প্রয়াত শ্বশুর মহেশ্বর মুর্মু ছিলেন বাম আমলের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী সিপিআইএমের নেতা! তাঁরই পুত্রবধূ সোনালী মর্মু কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী

খড়গপুর ২৪×৭,কেশিয়াড়ি: প্রয়াত শ্বশুর মহেশ্বর মুর্মু ছিলেন বাম আমলের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী সিপিআইএমের নেতা। তাঁরই পুত্রবধূ সোনালী মর্মু এবারে কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। পেশায় প্রাথমিক শিক্ষিকা সোনালী মর্মু এর আগে কোনদিন নির্বাচনে নামেন নি।

এমনকি প্রয়াত শ্বশুর মহেশ্বর মুর্মুর হয়েও কোনওদিন লাল ঝান্ডা ধরে নির্বাচনী ময়দানে নামেন নি। এবারে একেবারে নতুন মুখ হিসাবে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। বামপন্থী পরিবারের গৃহবধু হলেও কোনওদিনই রাজনীতি তিনি করেন নি। লাল ঝান্ডা নিয়ে মিটিং, মিছিলেও যান নি। তবে ২০১০ সাল থেকে তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ২০১৪ সালের মে মাসের পর শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেন। সেই থেকে বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এবারে বিজেপি কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই প্রাথমিক শিক্ষিকাকে প্রার্থী করেছে। যদিও তিনি ভাবতে পারেন নি দল তাঁকে প্রার্থী করতে পারে। তবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত এই প্রাথমিক শিক্ষিকা। কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি কেশিয়াড়ি ব্লক ও দাঁতন এক নম্বর ব্লকের আটটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। মোট বুথের সংখ্যা ২৭৩টি। তিনি জানালেন প্রার্থী হয়ে দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।

প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত টানা বারো ঘন্টা প্রচার করছেন। ইতিমধ্যে ২৬৫টি বুথ ঘোরা হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলি বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হয়ে যাবে বলে তিনি জানালেন। প্রয়াত শ্বশুর ও তাঁর রাজনীতি করার মধ্যে কিছুটা ফারাক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন ” শ্বশুর মহেশ্বর মুর্মু সরকারে থেকে রাজনীতি করেছেন। আর আমি প্রথম থেকেই বিরোধী হিসাবে রাজনীতি করছি।” আর রাজনীতি করার ভাবনা তাঁর একেবারে ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন বলে জানালেন।

তিনি বললেন ” ২০১০ সালের পর থেকে আমাদের পরিবারের উপর একাধিকবার আক্রমণ করা হয়েছে। তৃণমূল প্রচুর আক্রমণ করেছে। জীবন একেবারে অতীষ্ট করে তুলেছিল।এমনকি একদিন রাতে আমার স্বামী বিনোদ মুর্মুকে বাড়ি ফেরার সময় ব্যাপক মারধর করা হয়। সেইসময় তাঁর প্রাণ সংশয় হয়েছিল। তাই বাঁচার লড়াই করার জন্য বিজেপিতে যোগ দিই। বলতে পারেন সেই থেকে রাজনীতি করার ভাবনা শুরু হয় আমার। ঝান্ডা নিয়ে রাজনীতি শুরু করি আমি।” তিনি জানিয়েছেন বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হলে বিধানসভায় সর্বপ্রথমে কর্মসংস্থানের জন্য সরব হবেন। এছাড়া কেশিয়াড়ি বিধানসভা এলাকায় অবৈধ বালি খাদান বন্ধের দাবি জানাবেন।