নিজের নাবালিকা মেয়েকে বিক্রি করে, জোর করে দেহ ব্যবসায়ে নামানোর অভিযোগে গ্রেফতার অভিযুক্ত মা

খড়গপুর ২৪×৭: নাম ভাঁড়িয়ে পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। দশ বছর পর নিজের গর্ভে ধারণ করা নাবালিকা মেয়েকে দালালের হাতে বিক্রি করে দিয়ে জোর করে দেহ ব্যবসায়ে নামানোর অভিযোগে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশের হাতে এক মহিলাকে গ্ৰেফতার হতে হলো।

পুলিশ জানিয়েছে ধৃত মহিলার নাম মিঠু রায় ওরফে রুবিনা বিবি। এই মহিলাকে বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় ওড়িশার ঝাড়শুগুদা এলাকা থেকে গ্ৰেফতার করে খড়গপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এইদিন ধৃত মহিলাকে জেলা আদালতে হাজির করা হয়েছে। জানা গিয়েছে বিচারকের নির্দেশে মহিলার জেল হাজত হয়েছে। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই মহিলার বিরুদ্ধে পকসো আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।আর ধৃত মহিলার নাবালিকা মেয়ে বর্তমানে মেদিনীপুর শহরের একটি সরকারি হোমে রয়েছে।

তবে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ আরও দুজনকে গ্ৰেফতার করে। ভোলা ও সাগর নামে এই দুই যুবক বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এদের মধ্যে মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা ভোলা একজন দালাল। এর কাজ ছিল দালালি করে বিভিন্ন বয়সের যুবতী ও মহিলাদের দেহ ব্যবসায়ে নামানো। পুলিশ জানিয়েছে ২০১৯ সালে খড়গপুর টাউন থানায় এক নাবালিকাকে জোর করে দেহ ব্যবসায়ে নামানোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়।

তারপর তদন্তে নেমে প্রথমে ভোলাকে গ্ৰেফতার করা হয়। পরে খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার জকপুর এলাকার সাগর নামে অপর এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। যদিও সেইসময় ঘটনায় জড়িত নাবালিকার মাকে পুলিশ ধরতে পারে নি। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের চাপে পুলিশের তৎপরতা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে নাবালিকার মা। পুলিশ জানিয়েছে বারো বছর আগে তৎকালীন মেদিনীপুর কোতয়ালি ও বর্তমানে গুড়গুড়িপাল থানার খয়রুল্লাচক এলাকায় স্বামী অসীম রায়কে ছেড়ে দিয়ে এই মহিলা দুই মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে উঠে।

বাপের বাড়ি মেদিনীপুর কোতয়ালি থানার তলকুই এলাকায়। সেখানে এই মহিলা দুই মেয়েকে দিদার কাছে রেখে জাহাঙ্গীর নামে এক পুরুষের সাথে পালিয়ে যান। এই জাহাঙ্গীরের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভবানীপুর থানার কুমারপুর এলাকায়। সেখানে নাম ভাঁড়িয়ে নতুন আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড বানিয়ে আট বছর ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে সেখানে মহিলা দেহ ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। আট বছর সেখানে থাকার পর এই মহিলা হঠাৎ করে একদিন পালায়।

চলে যান ওড়িশার রৌরকেল্লা এলাকায়। অভিযোগ পালানোর সময় তিনি জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে সোনাদানা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। সেখানে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। সেখানে দেহ ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি একবার পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন। এদিকে এই দশ বছরের মধ্যে মহিলার বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আর ছোটো নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার জকপুর এলাকার বাসিন্দা সাগর নামে এক যুবকের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়।

পরে এই সাগরের সঙ্গে নাবালিকা অবস্থায় মা ও দিদা বিয়ে দিয়ে দেয়। পরে সাগর বিবাহিত জানার পর নাবালিকা তাকে ছেড়ে এক মাসির বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু দিন চারেক পর এই মহিলা মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যায়। অভিযোগ মেয়েকে দালাল ভোলার কাছে বিক্রি করে দেয়। তারপর ভোলা এই নাবালিকাকে জোর করে দেহ ব্যবসায়ের কাজে লাগাতে শুরু করে।

এই অবস্থায় ২০১৯ সালে খড়গপুর শহরের ডিভিসি এলাকায় একটি হোটেলে এক যুবকের সাথে নাবালিকার পরিচয় হয়। সেই যুবক একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। আর খড়গপুর টাউন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপরেই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। শেষ পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।