Sunday, September 19, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরএই বুঝি ভেঙ্গে পড়লো দেওয়াল, আতঙ্ক সবংয়ের স্কুলে।

এই বুঝি ভেঙ্গে পড়লো দেওয়াল, আতঙ্ক সবংয়ের স্কুলে।

- Advertisement -

নিজস্ব সংবাদদাতা,সবং:-বয়সের ভারে এমনিতেই জরা ধরেছিল,তার উপরে আবার আমফানের ঘা। চলতি সালের আমফানের তাণ্ডব সইতে পারেনি ‘বুড়ো’ স্কুলবাড়িটি। তার পর থেকে সবংয়ের অন্যতম পুরনো স্কুলটির অবস্থা আর বদলায়নি।

ফলে দাঁদরা অঞ্চলের অন্তর্গত বড়চাহারা বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন প্রাণ হাতে ক্লাস করতে হয় পড়ুয়াদের। যদিও করোনা কারণে সরকারিভাবে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু স্কুল খুললেই তো সেই আতঙ্ক ফিরবে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, স্কুলটির প্রায় একশো ছুঁই ছুঁই করছে বয়স। এত পুরনো স্কুল এলাকায় খুব কম রয়েছে। ঝড়ে তো কত কিছুর ক্ষতি হয়েছে। তার অনেক কিছুই নতুন করে গড়া হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘এই স্কুল বাড়িটির দশা এমন হল কেন? কেন প্রশাসন বাড়িটি মেরামতে উদ্যোগী হয়নি?’’ এমন অবস্থার খেসারত অবশ্য দিতে হচ্ছে শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলটিকে। পড়ুয়াদের অনেকেই ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পড়ুয়াদের প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হয়। এই বুঝি মাথায় খসে পড়ল দেওয়াল। স্কুলটি তৈরি হয়েছিল ১৯২৬ সালে। সেই সময় এলাকায় অন্য স্কুল বিশেষ ছিল না। নানা কারণে স্কুলটির সুনামও ছড়িয়েছিল আশপাশের এলাকায়। ফলে পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমে বাড়তে থাকে। পুরনো হলেও স্কুল বাড়িটির তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। চলতি বছরে আমফান ঝড়ের তাণ্ডব,তারপর থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয় বিপর্যয়। দেওয়ালের মাটি খসতে শুরু করে। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা জানাল,সেই যে শুরু হল তা এখনও চলছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা মিলে পাঁচজন, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১২৭ জন। স্কুলের মোট পাঁচটি ক্লাসঘরের মধ্যে চারটি ঘর ব্যবহারের যোগ্য নয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন,করোনা জেরে সরকারের নির্দেশ অনুসারে স্কুল বন্ধ আছে। কিন্তু স্কুল খুলবে,স্কুল খুললে ‘‘সেই ঘরগুলি ব্যবহার না করে আমাদের কোনও উপায়ও নেই। আর কোনও বিকল্প না থাকায় এক রকম বাধ্য হয়েই ঘরগুলি ব্যবহার করতে হবে।
সব মিলিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা মুখ ফেরাচ্ছে এই স্কুল থেকে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলেন, ‘‘বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ এখনও হয়নি। সরকার নজর না দিলে প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুলটিকে সচল রাখা কঠিন।’’ এ ব্যাপারে সবং ব্লক পশ্চিম চক্র স্কুল পরিদর্শক দিলীপ আদক বলেন, স্কুলের এই বিষয় নিয়ে, গ্র্যান্ড পাওয়ার জন্য অনেক বার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানিয়েছি,স্কুল কর্তৃপক্ষও বারবার জানিয়েছে। কিন্তু কোন রকম ভাবে কোনো সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা গ্র্যান্ড পাওয়ার জন্য যথারীতি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!