Thursday, December 2, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরদলছুট হাতির আছাড়ে মৃত্যু এক মহিলার,আহত আরও এক।
Advertisement

দলছুট হাতির আছাড়ে মৃত্যু এক মহিলার,আহত আরও এক।

Advertisement

Advertisement

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দ্রকোনা: বুধবার সাত সকালে হাতির তান্ডবে প্রান গেলো এক মহিলার এবং গুরুতর আহত হলেন দুই কৃষক। মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে বনদপ্তরের কর্মী ও পুলিশ প্রসাশনের লোকজন দের সহ মৃত দেহ ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখায় চাষীরা।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য আলুর জমিতে কাজ করতে গিয়ে দলমার দলের আক্রমণের মুখে এই ঘটনাটি ঘটে। কেশপুর ব্লকের খড়িগেড়িয়া মৌজায় আলুর জমিতে কাজ করছিলেন গীতারানী ঘোষ (৫১) ও তার স্বামী দুঃখীরাম ঘোষ। হঠাৎ করে হাতির দল আলু জমিতে নেমে পড়ে। পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান ঐ মহিলা। শুঁড়ে তুলে কয়েক বার আছাড় দিয়ে দেহকে ছঁড়ে দেয় ক্ষিপ্ত দলমার হাতি। শরীর থেকে একটা হাত ভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় কৃষক রমনীর। আহত হয় তার স্বামীও। এইদিন সকালেও আরবএকটি হাতির দল চন্দ্রকোনার টুকুরিয়া মৌজায় চাষের মাঠে হামলা চালায়। স্থানীয় চাষী পঞ্চানন দাস, মুরালী মানা গুরুতর আহত হয়। পাশাপাশি মাঠের কৃষকরা লাঠি, আগুন জ্বেলে হাতির আক্রমন রুখে দিয়ে আহত চাষীদের উদ্ধার করেন। দুজনেরই চিকিৎসা চলছে চন্দ্রকোনা হাসপাতালে। এলাকার পর এলাকায় আতঙ্ক। বনদপ্তর, পুলিশ প্রসাশন সহ জনপ্রতিনিধি যেন বধির জড় পদার্থ। হাতি তাড়ানো, চাষীদের মাঠের ফসল এবং লোকালয়ে ঘরবাড়ি রক্ষাকরার ন্যুনতম কোনো উদ্যোগ নেই। গত শনিবার গোয়ালতোড়ের শাখা ভাঙা গ্রামে হাতির পালের আক্রমণে
আহত হয়ে মেদিনীপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছাত্র তুহিন মাহাত মঙ্গলবার ভোররাতে মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় গ্রামে আটটি বাড়ী ভাঙচুর সহ ধান চাল লুঠ হয়। গোয়ালতোড়,
শালবনী, চন্দ্রকোনা, কেশপুর এমন ব্লক গুলির এলাকার পর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দলমার দল। মাঠের ফসল, লোকালয়ের ঘরবাড়ি,মজুদ ধান চাল সবই তছনছ করছে। ইতিমধ্যে হাজার বিঘা অধিক আলু জমির ফসল, সবজি নষ্ট।
চাসীরা বলেন বন দপ্তর হাতি তাড়ানোর ব্যাবস্থা না করায় স্থানীয় পানিকোটার জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া ৫০টি মতো হাতির দল বিভিন্ন মৌজায় তাড়া খেয়ে তারা ছোটো দলে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে লোকালয় সহ চাষের জমিতে হামলা চালাচ্ছে। এতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকার সর্বত্র।
বুধবার সকালে কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানার খড়িগেড়িয়া মৌজায় ঐ মৃত দেহ উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলে এক্সট্রিম বন বিভাগের কর্তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় চাষীরা। পুলিশ পৌঁছালে বিক্ষোভ হয়। দাবী ওঠে চাষের সমূহ ক্ষতিপূরণ সরকার কে দিতে হবে। মৃত্যুর জন্য পরিবারকে দশ লক্ষ ক্ষতিপূরণ সহ হাতি তাড়ানোর ব্যাবস্থা সরকারকে করতে হবে। প্রসাশন বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ ঘেরাও তুলে নেয় চাষীরা।

 

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!