Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরPujo Special : ভোর পাঁচটায় ঢাক বাজিয়ে আজও দুর্গার ঘুম ভাঙানো হয়,খড়গপুরের...

Pujo Special : ভোর পাঁচটায় ঢাক বাজিয়ে আজও দুর্গার ঘুম ভাঙানো হয়,খড়গপুরের মিত্র পরিবারে

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: সেই জমিদারি নেই। আগের মত ব্যবসা বাণিজ্যও নেই। কিন্তু পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এখনও বজায় রয়েছে খড়গপুর শহরের খড়িদা বাজার এলাকার মিত্র পরিবারের। যদিও করোনার গেরোয় কিছু কাটছাঁট করতে হয়েছে।

কিন্তু নিয়ম নিষ্ঠায় কোনো প্রভাব পড়ে নি। এই পরিবারের পুজো কবে থেকে শুরু হয়েছে সেটি এখন আর কেউ মনে করতে পারেন না। তবে বর্তমানে যে মাতৃমন্ডপে দুর্গা দালানে পুজো হচ্ছে সেটি শুরু হয় ১৯৩৪ সালে। দেখতে দেখতে ৮৮ বছরে পা দিয়ে দিল এই মিত্র জমিদার পরিবারের দুর্গা পূজা।

- Advertisement -

একেবারে শুরুতে এই পুজো হত বর্তমান দুর্গা দালান লাগোয়া ধানের গোলায়। সেইসময় শুরু হয়েছিল ঘট পুজো দিয়ে। শুরু হয়েছিল সন্তোষ কুমার মিত্র ও যোগেন্দ্র নারায়ণ মিত্রের হাত ধরে। পরে ঘট পুজো বদলে শুরু হয় মাটির প্রতিমার পুজো। পরবর্তীকালে একচালার কাঠামোতে পুজো শুরু হয় এই মাতৃমন্ডপে দুর্গা দালানে। সালটা ১৯৩৪।

তারপর থেকে এই একচালাতেই মহামায়ার আরাধনা শুরু হয়। যা এখনও চলে আসছে। সেই বছর ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের জঙ্গল থেকে আনা হয়েছিল শিশুকাঠ। সেই শিশুকাঠ দিয়ে তৈরি করা একচালার কাঠামোতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে আজও এই পুজা হয়ে আসছে। এই ব্যাপারে এই জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি স্বপন কুমার মিত্র জানালেন এই একচালার কাঠামোতে কোনও পেরেক বা স্ক্র ব্যবহার করা হয়নি।

কাঠের গজাল মেরে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই পরিবারের পুজোতে অষ্টমীর দিন সন্ধীপুজোতে ১০৮টি গোলাপী পদ্ম দিয়ে পুজো করা হয়। এইদিন পরিবারের সকলে নিরামিষ খান। কিন্তু নবমীর দিন পুরনো প্রথা মেনে খাসীর মাংস খাওয়া হয়। এছাড়া এই পুজোর বিসর্জনের একটি পুরনো প্রথা আজও বজায় রয়েছে। দশমীর দুপুরে দালান থেকে সদরে প্রতিমাকে বের করে আনা হয়।

তারপর সিঁদুর খেলা সহ অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান শেষে বিকালে আদিবাসীদের কাঁধে চাপিয়ে খড়গপুর শহরের একাংশ পরিক্রমা করিয়ে খড়িদা মন্দিরতলা পুকুরে ভাসান দেওয়া হয়। এই শহরের আট নম্বর ওয়ার্ডের লালডেঙ্গা এলাকা থেকে ৫০ জনের আদিবাসীদের একটি দল এই পরিক্রমা করানোর জন্য দশমীর সকালে মিত্র বাড়িতে হাজির হয়ে যান।

গত বছর করোনা বিধিনিষেধের কোপে এই শহর পরিক্রমা হয় নি। তবে এবারে গোটা বিষয়টি পুলিশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে জানালেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বপন কুমার মিত্র। তিনি জানিয়েছেন এবারেও আদালতের নির্দেশ মেনে বাইরের মানুষের পুজো নেওয়া ও পুষ্পাঞ্জলি বন্ধ রাখা হবে। আর প্রতিমা কাঁধেনিয়ে আদিবাসীদের শহর পরিক্রমা পুলিশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

পুলিশ অনুমতি দিলে হবে। তা না হলে এবারেও এই শহর পরিক্রমা বন্ধ রাখা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন আগে নহবত বসত। এখন শিল্পীর অভাবে এই নহবত আর বসে না। তবে ষষ্ঠীর দিন থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত ভোর পাঁচটায় ঢাক বাজিয়ে মায়ের ঘুম ভাঙ্গানোর প্রথা আজও বজায় রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে খড়িদা বাজার এলাকার এই জমিদার পরিবারের পুজো এখনও ঐতিহ্যে ও সংস্কৃতিতে এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!