ্কর দাস বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাদের বিধানসভার প্রার্থী পরেশ মুর্মুর জন্য মানত করেছিলাম। দিদি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এবং পরেশ মুর্মুও ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন।

তাই আমরা মা মনসার পুজো দিয়ে মানত শোধ করলাম। দুটি বড় মাটির ঘোড়া দেওয়ার পাশাপাশি ফুল-ফল দিয়ে পুজো দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলের ১৩টি বুথের নেতা কর্মী ও গ্রামের মানুষকে অন্নভোগ খাওয়ানো হয়েছে।’