Sunday, December 5, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরবাহারি চিনা আলোর দাপটের মাঝেও,মেদিনীপুরে চাহিদা রয়েছে দেওয়ালি পুতুলের
Advertisement

বাহারি চিনা আলোর দাপটের মাঝেও,মেদিনীপুরে চাহিদা রয়েছে দেওয়ালি পুতুলের

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বৈদ্যুতিক এলইডি আলোর ঝলকানি, রকমারি মোম্বাতির মাঝেও চাহিদা রয়েছে মেদিনীপুরের দেওয়ালি পুতুলের। চাহিদার কারনে হাসি ফুটেছে শিল্পীদের। দীপাবলির আগে মির্জাবাজার কুমোর পাড়ায় মাটির পুতুল তৈরির ব্যস্ততা।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। এক সময় দীপাবলিতে মাটির প্রদীপের চাহিদা ছিল প্রচুর। শিল্পদের কথায় রখন এত টুনিবাল্ব, রকমারি মোমবাতি ছিলনা বাহারে। দিওয়ালি তে তেল সলতে দিয়ে মাটির প্রদীপই জ্বালানো হোত দীপাবনির রাতে। বাজারে এসেছে রকমারি এলইডি লাইট, সঙ্গে রকমারি চোখ ধাঁধানো মোমবাতি।

আধুনিকতার যুগে এসব লাইটকে টেক্কা দিতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেতে হয়েছে মাটি শিল্পীদের। ফ্যাশনের জন্য আধুনিকা নারীরাও পছন্দ করছেন সেই প্রাচীন কালের মাটির প্রদীপ ও দেওয়ালি পুতুল। ফ্যাশনের হাত ধরে ফের চাহিদা বাড়ছে মাটির প্রদীপ, দেওয়ালি পুতুলের।

মেদিনীপুরের কুমোর পাড়ার শিল্পীদের কথায়, একটা সময় মাটির প্রদীপ ও দেওয়ালি পুতুলের চাহিদা একেবারি তলানিতে ঠেকেছিল। ফ্যাশনের জন্য ফের চাহিদা বাড়ছে মাটির তৈরি দেওয়ালি পুতুলের। শিল্পী গোবিন্দ দাস, মিতালী দাস, গৌতম দাসরা বলেন, ‘কয়েক বছর আগে একেবারেই চাহিদা ছিলনা এই পুতুলের।

গত দু-তিন বছর চাহিদা কিছুটা বেড়েছে মেদিনীপুরের দেওয়ালি পুতুলের। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন দেওয়ালি পুতুল কিনতে। অনেকে আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন বিভিন্ন বাজারে। বিক্রি হচ্ছে বলেই তো লোকজন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আর চাহিদা আছে বলেই আমরাও তৈরি করছি।’

মেদিনীপুরের দেওয়ালি পুতুলের আদল যেন দীপ হাতে ঘাঘরা পরে দাঁড়িয়ে থাকা এক বালিকা। বিভিন্ন শিল্পী বিভিন্ন ভাবে তৈরি করছেন এই পুতুল। কেউ বানাচ্ছেন সারি সারি প্রদীপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুতুল। আবার কেউ তৈরি করছেন একটি প্রদীপ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুতুলটি। এই দেওয়ালি পুতুল মূলত তৈরি হয় মেদিনীপুরেই। যদিও শিল্পীরা বলছেন, ইদানিং কালে বিভিন্ন জায়গায় কপি হয়ে যাচ্ছে মেদিনীপুরের ঐতিহ্যশালী দেওয়ালি পুতুল।

মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজার কুমোরপাড়ার প্রায় পঞ্চাশটি পরিবার এই পুতুল তৈরির কাজ করেন। কালী পুজোর আগে পরিবারের পুরুষ-মহিলা, শিশু সকলেই হাত লাগায় এই কাছে। শিল্পী গৌতম দাস বলেন, ‘বৈদ্যুতিক রকমারি আলোর ঝলকানির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে দাপটের সঙ্গে টিকে আছে দেওয়ালি পুতুল। মানুষ আবার সেই পুরানো দিনে ফিরে আসছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর পুতুলের চাহিদা একটু বেশি।’

শিল্পী গোবিন্দ দাস বলেন, ‘মেদিনীপুরের কুমোরপাড়া থেকে এই পুতুল যাচ্ছে খড়্গপুর, বেলদা, তম্লুক, হলদিয়া, পাঁশকুড়া, হাওড়াতেও। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদল আনতে হচ্ছে পুতুলের ঘটনেও। এক একটি পুতুলের দাম দশ টাকা থেকে তিনশো টাকা। সাজ, গঠন অনুযায়ী পুতুলের দাম।’

মেদিনীপুরের বাসিন্দা, সঙ্গীতা শাসমল, অন্তরা রাউত, সুদীপ্তা আঢ্য’রা বলেন, ‘এখন ফ্যাশনের যুগ। হওয়াটস অ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের যুগ। মাটির প্রদীপ, দেওয়ালি পুতুল জ্বেলে সুন্দর সুন্দর ফটো শ্যুট হচ্ছে। তাই যতোই এলইডি বা মোমবাতি জ্বলুক, দেওয়ালি পুতুল একটা অন্য রকম ব্যাপার।’

 

 

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!