করোনা বিধি লঙ্ঘন! খড়গপুরে পুলিশের অভিযানে, গ্রেফতার ২১ জন

খড়গপুর: ঘুম ভেঙেছে পুলিশের। বেপরোয়া মানুষজনকে সবক শেখাতে এবার খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ রাস্তায় নামল। শুক্রবার দুপুরে খড়গপুর টাউন থানার আইসি রাজা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে খড়গপুর কলেজ এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে।

তাতে গ্ৰেফতার করা হয়েছে ২১জনকে। তারমধ্যে অধিকাংশ দোকানদার। ভাতের হোটেল থেকে শুরু করে টিফিনের দোকান, চা দোকান, পান বিড়ির দোকান সহ লটারি বিক্রির দোকান মালিকদের ধরা হয়েছে। এছাড়া মাস্কবিহীন পথচলতি মানুষজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

তাতে ছাড় পায় নি গাড়ি চালক ও আরোহীরা। এইদিন খড়গপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি হোটেল মালিক ও কর্মচারী থেকে শুরু করে টিফিনের দোকান সহ পান বিড়ির দোকান মালিকদের গ্ৰেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এই এলাকায় একটি কাপড় দোকান মালিককে ধরা হয়েছে। আবার পুলিশকে দেখামাত্র কয়েকজন দোকান মালিক দোকান ফেলে পালিয়ে যায়।

এছাড়া খড়গপুর কলেজ এলাকায় পুলিশ বেশ কয়েকটি দোকান যেমন বন্ধ করিয়েছে পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্ৰেফতার করেছে। তারমধ্যে একটি আসবাবপত্র বিক্রির দোকান ও দুটি লটারির টিকিট বিক্রি দোকানের মালিক রয়েছেন। এছাড়া ইন্দা কমলাকেবিন এলাকায় কয়েকটি দোকান বন্ধ করানো হয়েছে। এই ব্যাপারে খড়গপুর টাউন থানার আইসি রাজা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন এইদিন দুপুরে অভিযান চালিয়ে বিপর্যয় প্রতিরোধ আইনে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই অভিযান প্রতিদিন চলবে বলে তিনি জানালেন। এইদিন সন্ধ্যার পরে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গিয়েছে। এদিকে খড়গপুর শহরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি পার করে ১২৮ ছুঁয়েছে। তারমধ্যে রেলের রয়েছে ৫৪ জন। আইআইটির রয়েছে আট জন। বাকি পুর এলাকার। রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে সকালে দশটার পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া বাকি বাজার দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।

কিন্তু সরকারের এই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গোটা খড়গপুর শহরের সর্বত্র এই সময়সীমার পরেও বাজার দোকান সব খোলা থাকছে। বেশিরভাগ দোকান মালিক ও সবজি বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকে না। আর থাকলেও সেটি থুতনিতে থাকে। আবার বহু মানুষেরও এখনও হুঁশ ফেরে নি। অনেকেই মাস্ক ছাড়াই দিব্যি বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

অথচ এই খড়গপুর শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে পাঁচশো অতিক্রম করে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা দশ পার হয়ে গিয়েছে। শহরের এমন কোনও এলাকা কিংবা পাড়া নেই যেখানে করোনা আক্রান্ত নেই। শহরের সর্বত্র করোনা আক্রান্তে ছেয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।