মানুষ আজ তৃণমূল-বিজেপিকে বিশ্বাস ভরসা করতে পারছেন না জনসভায় মন্তব্য মহম্মদ সেলিমের

খড়গপুর ২৪×৭: মানুষ  যখন শোষিত হয় অত্যাচারিত হয় বঞ্চনার শিকার হয় তখন তাদের ঐক্য হয় প্রতিবাদ প্রতিরোধের জন্য। শাসক তখন মানুষের ঐক্যকে ভাঙার জন্য প্রতিবাদকে স্তব্ধ করার জন্য দমাবার জন্য বিভেদ সৃষ্টি করে বিভাজন করে।

এই বিভেদ বিভাজন করে জাতের নামে সম্প্রদায়ের নামে ধর্মের নামে। বিজেপি  আজ দেশজুড়ে সেই ভয়ানক বিভেদের নীতি নিয়ে চলছে। এই অশুভ প্রয়াসকে রুখতেই হবে। এই কাজের জন্য আমরা বামপন্থীরা কংগ্রেস আইএসএফ জোট করেছি। এই কথাগুলি  উল্লেখ করলেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম মঙ্গলবার ডুয়ার্সের চা বলয়ের বানার হাট তরুণ সঙ্ঘ ময়দানে এক নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চার সিপিআই(এম) প্রার্থী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার রায় এবং নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের  কংগ্রেস  প্রার্থী সুখবীর সুব্বার সমর্থনে এই সভা হয়।

সেলিম বলেন এক সময় তৃণমূল এবং বিজেপি বলেছিল লাল শেষ। লাল কি শেষ  হয়েছে। দেশ জুড়ে শ্রমিকের আন্দোলন কৃষকের আন্দোলন  কর্মচারীদের শিক্ষকদের বেকার যুবকের কাজের শিক্ষার দাবিতে সব আন্দোলন আজ হচ্ছে লাল পতাকা নিয়ে। তৃণমূল বিজেপি এই দুই দল আজ আতঙ্কিত হয়ে পডেছে। তিনি বলেন একজন ৫৬ ইঞ্চির ছাতি ফুলিয়ে কত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আরেকজন এখন খেলার কথা বলছেন। আসলে এরা বুঝে গেছে মানুষ আজ এদের কাউকে বিশ্বাস ভরসা করতে পারছে না। শ্রমিক কৃষক ছাত্র যুব সকলেই আজ এদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। তাই এরা ভয় পেয়ে নানা ধরনের মিথ্যা কথা কুকীর্তি  করে বেরাচ্ছে। সেলিম আরও বলেন মোদী দিদির একই কাজ, চা বাগান থেকে শুরু করে সব কারখানা বন্ধ করে মালিকের সুবিধা করে দেওয়া।

এই দুজনের কাজ শুধু তালা দেওয়া। বন্ধ কারখানার তালা খোলা চালু করা উদ্বোধন করা এদের হাতে নেই। সেই কারণে এবারের নির্বাচনে সব হিসাব বুঝে নিতে মানুষ প্রস্তুত হয়েছেন। এই নির্বাচন শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব সহ সাধারণ মানুষের হক আদায়ের নির্বাচন। এবার সংযুক্ত মোর্চার সরকার  হবে। এদিনের এই সভা পরিচালনা করেন চা শ্রমিক নেতা পিন্টু বরাইক। দুই কেন্দ্রের দুই প্রার্থী সহ অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক  জিয়াউল আলম কংগ্রেস নেতা মুনিকুমার ডার্নাল চা শ্রমিক নেতা তিলক ছেত্রী,  অজয় মাহালি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ভুটান সীমান্তের চামুর্চি চা বাগান বনবস্তি  থেকে শুরু করে নিউ ডুয়ার্স রিয়াবাড়ি কলাবাড়ি  মোগল কাটা  গ্যান্দ্রাপাড়া সহ বন্ধ চা বাগান রেড ব্যাঙ্ক সুরেন্দ্র নগর থেকেও চা শ্রমিকরা সভায় আসেন। সভা শেষে  সাংবাদিক দের প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন মমতা রাহুলকে নির্বাচনের প্রচারে সাময়িক বিরতি দিলে হবেনা। এদের সাথে দিলীপ ঘোষ সায়ন্তন বসু এমন কি নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহদের মুখ বন্ধ করা দরকার। তিনি অভিযোগ করেন নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করছেনা।