Thursday, September 23, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরডেবরায় করোনা আক্রান্ত আশাকর্মীর,বেতন কাটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক।

ডেবরায় করোনা আক্রান্ত আশাকর্মীর,বেতন কাটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক।

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭,ডেবরা:- করোনা আক্রান্ত হলেও বেতন কাটা যায় করোনা যোদ্ধার। ফলে সমাজের আশা হয়েও হতাশায় আশা কর্মী। করোনা আক্রান্ত হওয়ার ফলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। বারো দিন পর করোনা মুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে সুস্থ হয়ে উঠার পর ফের কাজে যোগ দেন। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারনে কাজে যোগ দিতে না পারায় মাসিক ভাতা থেকে কিছু অর্থ কেটে নেওয়া হয় এক আশা কর্মীর। পরবর্তীকালে ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ দুই মাস এই আশা কর্মী কাজে যেতে পারেন নি। ফলে এখন তাঁর নূন্যতম মাসিক বেতনটাও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একেবারে অথৈ জলে পড়েছেন অনিতা কর শর্মা নামে এই আশা কর্মী। কি করবেন ও কোথায় যাবেন ভেবে কূলকিনারা করতে পারছেন না ডেবরা থানার কোতাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই আশা কর্মী। ফলে এই নিয়ে ডেবরা থানা এলাকায় অন্যান্য আশা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ব্যাপারে আশা কর্মী অনিতা কর শর্মা জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে এলাকায় এলাকায় কাজ করার সময় তিনি নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন আগস্ট মাসে। ফলে প্রায় বারো দিন শালবনী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দেন।

কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারনে কাজ করতে না পারায় সেই বারো দিনের টাকা মাসিক ভাতা থেকে কেটে নেওয়া হয়। পরে সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার এক মাস পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি হতে হয়। শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বাড়িতে এক মাস বিশ্রামে থাকতে হয়। পরে চেকআপ করাতে গেলে আরও দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ করোনা আক্রান্ত হওয়ার সময়ের টাকা তো মাসিক ভাতা থেকে কাটা হয়েছে। তারপর এই সময়কালে কাজে যোগ দিতে না পারায় স্থায়ী মাসিক ভাতা ৪৫০০ টাকা ও ফরমেটের ভিত্তিতে ইনসেনটিভ পুরোপুরি কেটে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন কার্যত বেতনহীন অবস্থায় তাঁকে দিন কাটাতে হচ্ছে। প্রচন্ড আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছেন। তিনি বলেন ” আমাদের মাসিক ভাতা ও ফরমেটের ভিত্তিতে পাওয়া ইনসেনটিভের টাকায় কোনোমতে সংসার চলে যায়। যেটুকু আয় সেটাই সংসার খরচে বেরিয়ে যায়। সঞ্চয় বলতে সেরকম কিছুই নেই। আর যেটুকু যা ছিল তার সবটাই চিকিৎসার জন্য খরচ হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন মারাত্মক আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছি।” এদিকে আশা কর্মীদের স্থানীয় এক নেত্রী কাজল চক্রবর্তী বলেছেন ” সারা দেশ ও এই রাজ্যে মা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ছাড়াও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবধরনের কাজ করে চলেছেন আশা কর্মীরা। বলা হয়েছে ২৪ ঘন্টাই ডিউটি। সারা বছরে কোনও ছুটি নেই। একদিনের জন্য ছুটি নিতে হলে দরখাস্ত দিয়ে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি পাওয়া গেলে তবেই ছুটি মেলে। স্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মীদের মতো ডিএ, অবসরকালীন কোনও সুযোগ সুবিধা নেই। কিন্তু দায়-দায়িত্ব, কাজ সর্বক্ষণের জন্য। চিকিৎসার কারণে ছুটি নিলেও কেটে নেওয়া হচ্ছে তাঁদের সামান্য প্রাপ্য অর্থ। এমনকি করোনা আক্রান্ত হলেও কোনও ছাড় নেই। যেমনটি হয়েছে অনিতা কর শর্মার ক্ষেত্রে।” তবে এই ব্যাপারে ডেবরা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আরিফ হোসেন সা জানিয়েছেন করোনা আক্রান্ত হওয়ার সময়ের বেতন কাটা হয় নি এই আশা কর্মীর। তবে পরবর্তীকালে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই আশা কর্মীর মাসিক ভাতা দেওয়া যায় নি। আর এই নিয়ে তিনি কোনও অভিযোগ কাউকে জানান নি। তবে তিনি আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!