Sunday, December 5, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরসরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে,খড়গপুরে রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান দেখতে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়
Advertisement

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে,খড়গপুরে রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান দেখতে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: প্রচুর পুলিশ ছিল। দশেরা উৎসব কমিটির ব্যাজ পরিহিত অগুনতি স্বেচ্ছাসেবক ছিল। আর মূল অনুষ্ঠান স্থলের ব্যারিকেডের বাইরে খোলা মাঠে গন্ডি এঁকে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল অত্যধিক ভিড় এড়ানো। কিন্তু এই সমস্ত কিছু এক লহমায় উড়ে গেল বিকাল পাঁচটার পর থেকে।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাতারে কাতারে মানুষ জড়ো হয়ে যান রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান দেখতে। কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিটের মধ্যে সরকারি মতে ত্রিশ হাজার। আর বেসরকারি মতে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ জড়ো হয়ে যান রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান দেখতে। তারসাথে ফুৎকারে উড়ে যায় কোভিড বিধিনিষেধের যাবতীয় কড়াকড়ি।

আর এই পুরো ঘটনাটি ঘটে সাধারন ও পুলিশ প্রশাসনের জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের চোখের সামনে। প্রথম দিকে চেষ্টা করলেও শেষের দিকে কার্যত হাল ছেড়ে দেয় অসহায় পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকরা। আর দশেরা উৎসব কমিটির অগুনতি স্বেচ্ছাসেবকের দল এই ব্যাপারে একেবারে উদাসিন ছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টা করা তো দূরের কথা।

বরং নিজেদের পছন্দের ও পরিচিত মানুষজনকে কিভাবে মূল অনুষ্ঠান স্থলে ঢোকাবেন সেই নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পরিণাম যা হওয়ার তাই হয়েছে। রাবণ পোড়া অনুষ্ঠানের মূল স্থানেও অপ্রয়োজনীয় লোকজনের ভিড় থিকথিকে ছিল। আর বেশিরভাগের মুখে মাস্ক ছিল না। তারসাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মেনে চলার কোনও বালাই ছিল না।

যদিও অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মাইকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল কোভিড বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য। কিন্তু কে কার কথা শোনে। বরং কমিটির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে একটি ঠান্ডা লড়াই চলছিল কে কার তুলনায় কত বেশি প্রভাবশালী। মূল অনুষ্ঠান স্থলে কে কত লোক ঢোকাতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছিল। আর অসহায় পুলিশ প্রশাসন সবকিছু দেখেও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে গিয়েছে।

তবে মাস্ক না পরার প্রবণতা শুধু সাধারন দর্শক কিংবা অনুষ্ঠান স্থলে ভিড় জমানো মানুষজনের মধ্যে নয়। অনুষ্ঠান মঞ্চেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরাস্ত। মাস্ক না পরেই অনেকে মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন। তারমধ্যে খড়গপুর পুরসভার চেয়ারপারসন তথা খড়গপুর দশেরা উৎসব কমিটির সভাপতি প্রদীপ সরকার থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি তথা পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি পর্যন্ত রয়েছেন।

তবে মাস্ক পরে ছিলেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক তথা জেলাশাসক রশ্মি কোমল, তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। শুক্রবার বিজয়া দশমীর গোধূলি বেলায় খড়গপুর দশেরা উৎসব কমিটির উদ্যোগে এই রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান হয়েছে। শহরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার রাবণ পোড়া ময়দানে এই অনুষ্ঠান এবারে ১১৬ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও মাঠের পশ্চিম দিকে ৫৫ ফুট উচ্চতার রাবণকে রাখা হয়েছিল।

সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে জেলাশাসক দূর নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র দিয়ে রাবণের বুকে তীর ছোঁড়েন। তারপরেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। এই কোভিড বিধি উড়িয়ে রাবণ পোড়া অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে খড়গপুর পুরসভার চেয়ারপারসন তথা খড়গপুর দশেরা উৎসব কমিটির সভাপতি প্রদীপ সরকার বলেছেন ” এই রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান মানুষের একটি আবেগ।

একে আটকানো সম্ভব নয়। এই অনুষ্ঠান দেখতে সারা বছর ধরে মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন। তবে যাবতীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মাস্ক বিলি থেকে শুরু করে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে।” তবে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তারজন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। অপরদিকে গোটা ঘটনায় রীতিমতো বিরক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন ” পুলিশ যা করার করেছে।

কোভিড বিধিনিষেধ মানার জন্য যা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন তার সবকিছুই করেছে। কিন্তু কমিটির কিছু দায়িত্ব ছিল। সেটি তাঁরা ঠিকঠাক মতো করেন নি।” প্রসঙ্গত গত বছরেও এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে রাবণ পোড়া অনুষ্ঠান করা ও বিধি ভাঙ্গা নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

তখন কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এই বছর কোভিড বিধি মেনে চলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছে।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!