প্রশাসনের গাফিলতিতে,হাওড়ায় ৮ ঘণ্টা ধরে করোনা মৃতের দেহ পড়ে রইল বাড়িতে

খড়গপুর ২৪×৭: দীর্ঘ আট ঘন্টা করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃতদেহ বাড়িতে পড়ে থাকার পরে হাওড়া পৌরসভার শবদেহবাহী গাডি গিয়ে মৃতদেহ শিবপুর শ্মশানে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁটরা থানার অন্তর্গত কালিপ্রসাদ চক্রবর্তী লেনে।

পেশায় ব‍্যবসায়ী ৫৩ বছর বয়সি হারাধন ভট্টাচার্য স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূকে নিয়ে কালিপ্রসাদ চক্রবর্তী লেনে বসবাস করতেন। পরিবার সূত্রে জানা যায় বেশ কয়েকদিন ধরে হারাধন ভট্টাচার্য সর্দি, কাশি , জ্বরে ভুগছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে না কমায় গত মঙ্গলবার কোভিড পরীক্ষা করেন। পরেরদিন বুধবার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন হারাধন ভট্টাচার্য করোনায় আক্রান্ত। বাড়িতে থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল।

গত শনিবার হারাধন ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওযায় পরিবারের সদস্যরা হাওড়ার একটি বেসরকারি হসপিটালে ভর্তি করেন। ঐদিন রাতেই সুস্থ অনুভব করায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় হারাধন ভট্টাচার্যকে। পরেরদিন রবিবার সকাল আটটা নাগাদ বাড়িতে মারা যান করোনায় আক্রান্ত হারাধন ভট্টাচার্য। এর পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানা, হাওড়া পৌরসভা ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয় এবং তাড়াতাড়ি শেষকৃত্যর ব‍্যবস্থা করার জন‍্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।

দীর্ঘ সময় চলে যাবার পরে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন হেল্প লাইনে ফোন করলেও কোনও সাহায্য পাননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই পাড়া প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।  মৃতদেহ গরমে দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকার ফলে মৃতদেহে পচন ধরলে এলাকায় এলাকায় সংক্রমিত হবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে বাড়ির সামনে পৌঁছান এলাকার বামপন্থী কর্মীরা। মূলত তাদের চেষ্টায় বিকাল চার টায় হাওড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে কয়েকজন লোককে পাঠিয়ে মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে সৎকারের ব‍্যবস্থা করে।

মৃত হারাধন ভট্টাচার্যের পরিবারের অভিযোগ সকাল থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে জানালেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে যা জানানো হয় তা কার্যত মানুষকে বোকা বানানো ছাড়া আর কিছু নয়। সকাল থেকেই ফোন করলে এখুনি পৌরসভা থেকে লোক যাবে বলে জানানো হয়। অবশেষে আট ঘন্টা পরে পৌরসভার লোক আসে।