রেল ও রাজ্য সরকারের প্রশাসনের টানাপোড়েনের জেরে করোনায় মৃত্যু হওয়া তিনটি মৃতদেহ পড়ে রইল খড়গপুর রেলওয়ে মেইন হাসপাতালে

খড়গপুর ২৪×৭: রেল ও রাজ্য সরকারের প্রশাসনের টানাপোড়েনের জেরে করোনায় মৃত্যু হওয়া তিনটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে খড়গপুর রেলওয়ে মেইন হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে। এই নিয়ে মৃতদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির জন্য রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ি করেছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া খড়গপুর আইআইটির বিধানচন্দ্র রায় টেকনোলজি হাসপাতালে অপর এক করোনায় মৃতের দেহ সোমবার রাত থেকে পড়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে রেল ও আইআইটি কেন্দ্রীয় সরকারের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালে চারটি মৃতদেহ পড়ে রইল। এদিকে রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খড়গপুর শহরের আমরা বামপন্থী নামে সংগঠনটি।

যদিও এই গোটা পরিস্থিতির দায় রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য করোনায় মৃতদের দেহ নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। অপরদিকে রাজ্য সরকারের প্রশাসনের বক্তব্য রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময়মত এই মৃত্যুর খবর জানায়নি। তবে যে তিনজনের মৃতদেহ এখন পড়ে রয়েছে তারমধ্যে এই হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ চিকিৎসক কানাইলাল দের মৃতদেহ রয়েছে। মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত ৯১ বছরের এই প্রবীণ চিকিৎসকের।

গত ১৭ এপ্রিল তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই চিকিৎসকের বাড়ি খড়গপুর শহরের আরামবাটি এলাকায়। এছাড়া রয়েছে লছমী বাই নামে ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। ক্যান্সার আক্রান্ত এই বৃদ্ধাকে শনিবার সকালে এই রেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। তারপর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই এই বৃদ্ধার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে হাসপাতালে। মৃতদেহ কবে সৎকার করা হবে এই বিষয়ে জানার জন্য সোমবার থেকে পরিবারের সদস্যরা রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু কোনও বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনও সদুত্তর পান নি। এই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। বৃদ্ধার ভাইঝি পেশায় বিদ্যালয় শিক্ষিকা শোভা রজক বলেছেন ” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল মৃতদেহ সৎকার না করার কারনটি জানিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেটি না জানানোয় আমাদের এই পাঁচদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটাতে হল।” অপর মৃতের নাম শিবপ্রসাদ সিং। বাড়ি ইন্দা এলাকায়। করোনায় এই ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে রবিবার। তাঁর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে চারদিন ধরে।

এছাড়া খড়গপুর আইআইটির বিধানচন্দ্র রায় টেকনোলজি হাসপাতালে পড়ে রয়েছে করোনায় মৃত আইআইটির এক হল কর্মচারীর মৃতদেহ। সোমবার রাতে তপন কুমার দে নামে এই কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃতদেহ মঙ্গলবার রাতে সৎকার করার কথা থাকলেও হয় নি। সবমিলিয়ে খড়গপুর শহরে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। এদিকে গত চার পাঁচ দিন ধরে মৃতদেহ পড়ে থাকার জন্য খড়গপুর রেলওয়ে মেইন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারকে দায়ি করেছে। হাসপাতালের সিএমএস সুশীল কুমার বেহেরা বলেছেন ” করোনায় মৃতদের দেহ সৎকারের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।

আমরা এখানে শখ করে করোনায় মৃত্যু হওয়া তিনটি দেহ রাখিনি। আমরাও চাই করোনায় মৃত্যু হওয়া দেহ দ্রুত সৎকার হোক। কিন্তু রাজ্য সরকারকে লিখিতভাবে জানানোর পরেও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দ্রুত এই তিনটি মৃতদেহ ছেড়ে দেওয়ার জন্য।” আর খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন বলেছেন ” রেল হাসপাতাল যদি সঠিক সময়ে এই মৃত্যুর ব্যাপারে জানাতো তাহলে আরও আগে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

আমরা বিষয়টি জানার পরেই উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি বুধবার রাতেই রেলের হাসপাতালের তিনটি ও আইআইটি হাসপাতালের একটি মৃতদেহ সৎকার করা যাবে। তার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেদিনীপুর থেকে চারটি করোনা মৃতদেহ বাহি গাড়ি আসার কথা রয়েছে। আর সেটা হবে মেদিনীপুর শহরের বৈদ্যুতিক চুল্লিতে।” অপরদিকে খড়গপুর শহরের আমরা বামপন্থী নামে সংগঠনের আহ্বায়ক অনিল দাস গোটা ঘটনার জন্য রেল হাসপাতালের ভূমিকাকে দায়ি করেছেন। তিনি বলেন রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল রাজ্য সরকারকে সঠিক সময়ে এই করোনায় মৃত্যুর খবর জানানো। কিন্তু সেটা না করায় পরিবারগুলিকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হল। বর্তমানে সবমিলিয়ে খড়গপুর শহরে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারে।