Saturday, January 29, 2022
Homeরাজ্যজেলাপৌড়া অষ্টমীতে মাতল রাঢ় বাংলা!
Advertisement

পৌড়া অষ্টমীতে মাতল রাঢ় বাংলা!

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: আজ পৌড়াষ্টমীর ব্রত। বংলার ঘরে ঘরে প্রথম সন্তানের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত পালন। ‘ সংসারেতে বড় হওয়া কঠিন ব্যপার। ‘ সেই বড়দের অর্থাৎ প্রথম সন্তানের মঙ্গল কামনায় দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলাতেই  পালিত হল পৌঢ়াষ্টমী।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

 

প্রথম সন্তান সে ছেলে বা মেয়ে যেই হোক না কেন তার মঙ্গলের জন‍্যেই এই লোকাচার। রাসপূর্ণিমার পরের কৃষ্ণাঅষ্টমী তিথিতে মায়েরা এই ব্রত পালন করেন। রাসের পরের কৃষ্ণাঅষ্টমীতে পালিত হওয়াতে এই ব্রতের নির্দিষ্ট তারিখ থাকে না , রাসের দিন পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ‍্যেই হয় এই লোকাচার। আগের দিনে নিরামিষ  খেয়ে ওই দিন সকাল থেকেই উপবাসের পর স্নান সেরে মায়েরা তুলসী মঞ্চে বা ঠাকুর ঘরে করেন এই ব্রতের আয়োজন।

 

উপকরণ হিসেবে এঁড়েবাছুরের গোবর , আবাটা , গঙ্গাজল , সিঁদুর , গোটা সুপুরী , হরিতকী , চন্দন ,তুলসী , দূর্বা , ফুল , কলাপাতা , মিষ্টি , নৈবেদ্য , ফলমূল ও বিউলীর ( চলিত ভাষায় বীরি কলাই ) ডাল। কলাপাতার উপরে গোবরের ডেলা একটিকে নারায়ন ও অন্যটিকে লক্ষী হিসেবে মনে করা হয়। নারায়ন ডেলাতে চন্দন ও গোটা সুপুরী , লক্ষী ডেলাতে সিঁদুর ও হরীতকী দেওয়া হয়। তুলসী ,  আতপচাল , ফুল – দূর্বা দিয়ে পুজো করা হয় । নানান ধরনের মিষ্টি ও দেওয়া হয়।

 

ধূপ – দীপ , নৈবেদ্য সব শঙ্খ কাঁসর বাজিয়ে পুজো হলেও তেমন কোন মন্ত্র বা ধ্যান নাই। পুজো শেষে বড় সন্তানকে মালা – ঘুনসী পরিয়ে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করেন মা। সামর্থ থাকলে নতুন পোষাকও দেওয়ার রীতি লক্ষ্য করা যায়। পুজোর পরে সন্তানের পছন্দের নানান পদ রান্না করে পরিবেশ করেন। এই ব্রতের পরেই মা বিউলীর ডাল ও মূলো খাওয়া শুরু করেণ। অর্থাৎ এই ব্রতের আগে মা মূলো শাক ও বিউলির ডাল থেকে দূরে থাকেন।

 

গ্রাম্য এই লোকাচার প্রথম সন্তানের মঙ্গলকামনায় হয়ে আসছে ধারাবাহিক ভাবেই। বাংলার এই লোকাচারের মধ্য দিয়ে প্রথম সন্তান একটু বেশী মর্য্যাদা পাক। এই ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে যেই বড় সেইই পুজো পায় , যা সাম্যতাকে প্রতিষ্ঠা করে আসছে যুগযুগ ধরেই। বহুযুগ ধরেইএইপ্রথা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। মায়েরা লক্ষী ও নারায়নের বিশেষ পুজো হয়ে আসছে কোন বিশেষ মন্ত্র ও ধ‍্যাণ ছাড়াই।

 

এঁড়ে গরুর গোবরই এখানে দেব ও দেবী হিসেবে স্থান পায়। নিজ সন্তানের জন‍্য খাদ্য তালিকা থেকে দুটি খাদ‍্যকে সরিয়ে রেখে মা বড় সন্তানকে বিশেষ সম্মান দেওয়ার এই রীতি সংসারে বড়র অধিকার ও কর্ত্তব‍্যকেই সম্মান দেওয়া হয়। উল্লেখ্য এর পরেই গ্রামে কাঁচা রোদ গায়ে মেখে বসে নানান ধরনের বড়ির আসর। বিউলির ডালই বড়ির মখ‍্য উপাদান হওয়ায় পৌড়াষ্টমীর পরের মায়েরা বড়ি তৈরিতে হাত লাগান। আজ আধুনিক বধূরা এই লোকাচারে ততটা আগ্রহী নয় , তার কারণ সময়াভাব , গোবর নিয়ে করতে অনিহা ,জন্মদিনের জমাটি আসরে পার্টিতে মজে যাওয়া , শিশু মৃত‍্যুর হার কমে যাওয়া …।

 

পঞ্জিকায় সেভাবে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা এই লোকাচারকে ব্রাত‍্য করেছেন তাতেও দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই এর ব‍্যপকতা ও বড় সন্তানের জন‍্যে মঙ্গল প্রার্থনায় কোন খামতি নাই। বাংলার এই নিজস্ব সংস্কৃতি বেঁচে থাকুক। টিকে থাকুক বাংলার নিজস্বতায় বাঙালির ঐতিহ্য।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!