জলপাইগুড়িতে আত্মঘাতী বিএসএনএল’র কর্মী

খড়গপুর ২৪×৭: আবারো কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হল চল্লিশঊর্ধ্ব একটি তরতাজা প্রাণ। ঘটনা জলপাইগুড়ি শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎপল্লি এলাকার।

উক্ত এলাকার বাসিন্দা পঙ্কজ কর্মকার বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে বিএসএনএল’র জলপাইগুড়ি অফিসে চুক্তি ভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তবে গত ৯ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও বছর ১০এর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে চলা ক্রমেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভাবে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

সোমবার সকালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকায় বরাবরই ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত পঙ্কজ কর্মকার।

বিভিন্ন উপায়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে বিএসএনএলের মতন ঐতিহ্য বাহী সংস্থাকে বেসরকারিকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের সঠিক সময়ে বেতন না দেওয়া, ঠিকা কর্মীদের দীর্ঘদিন বেতন না দেওয়া, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না করা, এমন নানা অভিসন্ধির মধ‍্যদিয়ে বিএসএনএলকে বেসরকারি জিম্মায় তুলে দেওয়ার ফন্দিফিকির চলছে। এর বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিদাওয়া ও বিএসএনএলকে রক্ষা করার দাবি তুলে একাধিক বিক্ষোভ সভা হয়েছে রাজ‍্যজুড়ে।

চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের বেতন দীর্ঘ সময় বকেয়া থাকছে, পাশাপাশি অবসর নিতে বাধ‍্যকরা, কর্মী ছাঁটাই এমন নানা চক্রান্তের মধ‍্যদিয়ে বিএসএনএলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। ঐতিহ্যবাহী এই সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর রুটি রুজি। বিএসএনএলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া মানে হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজিকে ধ্বংস করা। সেই জনবিরোধী কাজ করে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার শিকার হলেন জলপাইগুড়ি অফিসে কর্মরত বিএসএনএল’র চুক্তি ভিত্তিক কর্মী। অভিযোগ দীর্ঘ ৯ মাস বেতন না পাওয়ায় দেনাগ্রস্ত হয়ে এদিন আত্মঘাতী হন তিনি।