Monday, November 29, 2021
Homeরাজ্যফের উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ বন্ধ করল কলকাতা হাইকোর্ট
Advertisement

ফের উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ বন্ধ করল কলকাতা হাইকোর্ট

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: স্বচ্ছতার অভাবে রাজ্যে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ফের বন্ধ করে দিল হাইকোর্ট। আগামী তিন মাস কাউকে নিয়োগ করা যাবে না। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নিয়োগ।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

মঙ্গলবার হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা চালু রাখলেও এখন কাউকে নিয়োগ করা যাবে না।

এদিন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিসন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, যে ১৫ হাজার প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা, তাঁদের সবার মার্কশিট হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।

স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) একটি ডেটাবেস তৈরি করতে হবে। এই ডেটাবেসে জানাতে হবে, প্রার্থী তাঁর পরীক্ষাগত যোগ্যতায় কত নম্বর পেয়েছে এবং ওই সমস্ত প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে কমিশন কত নম্বর বাড়তি যোগ করেছে। এই ডেটাবেস আদালতে জমা দিতে হবে।

এদিকে, কমিশনের বিরুদ্ধে ফের অস্বচ্ছতা এবং বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বহু যোগ্য প্রার্থী ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি। এসএসসি তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে ইন্টারভিউয়ের তালিকা তৈরি করেছে। এসএসসি ইন্টারভিউয়ের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বেআইনি কাজ করেছে এবং যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছেন বহু প্রার্থী।

এঁদের মধ্যে রয়েছেন মনিরাজ ঘোষ, অনিতা দেবনাথ, মৈত্রি বসু, ছোটন সাহা প্রমুখ। মামলার আবেদনকারীদের বক্তব্য, কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের জন্য স্বচ্ছতার সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের তালিকা তৈরি করার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। বহু প্রার্থীর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকী স্নাতক স্তরের প্রাপ্ত নম্বরে কারসাজি করা হয়েছে।

বহু ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে ইন্টারভিউয়ের তালিকায় নাম ঢোকানো হয়েছে। এই দুর্নীতির ফলে যোগ্য প্রার্থীরা অনেকেই ইন্টারভিউয়ে সুযোগ পাননি। এই বেনিয়মের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে ডিভিসন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে।

আদালত খুব স্পষ্ট ভাষায় এদিন বলেছে, ১৫ হাজার প্রার্থীর মার্কশিট তৈরি রাখতে হবে। আদালত প্রয়োজনে মার্কশিট দেখবে। এ ছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীকে কোন ক্ষেত্রে কত নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাঁদের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক স্তরে কত নম্বর পেয়েছেন, তা নিয়েই তৈরি হবে ডেটাবেস। এই ডেটাবেস আদালত দেখবে। এদিন ডিভিসন বেঞ্চ আরও বলেছে, এই সময়ের মধ্যে কোনও প্রার্থী যদি মনে করেন, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর বেশি থাকা সত্ত্বেও তিনি ইন্টারভিউয়ে সুযোগ পাননি, তাহলে তিনি সরাসরি কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে গত জুন মাসে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিল। অবশ্য এই শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ২০১৬ সালে। গত জুন মাসে এসএসসি ইন্টারভিউয়ের যে তালিকা তৈরি করেছিল, তা ছিল এসএসসি’র মনগড়া তালিকা। দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতায় ভরা সেই তালিকা দেখেই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি  অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপর স্থগিতাদেশ জারি করে খুব কড়া ভাষায় এসএসসি’র সমালোচনা করেছিলেন।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এসএসসি’র চেয়ারম্যানকে আদালতে ডেকে পাঠিয়ে তাঁকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, কারা এসএসসি’র আধিকারিক! সেদিন আদালত ভর্ৎসনা করে বলেছিল, এসএসসি’র ইন্টারভিউয়ের তালিকা তৈরির দায়িত্ব কি আদালতকে নিতে হবে? সেই তালিকায় প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ ছিল না। রাজ্য সরকার এবং এসএসসি সেই সময়ে আদালতকে জানিয়েছিল

তারা ভুল সংশোধন করে নতুন তালিকা তৈরি করবে। নতুন তালিকা প্রকাশের পর গত ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির জন্যই ২০২০ সালে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুনভাবে নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। গত ৯ জুলাই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্দেশ দিয়েছিলেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ তালিকায় সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু ইন্টারভিউয়ের নতুন তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও তাতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। ঘুরপথে এসএসসি তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে, এই অভিযোগ আদালতের কাছে জমা পড়েছে। ফলে মঙ্গলবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক পদে নিয়োগ করা যাবে না। আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত দাশগুপ্ত, বিক্রম ব্যানার্জি, ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!