Thursday, December 2, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরKharagpur: বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা,পড়ুয়াদের পাঠাতে নারাজ অভিভাবকরা
Advertisement

Kharagpur: বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা,পড়ুয়াদের পাঠাতে নারাজ অভিভাবকরা

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা। দুতলা ভবনের বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল ধরেছে। খসে পড়ছে চাঙ্গর। খসে গেছে পলেস্তারা। রঙ চটে কালো রঙের ছোপ গোটা বিদ্যালয় ভবনে। শেষ কবে রঙের প্রলেপ পড়েছে বিদ্যালয় ভবনে সঠিকভাবে কেউ মনে করতে পারছেন না। আর ভবনের এই বেহাল দশায় অভিভাবকরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

তাঁদের ভয় কখন কি বিপদ ঘটে যায়। ফলে দীর্ঘ সাত মাস বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরু হলেও পড়ুয়ারা সেরকমভাবে হাজির হচ্ছে না। ফলে সবমিলিয়ে খুব বাজে অবস্থায় রয়েছে খড়গপুর পুরসভার কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দুই জেলার একমাত্র উর্দু মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আজিজিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দাবি উঠেছে অবিলম্বে বিদ্যালয় ভবনের পুরোপুরি মেরামতের।

কিন্তু সেই কাজ না করে তৎকালীন বিধায়ক প্রদীপ সরকারের কোটার টাকায় নতুন একটি ভবন তৈরি করা নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ভূমিকায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁদের দাবি অবিলম্বে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন মেরামত করা হোক।

তাঁদের অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি অর্থের নয়ছয় করে ব্যাপক বেনিয়ম করছেন। শুধু তাই নয় অভিভাবকদের ও পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে কোনও সভা না ডেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি সুজয় কর্মকার।

তবে পরিচালন কমিটির অন্যতম এক সদস্য প্রিয়াঙ্কা শী আবার দাবি করেছেন সভায় তাঁকে ডাকা হয় না। ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করেছে। এই ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফ আলম বলেছেন ” বিধায়কের কোটায় একবার তিন লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। এই অল্প পরিমাণ টাকায় বিদ্যালয় ভবন মেরামতের কাজ করা সম্ভব নয়।

কারন ভবনের যা অবস্থা তাতে খরচ পড়বে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা। তাই বিধায়ক কোটার টাকা যাতে ফেরত না চলে যায় তারজন্য পরিচালন কমিটি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা করে। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন একতলা ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।” তিনি বলেন এই ব্যাপারে বিদ্যালয়ের কিছু করার নেই। কারন ঠিকাদার এই টাকায় একতলা ভবনের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন।

সেই পরামর্শ মেনে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন প্রশাসনের সর্বত্র দরবার করা হয়েছে বিদ্যালয় ভবনটির মেরামতের লক্ষ্যে টাকার জন্য। কিন্তু কোনও জায়গা থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় নি। অপরদিকে বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি সুজয় কর্মকার বলেছেন নতুন ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ যাঁরা করেছেন ঠিক করেন নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভা ডেকে সমস্ত কাজ করা হচ্ছে।

কোনও এককভাবে ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। যদিও বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য প্রিয়াঙ্কা শী বলেছেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভায় তাঁকে ডাকা হয় না। আর বিধায়ক কোটার টাকায় পুরনো ভবন মেরামত করা দরকার। কারন পড়ুয়াদের স্বার্থের দিক সকলের দেখা দরকার। আর প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারপারসন প্রদীপ সরকার বলেছেন ” বিধায়ক থাকার সময় আমার কাছে এই বিদ্যালয়ের কমিটি অনুরোধ করেছিলেন।

আমি তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ করাতে পেরেছিলাম। তবে এই টাকায় কাজ কি হবে সেটি সম্পূর্ণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। কোনও জটিলতা তৈরি হলে উভয়পক্ষ আমার কাছে আসতে পারেন।”

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!