Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরপ্রতিবেশী জামাইকে ডাইনি অপবাদে হেনস্থা! প্রতিবাদ করার জের খুন বৃদ্ধ,খড়গপুরে তীব্র চাঞ্চল্য

প্রতিবেশী জামাইকে ডাইনি অপবাদে হেনস্থা! প্রতিবাদ করার জের খুন বৃদ্ধ,খড়গপুরে তীব্র চাঞ্চল্য

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: সন্ধ্যাবেলায় পাটা থেকে মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খুন হয়ে গেলেন এক আদিবাসী বৃদ্ধ। আর এই আদিবাসী বৃদ্ধের খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার খড়গপুর দুই নম্বর ব্লকের পলশা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উত্তর জগতপুর গ্ৰামে।

পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম দুর্গাপদ টুডু(৭২)। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতরা হলো রবীন সোরেন, সঞ্জয় মান্ডি ও গোবিন্দ মান্ডি। এঁদের প্রত্যেকের বাড়ি উত্তর জগতপুর গ্ৰামে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার খড়গপুর এসিজেএম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের নির্দেশে তিনজনের পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

- Advertisement -

মৃত বৃদ্ধের ছোটো ছেলে পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক বিনয় টুডু বৃহস্পতিবার সকালে মোট বারোজনের বিরুদ্ধে বাবাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধৃত ও পলাতকদের বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা দায়ের করেছে। এই ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন বৃদ্ধকে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্ৰাম্য বিবাদের জেরে এই খুন হয়েছে। তবে ঠিক কি ধরনের গ্ৰাম্য বিবাদ সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” অপরদিকে মৃতের মেজ ছেলে অবিনাশ টুডু বলেছেন ” কয়েক মাস আগে গ্ৰামের একটি পরিবারের জামাইকে ডাইন সন্দেহ করে গ্ৰামছাড়া করা হয়। আমরা তার প্রতিবাদ করেছিলাম। বাবাকে খুন করা ওই ঘটনার জের বলে মনে করছি।” জানা গিয়েছে ধৃত রবীন সোরেন বৃহস্পতিবার খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

পাশাপাশি জেরায় তিনি খুন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে বাকি দুজনকে বুধবার রাতে ঘটনার পরেই আটক করে পুলিশ। আর বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর গ্ৰেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে বুধবার সন্ধ্যাবেলায় উত্তর জগতপুর গ্ৰামের প্রবীণ আদিবাসী দুর্গাপদ টুডু পাটা থেকে মাছ আনতে যান। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ছিলেন।

কিন্তু দেরি হচ্ছে দেখে তিনি স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তাঁর বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে সেজ ছেলে দীনেশ টুডু বাবার খোঁজে বেরোন। কিছু দূর যাওয়ার পর তাঁর নজরে পড়ে রাস্তায় চাপ চাপ রক্ত। আর বাবার সাইকেলটি একধারে পড়ে থাকতে দেখেন। তখনই তিনি বাড়ি ছুটে যান। খবর পেয়ে বাড়ির সকলে ছুটে আসেন।

তখন বৃদ্ধের মেজ ছেলে অবিনাশ টুডু ওই রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করে এগোতে শুরু করেন। প্রথম জমিতে হাঁড়ি নজরে পড়ে। তারপর একটু এগোতেই জল ভর্তি জমিতে তাঁর নজরে পড়ে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বাবার নিথর দেহটি উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। খবর জানাজানি হওয়ার পর গ্ৰামে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পৌঁছে যায় খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার ওসি আসিফ সানি ও খড়গপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপক সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

পৌঁছে যান তৃণমূলের পলশা অঞ্চলের সভাপতি মানস রায়। তারপর পুলিশ জলাজমি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে গ্ৰামের ক্ষুব্ধ মানুষজন বাধা দেন। তাঁরা দাবি করেন খুনীদের ধরতে হবে। আর পুলিশ কুকুর আনতে হবে। এই দাবি মেনে পুলিশ কুকুর আনা হয়। কুকুরটি বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের বাড়ি যায়। তারসাথে এই কুকুর শ্যালো পাম্পের কাছে রাখা একটি শাবল উদ্ধারে সাহায্য করে।

জানা গিয়েছে মাস কয়েক আগে এই গ্ৰামে একটি পরিবারের জামাইকে ডাইন সন্দেহ করা হয়। তারপর মোড়লের নির্দেশে তাঁকে গ্ৰামছাড়া করা হয়। আর এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন এই টুডু পরিবারের সদস্যরা। তখন এই টুডু পরিবার হামলার শিকার হয়। সেই নিয়ে থানা পুলিশ মামলা মোকদ্দমা হয়। গ্ৰামের সকলের ধারনা এই বিবাদের জেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!