আসানসোলের জামুড়িয়ায় ঐশীর সভায় হামলা, অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে

খড়গপুর ২৪×৭: তৃণমূল মাঠ ছেড়ে দিচ্ছে। সেই জমিতেই উগ্র আগ্রাসন আরএসএস-বিজেপি’র। সাক্ষী থাকল জামুড়িয়া। মঙ্গলবার রাতে জামুড়িয়ায় সংযুক্ত মোর্চার সভাতেই গেরুয়া পতাকা নিয়ে হামলা চালালো বিজেপি’র দুষ্কৃতীবাহিনী। হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল জামুড়িয়ার সংযুক্ত মোর্চার সিপিআই(এম) প্রার্থী ঐশী ঘোষ। যদিও সভা চলাকালীন বিজেপি বাহিনী লাগাতার প্ররোচনা দিলেও একজন মানুষও সভাস্থল ছেড়ে সরেননি।

শেষ পর্যন্ত সরতে হয়েছে হামলাকারীদেরই। গত জানুয়ারি মাসে দিল্লির জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি আরএসএস বিজেপি’র সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েও যাকে দমাতে পারেনি, সেই ঐশী ঘোষ ছিলেন এদিনের হামলাকারীদের লক্ষ্য। দিল্লিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল ঐশী ঘোষের। এদিনও ঐশী ঘোষ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, আমরা ভয় পাই না। এদের মোকাবিলা করা হবে। সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি বলেন, ওরা লাগাতার প্ররোচনা দিয়েছিল সভা চলাকালীন।

কিন্তু তবুও লক্ষ্য পূরণ হয়নি, গন্ডগোল পাকাতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাকেও ধিক্কার জানাচ্ছি। তবে জামুড়িয়া কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী ঐশী ঘোষ অবশ্য জিতছেন। সাথে পশ্চিম বর্ধমানের সর্বত্র সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের জয়ী করে তৃণমূল আর গেরুয়াদের এই অভব্যতার জবাব দেবেন পশ্চিম বর্ধমানের মানুষজন। মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমতি নিয়ে সভা হচ্ছিল ইসিএল’র বন্ধ খনি নিউ সাতগ্রাম কোলিয়ারির শ্রমিক আবাসন এলাকায়। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সভা শুরু হয়। খনি আবাসনের শ্রমিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।

সভা চত্বরে নির্বাচন কমিশনের এমসিসি দলের দুইজন সদস্য রয়েছেন। দুইজন কনস্টেবল সহ এক পুলিশ আধিকারিকও রয়েছেন। কংগ্রেস নেতা গোপাল দত্ত, সিপিআই নেতা গোপাল ওঝা বক্তব্য রেখেছেন। তখন বলছিলেন সিপিআই (এম) জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি। মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে পরপর পাঁচবার কয়লা শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছেন। ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্যে রয়েছেন কয়লাঞ্চলের মানুষ— বক্তৃতায় তিনি তখন তুলে আনছেন সেই সংগ্রামের কথা। গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জির বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ একদল চড়াও হয় সভাস্থলের সামনের দিকে। সংখ্যায় তারা ২০/২৫ জন। তাদের কাঁধে বিজেপি’র দলীয় পতাকা। হাতে মোটা মোটা লাঠি।

জয় শ্রীরাম হুঙ্কার। এবং ঐশী ঘোষের নাম ধরে হুঁশিয়ারি। পুলিশ নীরব দর্শক। নীরব দর্শক এমসিসি’র প্রতিনিধিদল। নেতৃবৃন্দ সভাকে সংযত রাখেন। সভায় উপস্থিত মানুষের সংযম ও সাহস ছিল দেখার মতন। হামলাকারীরা লাঠি পেটা করে একটা সাউন্ড বক্স ভেঙেছে। শেষমেশ মানুষের প্রতিরোধের মেজাজ দেখে বিজেপি বাহিনী পিছু হটে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার দ্বিতীয় দফায় জয় শ্রীরাম হুঙ্কার ধ্বনি সহ হামলাকারীরা চড়াও হয় সভার পিছন দিক থেকে। এবারও সভায় উপস্থিত মানুষ প্ররোচনায় পা না দিয়ে সংযত ছিলেন। ছিলেন প্রতিরোধের মেজাজেও।

বিজেপি বাহিনীকে এক কদম এগোতে দেননি। উপস্থিত সংযুক্ত মোর্চার কর্মীরা প্রত্যেকে দলীয় পতাকার সঙ্গে লাগানো ডান্ডাগুলিকে শক্ত হাতে ধরে ছিলেন। হামলাকারীদের হুঁশিয়ারি ছিল লাল ঝান্ডার সভা করতে দেব না। সাম্প্রদায়িক বিজেপি বাহিনীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে সভা হলো। বক্তব্যও রাখলেন প্রার্থী ঐশী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল বিজেপি’কে রুখবে না। তৃণমূল হচ্ছে সম্ভাব্য বিজেপি। তৃণমূলই বিজেপি’কে এই রাজ্যে এনেছে। নির্বাচনে বিজেপি’র সাপ্লাই লাইনও হচ্ছে তৃণমূল। বিজেপি ও তৃণমূলকে রুখবে সংযুক্ত মোর্চা। ওরা ভয় পেয়েছে। তাই আমাদের সভা পণ্ড করতে চায়।

সভায় চড়াও হয়’। বিজেপি’র হামলাকারীরা প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে টানা অসভ্যতামি করে যায়। বিজেপি’র হামলা হুমকির পরও সভা চলেছে রাত ৯টা পর্যন্ত। একজন মানুষও নড়েননি সভা থেকে। জামুড়িয়া সহ সমগ্র কয়লাঞ্চলে বিজেপি বাহিনীর হামলাবাজির ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। বুধবার জামুড়িয়া বাজারে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। পার্টিনেতা গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি বিজেপি বাহিনীর হামলাবাজির বিরুদ্ধে জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, রিটার্নিং অফিসার সহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দপ্তরে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবাদ জানান।

জামুড়িয়া কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী ঐশী ঘোষের ইলেকশন এজেন্ট তাপস কবি থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে এমসিসি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। চাপের মুখে মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ তিনজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঐশী ঘোষ বলেছেন, বিজেপি একটি ফ্যাসিস্ত শক্তি। ফ্যাসিস্তরা গণতন্ত্র মানে না।

নিউ সাতগ্রাম এলাকার পাশে ইসিএল’র মডার্ন সাতগ্রাম কোলিয়ারি, শিবডাঙা কোলিয়ারিতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই খনিগুলিও রয়েছে বন্ধের তালিকায়। বিজেপি সরকার খনি বন্ধ করছে। কয়লা শিল্পের বেসরকারিকরণ করছে। তৃণমূল বিজেপি’র সমস্ত জনবিরোধী নীতির সমর্থক। কয়লাঞ্চল জামুড়িয়ার মাটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের জন্য ভোট নেই।