Wednesday, October 5, 2022
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরশহীদ জওয়ানের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ শুভেন্দুকে,বিতর্কে বিধায়ক হিরন চট্টোপাধ্যায়
Advertisement

শহীদ জওয়ানের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ শুভেন্দুকে,বিতর্কে বিধায়ক হিরন চট্টোপাধ্যায়

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: শহীদ জওয়ানের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিরোধীদের কাউকে ডাকা তো দূরাস্ত। এমনকি ডাকা হয় নি সাংসদ দিলীপ ঘোষকেও। আর এই জায়গাতেই বিতর্কে জড়ালেন খড়গপুর শহরের বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ। মূলত বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে খড়গপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বারবেটিয়া এলাকায় শহীদ জওয়ান বাপ্পাদিত্য খুঁটিয়ার একটি মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় এই এলাকার প্রগতি সংঘ ক্লাব প্রাঙ্গণে এই মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান হবে। সেখানে বিধায়কের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ডাকা হয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এছাড়া আর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। অনুষ্ঠানে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে বিধায়কের দল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষকে। আমন্ত্রণ জানানো হয় নি পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার সহ স্থানীয় কাউন্সিলর আশা দোলই সহ অনেককেই।

এই নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্ষুব্ধ খড়গপুর শহরের বিজেপির নেতারা। প্রত্যেকেই সঙ্কীর্ণ রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে বিধায়ককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কাউকে না ডাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন শহীদ জওয়ানের পরিবারের সদস্যরা। এই ব্যাপারে শহীদ জওয়ান বাপ্পাদিত্য খুঁটিয়ার বাবা সুকুমার খুঁটিয়া বলেছেন   পুরো উদ্যোগটা বিধায়ক ও প্রগতি সংঘ ক্লাবের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।  শুধু আমাদের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আমরা সানন্দে অনুমতি দিয়েছি। তারসাথে বলা হয়েছিল সকলকেই অনুষ্ঠানে ডাকা হবে।” পাশাপাশি তিনি বলেছেন ” সকলকে যদি ডাকা না হয় তাহলে অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে ভাবতে হবে।”

তবে প্রগতি সংঘ ক্লাবের সম্পাদক বাপী রায় বললেন ” পুরো উদ্যোগটাই বিধায়কের। আমরা শুধু ক্লাবের পক্ষ থেকে জায়গাটি দিয়েছি। কারন বাপ্পাদিত্য আমাদের ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে জায়গা চাওয়া হয়েছিল। আমরা দিয়েছি। আর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। এর বেশি কোনও ভূমিকা আমাদের নেই। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে একজনের উপস্থিতিতে আমরা সকলকে আমন্ত্রণ জানাবো।

কারন এই অনুষ্ঠান কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। সকলেই আসতে পারেন।” কিন্তু ঘটনা হলো শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত খড়গপুর শহরের তথা ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ অনেককেই আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। এই ব্যাপারে খড়গপুরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেছেন ” আমাকে এই অনুষ্ঠানে ডাকা হয় নি। এই নিয়ে কেউ কোনও আলোচনা করেন নি।” তারপরেই তিনি বলেন ” ওনার মত শহীদকে নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হচ্ছে না।

এটা সঙ্কীর্ণ মনের পরিচয়। সকলকে নিয়ে করলে ভালো হত। কারন উনি আমাদের শহরের গর্ব। উনি দেশের সেনাবাহিনীর জওয়ান ছিলেন।” আমন্ত্রণ জানানো হয় নি স্থানীয় কাউন্সিলর আশা দোলুইকে। তিনি বলেন ” এই শহীদ জওয়ানের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানের হোর্ডিং দেখেছি। তবে আমাকে ডাকা হয় নি।” একইভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করে এলাকার বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেছেন ” এই নিয়ে কিছু বলার নেই। আমাকে কোনও আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। আর ডাকা না হলে যাই কি করে।”

তবে শুধু বিরোধী দলের নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক জেলা নেতা বললেন ” বিধায়ক অত্যন্ত নোংরা রাজনীতি করছেন। যেদিন বাপ্পাদিত্যের মৃতদেহ বাড়িতে আনা হয়েছিল সেদিন সকলেই ছিলেন। বরং বিধায়ককে দেখা যায় নি। এখন হঠাৎ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে শুরু করেছেন।” আর বিধায়কের প্রতিনিধি বেলারানি অধিকারী বললেন ” বিধায়কের নিজস্ব উদ্যোগে ও খরচে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। সাংসদ দিলীপ ঘোষের ব্যাপারটা বিধায়ক বলতে পারবেন।

তবে এইটুকু বলতে পারি অনুষ্ঠানটি পুরোপুরি অরাজনৈতিক। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। শহীদ জওয়ান বাপ্পাদিত্য খুঁটিয়াকে মনে রাখার জন্য এই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।” প্রসঙ্গত গত ২৭ মে সিয়াচেন যাওয়ার পথে লাদাখে সিহক নদীতে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি পড়ে যায়। তাতেই মৃত্যু হয় বাপ্পাদিত্য খুঁটিয়া সহ আরও বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ানের। বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও যথারীতি ফোন ধরেন নি বিধায়ক হিরণ।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!