Thursday, December 2, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরকারখানায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে গিয়ে! নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক ছিনতাই করে পালালো দুষ্কৃতীরা,তীব্র চাঞ্চল্য খড়গপুরে
Advertisement

কারখানায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে গিয়ে! নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক ছিনতাই করে পালালো দুষ্কৃতীরা,তীব্র চাঞ্চল্য খড়গপুরে

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: ফের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার সাদাতপুর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় অবস্থিত বন্ধ হয়ে থাকা পরিত্যক্ত রামস্বরূপ কারখানা।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

মাস তিনেক আগে চুরি ঠেকাবার লক্ষ্যে এই পরিত্যক্ত কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে এক চোরের মৃত্যু হয়েছিল। এবারে এই কারখানা চত্বরে পড়ে থাকা লোহালক্কর ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীদের বিশাল একটি বাহিনী হানা দেয়। কিন্তু বাধা দিতে গিয়ে এই দুষ্কৃতীদের হাতে বেধরক মারধর খেতে হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষীদের।

পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছ থেকে দুষ্কৃতীরা দুটি দোনলা বন্দুক ছিনতাই করে। তারসাথে কারখানা চত্বরে পড়ে থাকা লোহালক্কর কিছু খোয়া গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের তৎপরতায় রবিবার ভোররাতে পাঁচজন দুষ্কৃতী ধরা পড়ে যায়। তাদের জেরা করে ছিনতাই হওয়া দুটি দোনলা বন্দুক উদ্ধার হয়েছে।

আর একটি ট্রলি আটক করে বন্ধ এই কারখানার কিছু সামগ্ৰী আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। তবে ঘটনার পর থেকে এই কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানালেন। ধৃত ও পলাতক প্রত্যেক দুষ্কৃতীর পরনে কালো পোশাক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতরা হলো সৌরভ দাস, সুব্রত দাস, মানস নায়েক, লব নায়েক ও দেবা পাত্র।

প্রথম দুজন সহোদর ভাই। এদের বাড়ি খড়গপুর পুরসভার এগারো নম্বর ওয়ার্ডের রাখাজঙ্গল এলাকায়। আর বাকি তিনজনের বাড়ি নিরঞ্জনবার এলাকায়। ধৃতদের রবিবার জেলা আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন পাঁচজন দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে।

বাকিদের খোঁজ করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির ধারা সহ অস্ত্র আইনে ২৫/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে শনিবার প্রথমে রাত নটা নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী এই পরিত্যক্ত কারখানার পেছনের দিকে ভাঙ্গা পাঁচিল দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেইসময় প্রহরারত নিরাপত্তা রক্ষীদের তাড়া খেয়ে পালায়।

পরে রাত দশটার সময় আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জনের দুষ্কৃতীদের বিশাল বাহিনী একই জায়গা দিয়ে পরিত্যক্ত কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। প্রত্যেকের পরনে কালো পোশাক ছিল। তখন ফের বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা গুলি চালায়। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

বিশাল এই দুষ্কৃতীদের দল নিরাপত্তা রক্ষীদের পাল্টা তাড়া করে। তারপর প্রত্যেককে ধরে মারধর করতে শুরু করে। তারসাথে দুজন নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছ থেকে দুটি দোনলা বন্দুক কেড়ে নেয়। সঙ্গে কারখানায় পড়ে থাকা লোহালক্কর লুঠ করে পালায়। তারপর খবর পেয়ে সাদাতপুর পুলিশ ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তল্লাশি শুরু করে দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য। পাশাপাশি গোটা এলাকায় নাকা চেকিং শুরু হয়। এই নাকা চেকিংয়ের সময় একটি ট্রলিতে কিছু লুঠ করা সামগ্ৰী নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পাঁচজনকে ধরে ফেলে। তারসাথে আটক করা হয় সামগ্ৰী বোঝাই ট্রলিটি। তারপর এই পাঁচজনকে জেরা করে ছিনতাই করা দুটি দোনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে এই কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা ব্যাপক আতঙ্কে রয়েছেন। সুদর্শন সামন্ত নামে এক নিরাপত্তা রক্ষী জানালেন তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আতঙ্কে রয়েছেন।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!