Thursday, September 23, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরএবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন...

এবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ অলোক আচার্য।

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ (ডেবরা,পশ্চিম মেদিনীপুর):-এবার  ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ অলোক আচার্য। রবিবার তিনি দলের নেতাদের ভূমিকা থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। পাশাপাশি দলে কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তন না করা হলে যে ডেবরাতে দলের ভরাডুবি হবে তারও একটি ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক অলোক আচার্য। তিনি বলেছেন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দলের অঞ্চল থেকে ব্লক স্তর ও কিছু জনপ্রতিনিধিদের দেখলে মানুষ এখন থুতু ফেলেন। আর শুভেন্দু অধিকারী দলের বড় সম্পদ। তিনি দল ছাড়লে তৃণমূলের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি দলের পুরনো কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদা দেওয়ার দাবিতেও সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন ” সারা পশ্চিম বাংলায় যাঁরা দক্ষিণপন্থী দল করছেন যাঁরা গণ আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন এই মুহূর্তে যাঁরা অগ্ৰনী ভূমিকায় রয়েছেন তাঁদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই সব কয়টি রাজনৈতিক দল ধরলে দ্বিতীয় সারিতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আমাদের মেদিনীপুরের গর্ব। আমরা চাই শুভেন্দু অধিকারী দলেই থাকুন। তিনি দলে থাকলে দল আমাদের শক্তিশালী থাকবে। বেরিয়ে গেলে দল কিন্তু অনেকটাই বিপদে পড়বে।” তারপর তিনি আরও বলেন ” শুভেন্দুবাবু কি করবেন সেটা এখনও বাংলার মানুষ জানতে পারেন নি। যদি বিজেপিতে চলে যান তাহলে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে যাবে। আমাদের ক্ষতি হয়ে যাবে। তিনি দলে থাকলে দলের শ্রীবৃদ্ধি হবে।” শুভেন্দু অধিকারী এই বাংলার মানুষের মনে গেঁথে রয়েছেন বলে তিনি জানালেন। কারন গন আন্দোলন থেকে উনি উঠে এসেছেন। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ” শুভেন্দু ও মমতা একই বৃন্তের দুটি কুসুম।” এরপরই তিনি দলের নেতা ও কিছু জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন বর্তমানে ডেবরার বিধায়ক সারাদিনে এক ঘন্টার জন্য রাজনীতিটা করেন। রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন ২০১৩ সালে জেলা পরিষদের সদস্য করা হল। আর ২০১৬ সালে বিধায়ক হয়ে গেলেন। তারপরেই তিনি বলেন ” আমার অনেক অঞ্চল সভাপতি রয়েছেন যারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মানুষ থুতু ফেলছেন। অনেক ব্লক নেতা আছে হেঁটে গেলে মানুষ থুতু ফেলছেন। অনেক জনপ্রতিনিধি আছেন হেঁটে গেলে মানুষ থুতু ফেলেন। তারাই এখন চেয়ারে বসে রয়েছেন।” তিনি বলেন ” ডেবরায় যদি সাংগঠনিক স্তরে কিছু কিছু রদবদল না হয় তাহলে আগামীদিনে ডেবরা একটা বাজে জায়গায় পৌঁছাতে বাধ্য। ইতিমধ্যেই আমরা ডেবরাতে ৪১১৯ ভোটে পিছিয়ে রয়েছি।” আর এই সমস্ত বিষয়ে রাজ্য থেকে শুরু করে জেলা ও ব্লক সভাপতিদের বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয় নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারপরেই তাঁর সাবধান বানী ও ইঙ্গিত ” সাংগঠনিক পরিবর্তন না হলে ডেবরা জেতানো খুব মুশকিল আছে। পুরনো কর্মীদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হোক।” এই ব্যাপারে জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেছেন ” এখন মুখ্যমন্ত্রীর সভা আমাদের কাছে অগ্ৰাধিকার পাচ্ছে। ফলে স্থানীয় স্তরের এইসব অভিযোগ নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই।” তবে অলোক আচার্যের সাথে বসা হবে বলে তিনি জানালেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!