বৃষ্টি নেই জলের অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির, মাথায় হাত চাষীদের

খড়গপুর ২৪×৭,ডেবরা: চৈত্রের দাবদাহে জ্বলছে প্রকৃতি। নদীতে জল নেই। চাষের জমি ফেটে চৌচির। মাথায় হাত চাষীদের। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ডেবরা ব্লকের চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক শো কৃষক পরিবার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের পক্ষে দ্বীপান্তর মুক্তি সংগ্রাম মঞ্চের নেতৃত্ব খড়গপুর মহকুমা শাসক থেকে শুরু করে বিডিও এবং সেচ দফতরের আধিকারিকদের সাথে দেখা করেছেন। অবিলম্বে নদীতে যাতে জল ছাড়া হয় তার আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ। ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে এবারে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই সংগঠনের নেতারা।

যদিও ডেবরা ব্লকের বিডিও জানিয়েছেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ডেবরা ব্লকের ভবানীপুর, ভরতপুর, গোলগ্ৰাম ও সত্যপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে প্রবল গরমে জলের অভাবে। এই চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৭২টি মৌজার চাষবাস কংসাবতী নদীর জলের উপর নির্ভরশীল। মেদিনীপুর শহরের কাছে অ্যানিকেট বাঁধ থেকে জল না ছাড়ার কারনে কংসাবতী নদী একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে। এলাকায় জলের স্তর এতটাই নেমে গিয়েছে যে সাব মার্সিবল কিংবা টিউবওয়েল চালিয়ে জল উঠছে না। মোটর চালিয়ে সামান্য যে টুকু জল পাওয়া যাচ্ছে সেই জলের জন্য রীতিমতো টানাটানি শুরু হয়েছে।

কৃষকদের মধ্যে এই জল পাওয়া নিয়ে বিবাদ একটি নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যে কোনও সময় বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই নিয়ে অনেকেই চিন্তায় রয়েছেন। কৃষি অধ্যূষিত এই চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ৭২টি মৌজায় ৮৮০০ একর চাষ জমি রয়েছে। তারমধ্যে বেশির ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়। আর কিছু জমিতে বাদাম ও তিল চাষ করা হয়। তারমধ্যে প্রায় ৬০০ একর জমির ধান জলের অভাবে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার মুখে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা। এছাড়া বাদাম ও তিল চাষ একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানালেন দ্বীপান্তর মুক্তি সংগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক গৌতম মাজি। তিনি বলেছেন প্রতি বছর এই গরমের সময় মেদিনীপুর শহরের কাছে কংসাবতী নদীর উপর অ্যানিকেট বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়।

ফলে এই এলাকায় কংসাবতী নদীতে জলের অভাব হয় না। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত অ্যানিকেট বাঁধ থেকে জল না ছাড়ায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানালেন। বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে খড়গপুর মহকুমা শাসক থেকে শুরু করে বিডিও এবং সেচ দফতরের আধিকারিকদের সাথে দেখা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে অবিলম্বে জল ছাড়ার জন্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জল না ছাড়ায় তিনি রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন এবারে বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন বলেছেন এই নিয়ে কেউ দেখা করেন নি। তবে ডেবরার বিডিও শিঞ্জিনী রায় জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে সেচ দফতরকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।