Thursday, October 6, 2022
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুর পুরসভায় এখনও টিপ ছাপ দিয়ে বেতন তোলেন বেশিরভাগ সাফাই কর্মী
Advertisement

খড়গপুর পুরসভায় এখনও টিপ ছাপ দিয়ে বেতন তোলেন বেশিরভাগ সাফাই কর্মী

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বুড়ি হানসু। ২৫ বছর ধরে খড়গপুর পুরসভায় সাফাই কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। আগে অস্থায়ী ছিলেন। বছর সাতেক হল স্থায়ী হয়েছেন। এখন পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা পরিষ্কারের দায়িত্বে রয়েছেন। বাড়ি খড়গপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দা ওয়ারলেস ভবন এলাকায়। বাড়িতে সকলেই সাক্ষর। একমাত্র তিনি নিরক্ষর।

- Advertisement -
- Advertisement -

এখনও মাসের বেতন তোলেন টিপ ছাপ দিয়ে। ললিত মোঙ্গরে। দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো সাফাই কর্মী। বাড়ি খড়গপুর শহরের ট্রাফিক আম্বেদকর কলোনী এলাকায়। এখনও টিপ ছাপ দিয়ে বেতন তোলেন। যদিও বাড়ির প্রায় সকলেই সাক্ষর। একমাত্র স্ত্রী নিরক্ষর। এরকম নিরক্ষর সাফাই কর্মীর সংখ্যা খড়গপুর পুরসভায় এই মুহূর্তে ৪১৮ জন। পুরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সাফাই কর্মীর সংখ্যা ৭৫০ জন।

তারমধ্যে ৫৩৮ জন নিরক্ষর ছিলেন। গত এক বছরে সরকারি নির্দেশের গুঁতোয় সাক্ষর করে তোলা সম্ভব হয়েছে ১২০ জনকে। গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল টিপ ছাপ দিয়ে আর বেতন তোলা যাবে না। বলা হয়েছিল ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটি নিরক্ষর কর্মীদের সাক্ষর করে তুলতে হবে। সেই নির্দেশ পৌঁছানোর পর নড়েচড়ে বসে খড়গপুর পুরসভা। শুরু হয় নিরক্ষর কর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ। তাতে দেখা যায় একমাত্র সাফাই কর্মীদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক নিরক্ষর রয়েছেন।

তারপরেই শুরু হয় এই নিরক্ষর সাফাই কর্মীদের সাক্ষর করার কর্মসূচি। শুরু হয়েছিল গত বছর জুলাই মাসে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩৮ জন। কিন্তু এক বছর পরে মাত্র ১২০ জনকে সাক্ষর করে তোলা সম্ভব হয়েছে। তাও এঁদের সেই জানুয়ারি মাসে সাক্ষর হওয়ার শংসাপত্র দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে সব চুপচাপ। জানা গিয়েছে আগামী ১৫ আগস্টের পর ফের এই সাক্ষরতার অভিযান শুরু হবে। কেন এই ব্যর্থতা।

তার কোনও সদুত্তর পুরসভার কেউ দিতে পারলেন না। এই ব্যাপারে পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক তুলিকা দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বললেন ” আসলে বিষয়টি খেয়াল ছিল না। আর কেন এই ব্যর্থতা সেটা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” তারপরেই বৃহস্পতিবার ফোন করার পরামর্শ দিয়ে ফোনটি কেটে দিলেন। আর পুরসভার সাক্ষরতা ও স্ব নির্ভর গোষ্ঠীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ইনচার্জ ডি বাসন্তী বললেন ” আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি।

কেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয় নি সেটা বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি আগামী ১৫ আগস্টের পর বাকিদের সাক্ষর করার কাজ শুরু হবে।” যদিও কবে থেকে শুরু হবে সেটিও তিনি সঠিকভাবে জানাতে পারলেন না। গত বছরের জুলাই মাসে খড়গপুর শহরে পাঁচটি জায়গায় এই সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু হয়। তারমধ্যে একটি কেন্দ্র হল মালঞ্চ রোডের ধারে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেলেগু বিদ্যাপীঠ। এখানে ৯,১৫,১৬,১৭,২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত নিরক্ষর সাফাই কর্মীদের সাক্ষরতার পাঠ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে মালঞ্চ এলাকায় অমরজ্যোতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত নিরক্ষর সাফাই কর্মীদের সাক্ষর করার পাঠ দেওয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে বাংলা, হিন্দি ও ইংরাজীতে পড়ানো হয়েছে। এই ব্যাপারে এই শিবিরের পরিচালক তারকনাথ দুবে জানিয়েছেন বাংলা ভাষীদের বাংলায় সাক্ষর করানো হয়েছে। আর হিন্দি,ওড়িয়া ও তেলেগু ভাষীদের হিন্দিতে সাক্ষর করা হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখতে পারার জন্য ইংরাজী শেখানো হয়েছে।

পাঠদানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুজনকে বাছা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন এঁরাই পড়িয়েছেন শিবিরগুলিতে। পড়ানো হতো শুক্র, শনি ও রবিবার বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!