Thursday, December 2, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরসরকারি আশ্বাস মিললেও রাস্তা সংস্কার মেলেনি,ক্ষোভ ডেবরা পঞ্চায়েতে
Advertisement

সরকারি আশ্বাস মিললেও রাস্তা সংস্কার মেলেনি,ক্ষোভ ডেবরা পঞ্চায়েতে

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: আশ্বাসের পর আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কাজ এখনও পর্যন্ত হয়নি। রাস্তার বেহাল দশা আজও ঘোচেনি। অথচ এই বেহাল রাস্তা মেরামতের দাবিতে এলাকাবাসীরা বহু অনুরোধ করেছেন। দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ডেবরা থানার সমাজপোতা থেকে শাকিরদা পর্যন্ত এই সাত কিমি রাস্তা আজ পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

ডেবরা থানার ভরতপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েত থেকে গোলগ্ৰাম গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সংযোগকারী এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তার উপর এই দুটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বহু মানুষ নির্ভরশীল। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রথম দফায় প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নদীর জল শুকিয়ে গেলেই রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে।

যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এই আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে পারছেন না। এমনিতেই ভাঙ্গাচোরা অবস্থা গোটা রাস্তা। তারমধ্যে বৃষ্টি হলেই গোটা রাস্তাটি দুর্গম হয়ে যায়। রাস্তাটি কাদায় ভরে গিয়ে পিছল হয়ে যায়। যাতায়াত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। সাইকেল কিংবা অন্য কোনও গাড়িতে যাতায়াত করা যায় না।

এইবার তো এমন অবস্থা হয়েছিল খাটিয়াতে চাপিয়ে রোগী নিয়ে যেতে হয়েছে। রাস্তার বেহাল দশার কারনে কোনও অ্যাম্বুলেন্স কিংবা গাড়ি ঢুকতে পারে নি। সবমিলিয়ে এই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এই রাস্তাটি একটি বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী সেখ ফারুক হোসেন রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন ” দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই রাস্তাটি এরকম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধানকে বহুবার বলা হয়েছে রাস্তা মেরামতের জন্য। কিন্তু নিজের এলাকা ছাড়া আর কোথাও উন্নয়নের কাজ করেন নি।” ঝাড়েশ্বর মাজি নামে এক বাসিন্দা জানালেন প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটি এই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যায় না বলে তিনি জানালেন।

সন্তু ভৌমিক বললেন ” বর্ষাকালে খাটিয়াতে চাপিয়ে রোগী নিয়ে যেতে হয়। কারন এই খানাখন্দ ও কাদা রাস্তায় কোনও গাড়ি বর্ষাকালে আসতে পারে না।” জানা গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই রাস্তাটির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু হচ্ছে না। এই ব্যাপারে ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক সেলিনা খাতুন জানিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন ও বর্তমানে প্রয়াত পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে ধরে এই রাস্তা সহ আরও কয়েকটি রাস্তা মেরামতের কাজ অনুমোদন করানো হয়েছে।

আর এই সাত কিমি রাস্তাটির জন্য প্রথম দফায় প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা পরিষদে টাকাটি পড়ে রয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন এই পুরো রাস্তাটি পিচের হবে। আর ভরতপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান জুলফিকার আলি জানিয়েছেন ” এই রাস্তাটির কাজ নদীর জল বেড়ে যাওয়ার কারণে শুরু করা যাচ্ছে না। কারন বর্তমানে নদীতে জল ভর্তি থাকায় রাস্তা তৈরীর জিনিসপত্র সাঁকো দিয়ে আনা যাচ্ছে না।

নদীর জল একটু কমলেই কাজ শুরু হবে। এই রাস্তা মেরামতের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গিয়েছে। কাজটি করবে জেলা পরিষদ।” তবে তিনি জানিয়েছেন রাস্তাটি পিচের নয়। ঢালাই করা হবে। প্রসঙ্গত কংসাবতী নদীর অপর প্রান্তে এই গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাটি রয়েছে। এখন নদী জল ভর্তি থাকায় ট্যাবাগেড়িয়া ঘাট থেকে বাঁশের সাঁকো পার করে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!