Sunday, September 19, 2021
Homeজেলাদার্জিলিংকাঠ পাচার রুখতে গিয়ে খণ্ডযুদ্ধ বনকর্মীদের সাথে কাঠ মাফিয়াদের, চলল গুলি

কাঠ পাচার রুখতে গিয়ে খণ্ডযুদ্ধ বনকর্মীদের সাথে কাঠ মাফিয়াদের, চলল গুলি

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বাংলাদেশে গোরু পাচারের আদলে এবার নদী পথে কাঠ পাচার ডুয়ার্সে। চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল শুক্রবার রাতে বনদপ্তর এর কাঠ পাচার বিরোধী অভিযানে।

কাঠ পাচার রুখতে গিয়ে খণ্ডযুদ্ধ বনকর্মীদের সাথে কাঠ মাফিয়াদের, চলল গুলি। বাজেয়াপ্ত লক্ষাধিক টাকা মূল্যের শালকাঠ।

- Advertisement -

শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ ডুয়ার্সের মরাঘাট রেঞ্জের অন্তর্গত সোনাখালি জঙ্গলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডুডুয়া নদী দিয়ে পাচার করা হচ্ছিলো বহুমূল্য চোরাই কাঠ। রীতিমতো নদীতে বড় বড় শাল গাছের লগের নিচে লরির চাকার টিউব লাগিয়ে তার সাহায্যে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই মূল্যবান কাঠ গুলি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ১.৩০ মিনিট নাগাদ অভিযান চালায় মরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মী এবং সোনাখালি বিটের বনকর্মীরা মরাঘাটের এসিএফ বিপাশা পারুল এবং রেঞ্জার রাজকুমার পালের নেতৃত্বে।

অভিযোগ বনকর্মীরা বাধা দিতে গেলে কাঠ মাফিয়া পাল্টা হামলা চালায় বন কর্মীদের দিকে।  এরপরে বেধে যায় খণ্ডযুদ্ধ কাঠ মাফিয়াদের সাথে বনকর্মীদের। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বনকর্মীরা। তবে গুলিতে কেউ আহত হননি, গুলির শব্দে পালিয়ে যায কাঠ মাফিয়ারা। সেই সময় ধূপগুড়ি সোনাখালি জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে ধূপগুড়ি থানার পুলিশের একটি ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। গুলির শব্দে ডিউটিরত পুলিশ নদীর পাড়ে ছুটে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান বনকর্মীরা চোরাই কাঠের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুলি চালিয়েছে।এরপর ধূপগুড়ি থানা পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে বনকর্মীদের দেখে।

রাত হয়ে যাওয়ায় কোন কাঠ মাফিয়াদের ধরতে পারেনি বনকর্মীরা। এবং নদীতে পড়ে থাকা কাঠ গুলিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে

বনকর্মীদের থেকে মাফিয়াদের সংখ্যা ছিলো কয়েকগুণ বেশি। উদ্ধার করা হয় মূল্যবান কাঠের লগ,ও কাঠ পাচারের বিভিন্ন সরঞ্জাম। এই ঘটনায জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বনদপ্তর।

এত দিন সড়কপথে কাঠ পাচার করে থাকত তাই রাস্তায় কড়া নজরদারি বাড়িয়েছে বনদপ্তর এর কর্মীরা। বর্ষাকাল তাই নদীতে জল বেড়েছে আর  সেই সুযোগে গাড়ির বড় বড় টিউব গাছের সাথে বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকছে কাঠ মাফিয়াদের একটি গ্রুপ যখন এই কাঠগুলি নদীর জলে ভেসে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিরাপদ জায়গায় জায়গায় পৌঁছয় তারপর দড়ির সাহায্যে সেগুলিকে টেনে তুলে নেওয়া হয়।  তবে শনিবার ভোররাতে কাঠ পাচারকারীদের সেই উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়নি বনকর্মীরা। কম সংখ্যক বন কর্মী নিয়ে সেই কাঠ পাচার রুখে দিয়েছে তারা।

মরাঘাট রেঞ্জের এসিএফ বিপাশা পারুল বলেন,  রাত ১.৪০ মিনিট নাগাদ বনদপ্তর কর্মীদের কাছে খবর আসে সোনাখালি জঙ্গল লাগোয়া নদীতে কিছু মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে অভিযানে যান সোনাখালি বিটের  বনকর্মীরা। তারা দেখতে পান নদী দিয়ে গাছ পাচার করা হচ্ছে। বনকর্মীরা বাধা দিতে গেলে কাঠ মাফিয়ারা হামলা চালায়  আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বনকর্মীরা। এরপর তারা পালিয়ে যায়। তবে কেউ আহত হয়নি, লক্ষাধিক টাকার চোরাই কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।

জলপাইগুড়ি অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরি বলেন, বাংলাদেশের যেভাবে নদী পথে গোরু পাচার হয়ে থাকে। নদীতে গোরু ভাসিয়ে পাচার করা হয়, ঠিক একই পদ্ধতিতে এখন ডুয়ার্সে ও কাঠ পাচার শুরু হয়েছে শুক্রবার রাতে বনদপ্তর এর অভিযানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তবে বনদপ্তর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাঠ পাচার রোধে। এমনকি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযানকারী দলের সদস্য সোনালি বিট আধিকারিক সহদেব ওরাও  বলেন, গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছিলো আমরা অভিযান চালাতে গেলে কাঠ পাচার কারিরা আমাদের উপরে হামলা চালায়।খণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়, আমরা পাল্টা শূন্যে গুলি চালাই। প্রচুর কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!