পঞ্চমদফা ভোটে প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

খড়গপুর ২৪×৭: নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যে পঞ্চম দফার ভোটের প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৭ তারিখ রাজ্যে পঞ্চম দফার ভোট। পাঁচটি জেলায় ৪৫টি আসনে ভোট। স্বাভাবিকভাবেই প্রচারের সময়কাল ছিল ১৫তারিখ বিকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ থাকবে প্রচার। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশিকা দিয়ে এই সময়সীমাই কমিয়ে আনলো আরও ২৪ ঘণ্টা। অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা আগেই বন্ধ করতে হবে প্রচার কর্মূসচি। পঞ্চম দফার ভোটে ৪৫টি আসনের প্রার্থীরা ১৮তারিখ বিকাল পর্যন্ত প্রচার করতে পারবেন।

চতুর্থ দফার ভোট শেষের পরেই এদিন রাতে জারি করা এই নির্দেশিকা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দাবি, আগামী দফার ভোট সুষ্ঠু ও অবাধে পরিচালনা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত। তবে পরবর্তী দফাতেও প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে আনা হবে কিনা সে সংক্রান্ত কোনও উত্তর মেলেনি কমিশনের তরফে এদিন রাতে। তবে প্রচার পর্বের মাঝেই হঠাৎ করেই এভাবে প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এদিকে কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহার জেলায় কোনও রাজনীতিক ঢুকতে পারবেন না-  শনিবার রাতে এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। চতুর্থ দফার ভোটের সকালে শীতলকুচি বিধানসভা এলাকায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এবং বাকি ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সিআইএসএফ-র গুলিতে। এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে শীতলকুচি বিধানসভার জোড়পাটকি অঞ্চলের বেলতলি গ্রামের ১২৬ নং বুথে। ঘটনায় প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

এদিকে এই ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি শিলিগুড়িতে একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, রবিবার সকালে তিনি মাথাভাঙা হাসপাতালে যাবেন। পরে শীতলকুচির ঐ গ্রামেও যাবেন।

বিকালে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই কমিশনের তরফে তিন পাতার দীর্ঘ নির্দেশিকায় জানানো হয়, কোচবিহার জেলায় নটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটপর্ব এদিন সম্পন্ন হয়েছে। কোনও জাতীয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতা, নেত্রীরা কেউ কোচবিহার জেলার ভৌগলিক সীমান্তে ঢুকতে পারবেন না আগামী ৭২ ঘণ্টা। এই মর্মে এদিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে সিনিয়র অফিসারদের দেখতে হবে গোটা প্রক্রিয়ায় সামলাতে, নজরাদারি রাখতে নিয়োগ করতে যাতে কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা, নেত্রী আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলায় প্রবেশ করতে না পারেন।