Thursday, September 23, 2021
Homeরাজ্যজেলামেদিনীপুর জুড়ে শক্তির আরাধনায় কালীপূজা চলছে যুগ যুগ ধরে।

মেদিনীপুর জুড়ে শক্তির আরাধনায় কালীপূজা চলছে যুগ যুগ ধরে।

- Advertisement -

ভাস্করব্রত পতি,মেদিনীপুর:- দুই মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে কালী আরাধনায় মেতে ওঠেন মানুষজন। সারা বছর ধরেই চলে নানা ধরনের কালীপূজা। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে কালীপূজার প্রচলন রয়েছে। দেওয়ালীর সময়ে কালীপূজা ছাড়াও মাঘ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে রটন্তী কালী, জৈষ্ঠ্য মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে ফলহারিণী কালী, কার্তিকের রাস পূর্ণিমাতে কৃষ্ণকালী ছাড়াও আদ্যাকালী, জিয়ৎকালী, মহাকালী, শ্মশানকালী, রক্ষাকালী, শ্যামাকালী, নিত্যকালীর পূজার রেওয়াজ আছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের দশগ্রামে কার্তিকী অমাবস্যাতে বহু প্রাচীন কালীপূজা চলে আসছে। মেদিনীপুর শহরের বটতলা চকে অধিষ্ঠীত দেবীর আরাধনা হয় প্রতিদিনই। দাসপুরের বাসুদেবপুরে ১২৪১ বঙ্গাব্দে শুরু হয়েছিল শ্মনানকালীর পূজা। এখনও চলছে। এখানকার জোতকেশব গ্রামের কালীপূজাও ২৫০ বছরের প্রাচীন। চন্দ্রকোণার গাংচা এবং শ্রীরামপুর আটঘরাতে জৈষ্ঠ্যতে ফলহারিণী কালী পূজা শতাধিক বছর ধরে চলছে। ডিঙ্গালতে বৈশাখে রক্ষাকালীর পূজা হয় অনেক বছর ধরে। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন বাগপোতার বৈশাখী রক্ষাকালীর পূজা আজও সমানভাবে চলছে।
তেমনি দীপাবলির সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের দেবী বর্গভীমা মন্দিরে এবং কাঁথির কপালকুণ্ডলা মন্দিরে একটু অন্যরকমভাবে শক্তি আরাধনার রীতিনীতি লক্ষ্য করা যায়। ফলহারিণী কালীপূজা দীর্ঘ ২৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে পাঁশকুড়ার ক্ষীরাই নদীর বুকে কাছাকাছি থাকা দুটি গ্রাম তিনতাউড়ি বেগুনবাড়ি ও গুলিখানা (ফতেচক) তে। হাজারের বেশি ছাগবলী হয়। ধীবর সম্প্রদায়ের পূজা এটি। তমলুকের আস্তাড়া, পাঁশকুড়ার পরমানন্দপুর, এগরার বাথুয়াড়িতে (১৫০ বছর) সমারোহে পূজিতা হন এই কালী। কসবাতে ২৫৯ বছরের বেশি সময় ধরে মুখার্জি পরিবারের পূজা চলছে উত্তরাধিকারীদের উদ্যোগে। তমলুকের কিসমত পুতপুত্যা গ্রামের রক্ষাকালীর পূজা হয় মাঘে। এটিও দেড়শো বছর ছুঁই ছুঁই। নন্দীগ্রামের হানুভুঁঞাতে এবং পূর্ব দক্ষিণ ময়নাতে শতাধিক বছরের প্রাচীন কালীপূজা চলে আসছে। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ভগবানপুরের বিভীষণপুরের চক্রবর্তী পরিবারের দক্ষিণাকালীর পূজা চলে আসছে এই দীপান্বিতা অমাবস্যায়। এছাড়া এখানকার জরারনগর, ভগবানপুর থানা সদর, সাদুল্ল্যাচক, ইছাপুর এবং ধালুয়াতেও দেবী কালীর পূজা ভক্তি সহকারে হচ্ছে।পটাশপুরের পালপাড়া, প্রতাপদিঘী, বারুইপুর, বড়হাট, সদতপুর, গোপালপুর, খড়ুই কোটবাড়, মুস্তাফাপুর, গোসাড়া, মহিষাদলের সন্দলপুর, ঠাঠারিবাড়, তমলুকের বল্লুক, সাবলআড়া, নারায়ণদাঁড়িতেও দেবী কালীর পূজা জাঁকজমকপূর্ণভাবেই আয়োজিত হয়। শ্যামাকালী হোলো বরাভয়দায়িনী। আর অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, মহামারী, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষের থেকে রেহাই পেতে রক্ষাকালী, এবং সংহারমূর্তিতে শ্মশানকালী। তাই মানুষজন যুগ যুগ ধরে শক্তির আরাধনায় দেবী কালীর পূজায় মজে রয়েছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!