Sunday, September 26, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুর কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলে চালু হলো সেফ হোম

খড়গপুর কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলে চালু হলো সেফ হোম

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭:  সবাই মিলে এই করোনা যুদ্ধ লড়ব। আর জিতব। এই শপথ নিয়ে সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে একটি সেফ হোমের যাত্রা শুরু হল। পথ দেখাল খড়গপুর। এই শহরের ১২টি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে বুধবার চালু হল সেফ হোমটি। খড়গপুর কলেজের ছাত্রী আবাসন সালেহা খাতুন ছাত্রী নিবাসে এই সেফ হোম চালু হয়েছে।

লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে ৪০টি শয্যার ব্যবস্থা করা। তবে আপাতত ২০টি শয্যা নিয়ে এই সেফ হোম চালু হল। জেলায় তো বটেই। কলকাতার বাইরে রাজ্যে সম্ভবত এইরকম সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে একটি সেফ হোম চালু হওয়া এই প্রথম। কোনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়। তবে শুরুর দিনে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায়, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপক সরকার, খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মধুমিতা বিশ্বাস প্রমুখ।

- Advertisement -

প্রত্যেকে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারসাথে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন বলেন ” এই লড়াইটা সবার লড়াই। সরকারের তরফ থেকে যতটা সাহায্য করা যায় করেছি। আপনাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছি।” পাশাপাশি তিনি সকলের কাছে আবেদন করে বলেছেন ” যে যেভাবে পারবেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। এছাড়া যা সাহায্য দরকার হবে আমরা পাশে আছি। সাহায্য করব।” আর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় বলেছেন ” এরকম আর একটি সেফ হোমের দরকার ছিল। প্রত্যেকে আমরা আপনাদের সাথে রয়েছি।”

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে ও খড়গপুর মহকুমা শাসকের তত্ত্বাবধানে এই সেফ হোম চালু হয়েছে। এখানে উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের করোনা আক্রান্তদের রাখা হবে। এখানে দিনরাতের জন্য অক্সিজেন পরিষেবা রয়েছে। তবে ভেন্টিলেটরের কোনও ব্যবস্থা করা নেই। সেক্ষেত্রে কোনও করোনা আক্রান্তের অবস্থা খারাপ হলে নিজেদের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শুধু হাসপাতালে পাঠানো নয়। প্রয়োজনে কোনও করোনা আক্রান্তকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে বাড়ি থেকে এখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হবে।

আর এই পুরো পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এখানে ১২ জন নার্স নির্দিষ্ট সময় অন্তর দিনরাত সেবার জন্য থাকবেন। দুজন সুপারভাইজার রয়েছেন। আর আটজনের একটি চিকিৎসকের দল রোগীদের চিকিৎসার জন্য কাজ করবেন। এই চিকিৎসকের দল সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন। এই ব্যাপারে অন্যতম উদ্যোক্তা সংস্থা সেন্ট জনস অ্যাম্বুলেন্স ব্রিগেডের খড়গপুর শাখার ব্রিগেডিয়ার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত অসীম নাথ জানিয়েছেন ” এখনও পর্যন্ত ১২ জন চিকিৎসক যুক্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত আটজন নার্স এসেছেন। আরও চারজন আসবেন। আমরা কৃতজ্ঞ তাঁদের প্রতি।

কৃতজ্ঞ খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেনের প্রতি। মূলত তাঁরই তৎপরতায় শুধু জেলা নয়। সম্ভবত রাজ্যে প্রথম কলকাতার বাইরে এরকম একটি বেসরকারি সেফ হোম চালু করা সম্ভব হয়েছে।” প্রসঙ্গত খড়গপুর শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সাতশো পার হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা পনেরো।

এই অবস্থায় একমাত্র খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে সেফ হোম চালু রয়েছে। বেশিরভাগ আক্রান্ত বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থাকছেন। তাতে অনেকের অবস্থা পরবর্তীকালে খারাপ হচ্ছে। জীবন সংশয় পর্যন্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় এই বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খড়গপুর কোভিড ভলান্টিয়ারদের এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবেই অনেকটাই আশার আলো দেখাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!