Sunday, December 5, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুর স্টেশনে চলন্ত সিঁড়ি বিকল,নাজেহাল যাত্রীরা।
Advertisement

খড়গপুর স্টেশনে চলন্ত সিঁড়ি বিকল,নাজেহাল যাত্রীরা।

Advertisement

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা,খড়গপুর: লডাউনের পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে যাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। যাত্রীর চাপ কমানোর জন্য বিকল্প আর একটি ওভারব্রীজ তৈরীর কাজ চলছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে ওভারব্রীজ তৈরীর কাজ শেষ করার। কিন্তু সমস্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত খড়গপুর স্টেশনের একটি এসকেলেটর ও তিনটি লিফট চালু করা হয় নি। ফলে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে মহিলা, বয়স্ক ও রোগীদের ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। খড়গপুর স্টেশনে তিনটি লিফট রয়েছে। একটি উত্তর প্রান্তে মালগুদাম এলাকার দিকে। এই লিফটে উঠে অনায়াসে সাত ও আট নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি রয়েছে মাঝখানে। এই লিফটে উঠে পাঁচ ও ছয় নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়া যায়। আর অপর লিফটি রয়েছে স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে বোগদার দিকে। এই লিফটে উঠে অনায়াসে এক, দুই, তিন ও চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়া যায়। আর এসকেলেটর রয়েছে স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে বোগদার দিকে। এই এসকেলেটরে চেপে সহজেই স্টেশনের ভেতরে যাওয়া যায়। লিফট তিনটি মূলত তৈরি করা হয়েছে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও রোগীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে। আর এসকেলেটর তৈরি করা হয়েছে সাধারণ যাত্রীরা যাতে বিনা কষ্টে দ্রুততার সাথে স্টেশনের ভেতরে যেতে পারেন সেই কথা ভেবে। কিন্তু এখন এই তিনটি লিফট ও একটি এসকেলেটর বন্ধ থাকায় সর্বস্তরের যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। করোনার জেরে গত বছরের মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে লডাউনের সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেইসময় থেকে খড়গপুর স্টেশনের লিফট ও এসকেলেটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেগুলি চালু করা হয় নি। ফলে এখন সিঁড়ি ভেঙ্গে সুস্থ ও অসুস্থ সহ সর্বস্তরের বয়স নির্বিশেষে যাত্রীদের স্টেশনের ভেতরে ট্রেন ধরার জন্য যেতে হচ্ছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের যুক্তি লকডাউন পর্বের পর ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করা ও বেরোনোর জন্য যে রাস্তা ঠিক করা হয়েছে তাতে এই লিফটগুলি ও এসকেলেটর বাদ রাখা হয়েছে। এমনকি এই নিয়ে ভাবনা চিন্তা রয়েছে কিনা সেটাও রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারে নি। পিয়ালি চৌধুরী। বছর ষাটের বৃদ্ধা। পায়ের ব্যথার কারনে ঠিকমত চলতে ফিরতে পারেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে খড়গপুর স্টেশনে এসেছিলেন হাওড়া যাওয়ার লোকাল ট্রেন ধরতে। খুব কষ্ট করেই সিঁড়ি ভেঙ্গে স্টেশনের ভেতরে পৌঁছান। রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন লিফট চালু থাকলে অনেক সাহায্য হত। শিবপ্রসাদ হুই। দাঁতনে থাকেন ৪৪ বছরের এই যুবক। অসুস্থ মাকে নিয়ে যাবেন দক্ষিণ ভারতের একটি হাসপাতালে। রীতিমতো অসুস্থ মাকে কিভাবে সিঁড়ি দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে স্টেশনের ভেতরে ট্রেন ধরতে যাবেন সেটি ভেবে কূলকিনারা করতে পারছেন না তিনি।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

আফসোস করে বললেন লিফট চালু থাকলে অনেক সুবিধা হত। খড়গপুর শহরের ঝাপেটাপুর এলাকার বাসিন্দা একটু ভারী শরীরের রাধেশ্যাম চৌহান সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে বললেন এসকেলেটর চালু থাকলে অনেক সুবিধা হত। কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হত না। খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার পানাছত্র থেকে সপরিবারে মেচেদায় যাবেন হরিপদ দাস। বাচ্চাদের নিয়ে ব্যাগপত্র সহ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়েছে তাঁকে। তিনিও বললেন চলমান সিঁড়িটি চালু থাকলে প্রচুর সুবিধা পেতেন। যদিও এই ব্যাপারে রেলের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম তথা জনসংযোগ আধিকারিক আদিত্য চৌধুরী বলেছেন লকডাউনের পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সেইসময় খড়গপুর স্টেশনের ভেতরে ঢোকার জন্য ও বেরোনোর জন্য একমুখী ব্যবস্থা করা হয়। তারমধ্যে এই এসকেলেটর ও লিফটগুলি রাখা হয় নি। তাই সেগুলি বন্ধ রয়েছে। আর কবে থেকে চালু হবে সেই বিষয়েও তিনি স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেন নি। তিনি জানিয়েছেন পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও কবে সেটি তিনি স্পষ্ট করতে পারলেন না।

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!