করোনা মোকাবিলায় আগামীকাল সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল নির্বাচন কমিশন

খড়গপুর ২৪×৭: করোনা বিধি মানতে শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট করোনা বিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার এবং নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করেছেন। রাজ্যে এবং দেশে দ্বিতীয় দফার করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচার থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত করোনা বিধি মানার জন্য শুধু মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নন, জেলা শাসকদেরও সর্তক করেছে আদালত। প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করতে ব‍‌লেছে হাইকোর্ট। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্রবার বেলা দু’টোয় রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে এই বৈঠক হবে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ ‌আফতাব এই বৈঠকের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আগামী শনিবারই রাজ্য বিধানসভার পঞ্চম দফার নির্বাচন রয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার প্রচারের সময় শেষে হলেও ভোট গ্রহণের সময়ে বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন কীভাবে হবে এবং করোনা বিধিতে যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, তা কীভাবে মেনে চলা হবে তা এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনী সভা-সমাবেশে করোনা বিধি কীভাবে মানা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

এদিকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আধা সরকারি দপ্তর, স্কুল-কলেজের কর্মী সহ বিরাট সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এই ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালট পাননি। রাজ্যে ৮ দফার নির্বাচনে ৪ দফা শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি দফাগুলিতে ভোটকর্মীদের এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের পোস্টাল ব্যালট নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পঞ্চম দফায় আরও আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় ভোট নেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেও এবার থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্যের আগামী ৪ দফার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য পুলিশই কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাশোনা করত। কিন্তু এখন থেকে ভোটের দিনগুলিতে তাদের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে। রাজ্য পুলিশের দুই জন আধিকারিকের পাশাপাশি প্রত্যেক পর্যবেক্ষকের সুরক্ষায় হাফ সেকশন অর্থাৎ চার জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। বুধবার এই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করেছে কমিশন। কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের প্রথম তিন দফার নির্বাচন পর্ব মোটের উপরে শান্তিপূর্ণভাবে মিটলেও চতুর্থ দফায় গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের উপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কমিশন। সেই কারণেই সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আগামী ১৭ এপ্রিল রাজ্যে পঞ্চম দফায় ছয় জেলায় ৪৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হবে। ওই দফায় মোট ১০৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তার মধ্যে ৮৫৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে শুধুমাত্র ভোটের কাজে।

প্রসঙ্গত, পঞ্চম দফায় ৭৯০৪টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ১৫৭৮৯। সেক্টর অফিসের সংখ্যা ৬৯০। প্রতিটি সেক্টর অফিসে এক জন এসআই কিংবা এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ এবং তাঁর সঙ্গে চার জন কনস্টেবল থাকবেন।