Thursday, December 2, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরEXCLUSIVE: নিজের বিয়ে আটকে বীরাঙ্গনা মেদিনীপুরের রুমা সিং
Advertisement

EXCLUSIVE: নিজের বিয়ে আটকে বীরাঙ্গনা মেদিনীপুরের রুমা সিং

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: নিজের বিয়ে আটকে ‘বীরাঙ্গনা’ পুরস্কার পাচ্ছেন মেদিনীপুর সদর ব্লকের প্রত্যন্ত বিষড়া গ্রামের রুমা সিং। আগামী ২০শে নভেম্বর আন্ত্ররজাতিক শিশু অধিকার দিবসে কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যান দপ্তরের পক্ষ থেকে রুমা’কে বীরাঙ্গনা পুরস্কার দেওয়া হবে।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

ঘটনার কথা স্বীকার করছেন জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সন্দীপ কুমার দাস। ‘তিনি বলেন, এবার রাজ্য সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যান দপ্তর আমাদের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রুমা সিং-কে নির্বাচিত করেছে ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে। ২০ নভেম্বর কলকাতায় তাকে এই সাহসীকতার পুরস্কার দেওয়া হবে।’

জানা গিয়েছে, প্রবল বাধার মুখে রুখে দাড়িয়ে ছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমা সিং। হত দরিদ্র পরিবার। বাবা বন্দি সিং বছর তিনেক আগে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারনে শরীর খারাপ হয়ে মারা গেছেন। রুমার ছোট আরও দুটি ভাই রয়েছে। মা চঞ্চলা সিং দিন মজুরের কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। কীভাবে পড়াবেন তিন ছেলে মেয়েকে! তাই নাবালিকা মেয়েকে পাত্রস্থ করে দায় মুক্ত হতে চায়ছিলেন মা!

রুমা স্থানীয় শিরোমনী বিরসা মুন্ডা হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণিতে পড়তে পড়তেই বিয়ে! একথা জানার পরই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে রুমার। বিয়ে রুখতে উপায় খুঁজে বেড়ায়। করোনা পরিস্থিতির কারনে স্কুলও বন্ধ। ভাবতে থাকে কীভাবে আটকানো যাবে এ বিয়ে? গোপনে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশাসনের সহযোগিতায় বিয়ে আটকে দেয় রুমা।

রুমার বর্তমান বয়স পনেরো বছর। রুমা জানায়, ‘আমি লেখাপড়া শিখতে চাই। লেখাপড়া শিখে আমি শিক্ষিকা হতে চাই। আমার দুই ভাইকেও লেখাপড়া শেখাতে চাই। বাবা অল্প লেখাপড়া জানতেন। মা একেবারেই লেখাপড়া জানেন না। তাই আমার বিয়ে দিতে চেয়ে পাত্র খুঁজে নিয়ে ছিলেন। মাকে কিছুতেই বুঝিয়ে উঠতে পারিনি।

আমি তাই প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে বিয়ে আটকায়। প্রশাসনের লোকজন বাড়িতে এসে মাকে বোঝান। মা এখন বুঝতে পেরেছেন, অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এখন মা আমাকে লেখাপড়া শেখাতে চাই। রুমা বলে, এরকম পুরস্কার পাবো কখনো ভাবিনি। কোনদিন কলকাতাও দেখিনি। শনিবার আমাকে কলকাতায় নিয়ে যাবে বলেছে।’

রুমার মা চঞ্চলা সিং অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। চঞ্চলা বলেন, ‘ওর বাবা মারা যাওয়ার পর একটি ছেলে দেখে মেয়ের বিয়ের ঠিক করি। আমি ভেবেছিলাম কীভাবে লেখাপড়া শেখাবো? বিয়ে দিয়ে দিলে কিছুটা নিশ্চিন্ত হবো! মেয়ে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। মেয়ে অফিসারদের বাড়িতে ডেকে আনে। অফিসাররা এসে আমাকে বোঝায়।

এখন মনে হচ্ছে মেয়ে ঠিক করেছে। তিনি বলেন, ১৮ বছর হলেও মেয়ের বিয়ে দেবো না। মেয়েকে লেখাপড়া শেখাবো। সামান্য বার্ধক্য ভাতা এবং মজুর খেটে সংসার চালাই। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে প্রয়োজনে লোকের কাছে হাত পাতবো।’

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!