Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরপুজোর আনন্দ ফিকে,পিংলা এলাকার বন্যা বিধ্বস্তদের

পুজোর আনন্দ ফিকে,পিংলা এলাকার বন্যা বিধ্বস্তদের

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: ইতিমধ্যেই পাড়ার পুজোর প্যান্ডেল গুলিতে ঠুকঠাক বাঁশের আওয়াজ! কারিগরদের ভীষণ রকম ব্যস্ততা। প্যান্ডেলে চলছে একে অপরকে টেক্কা দিতে শেষ মুহূর্তের শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলার কাজ।

কানে বেজে উঠছে নানান সুর৷ শরতের নীল সাদা মনমুগ্ধ আকাশ, সকালের শিউলি ফুল ও তার সাথে মিষ্টি মধুর গন্ধে আকাশ বাতাস মাতিয়ে দিচ্ছে চারিদিক৷

- Advertisement -

জগত জননী উমা ঘরে ফিরলেও, বন্যায় ঘর বাড়ি হারিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানার অন্তর্গত পশ্চিমচক এলাকার বহু পরিবার এখনও ফিরতে পারলো না ঘরে!

মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে গত কয়েক মাসেই চার বার জলমগ্ন হয় এলাকা। মাঠ, ঘাট, বসতবাটি, কৃষি জমির ফসল চলে যায় একেবারে জলের তলায়। শেষে মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই নিতে সামান্য উচু ময়না- পিংলা যাওয়ার পিচ রাস্তার ধারে অসহায় বাসিন্দারা আশ্রয় নেয় অস্থায়ী তাবু খাটিয়ে। এই ভাবেই চলতে থাকে তাঁদের দিন গুজরান!

এরপর দুর্যোগ কাটলে, একটু একটু করে নেমেছে জল। সোনালী রোদে আস্তে আস্তে উঁকি দিয়ে ফুটে উঠছে গ্রামের নষ্ট হয়ে যাওয়া আকাবাঁকা রাস্তা, মাঠ, ফসলের জমি। বাসিন্দারা জরাজীর্ণ বাড়ি গুলি মেরামতিতে হাত লাগিয়েছেন জোর কদমে। সামনেই যে দুগ্গা পুজো, এই ভাবে কি আর বেঁচে থাকা যায়! তাই কেউ কেউ ফিরে গেছেন বাড়িতে।

কিন্তু এখনও বেশ কিছু এলাকা জল ও কাদা জমে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায়, নিরুপায় হয়েই কার্যত চরম দুশ্চিন্তা নিয়ে পিচ রাস্তার ধারে রাত কাটাচ্ছেন প্রায় ১৪ টি পরিবার। তাদের কাছে এবারের দুর্গা পুজো যেনো বড়ই বেমানান!

অস্থায়ী ছাউনিতে দিন গুজরান করা এক বছর ষাটোর্ধ্ব ব্যাক্তি পূর্ন চন্দ্র জানা বলেন, “এ বছর প্রকৃতির খাম-খেয়ালীপনায় বার বার প্লাবিত হয়েছে এলাকা। জমি, বাড়ি, ভিটেমাটি হারিয়ে ভাগ্য টেনে নিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খুব কষ্টের সাথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যান চলাচল রাস্তার পাশে বিপদ মাথায় নিয়ে এক একটা রাত কাটছে।

সরকারি ভাবে সেইরকম একটা সাহায্য না পেলেও রাজনৈতিক দলের তরফে একটি ট্রিপল ও কয়েক বার শুকনো খাবার পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটা সেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফেও কিছু চাল, ডাল ও শুকনো খাবার সাহায্য পাওয়া গিয়েছে। কোনোরকম ভাবে আধপেট খেয়েই ছোট্ট ছোট্ট নাতি, পুতিদের নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছে।”

এবারের দুর্গা পুজোয় নতুন জামা কাপড় ও তাদের পুজোর দিন গুলি কেমন কাটবে? সেই প্রসঙ্গে পৌঢ় জানান, এখন দু-বেলা দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাটাই বড় কথা, সেখানে পুজোয় নতুন জামা কাপড় আমাদের কাছে বিলাসিতা মাত্র! খুব কষ্ট হচ্ছে বাড়ির ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদেরও একটা নতুন পোষাক কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই।

বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকালেই বুকটা কেমন যন্ত্রণায় মোচড় দেয়।”
বাবার দেওয়া নতুন জামা, পুজোর দিনে প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরি, সন্ধেবেলার মিঠাই, অষ্টমীর অঞ্জলি, নবমীতে পুজোর প্ল্যান! এই সব কোনও কিছুই আর ভাবতে নেই ওদের!!

ওই ভাবলেশহীন চোখগুলি বুঝিয়ে দেয় হাসিকান্না, হীরাপান্নায় মোড়া আনন্দের এই চারচারটি দিন আমার পুজো, তোমার পুজো, সবার পুজো ৷ শুধু পুজো নেই ওদের!

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!