খড়গপুরে নতুন করে করোনা সংক্রমন ১৪৮, বাড়ছে উদ্বেগ

খড়গপুর ২৪×৭: সেফ হোম হিসাবে চালু করা হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতির চাপে পড়ে কার্যত করোনা হাসপাতালে পরিণত হয়েছে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সেফ হোমটি।

যদিও করোনা হাসপাতালের কোনও পরিকাঠামো নেই। শুধুমাত্র উন্নত মানের অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে এখানে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন ঠিকই। পাশাপাশি প্রায়ই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। যেমন বৃহস্পতিবার দুজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সেফ হোমটি এইচ ডি ইউ হওয়ার কথা।

কিন্তু কবে চালু হবে কেউ কিছু জানেন না। ফলে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে চিকিৎসক সহ গোটা ইউনিটকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নত মানের অক্সিজেন পরিষেবা দিয়েও অনেক করোনা আক্রান্তদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। সংকটজনক হয়ে পড়া এইধরনের করোনা আক্রান্তদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে ভেন্টিলেশনে কিংবা আইসিইউ বিভাগে রাখা।

কিন্তু এসবের কোনকিছুই না থাকায় শুধুমাত্র উন্নত মানের অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। এই ব্যাপারে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন এখন আর সেফ হোম নেই। করোনা হাসপাতালের মত অবস্থা হয়েছে। এখানে রেখেই চিকিৎসা করতে হচ্ছে। কারন শালবনি সহ অন্যান্য হাসপাতালে বেড পাওয়া যাচ্ছে না।

পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন এখানে ভেন্টিলেশন বা আইসিইউ নেই। ফলে উন্নত মানের অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। অনেকের অক্সিজেন মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অক্সিজেন দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা করলেই হবে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও কর্মী দরকার। যার কোনও কিছুই এখানে নেই বলে তিনি জানালেন। আর এইচ ডি ইউ কবে চালু হবে সেই বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানতে পারলেন না। এদিকে খড়গপুর শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় রেল ও পুরসভা নিয়ে মোট ১৪৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত খড়গপুর শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর কোনও সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারছেন না। তবে মনে করা হচ্ছে খড়গপুর শহরে মৃত্যুর সংখ্যা সেঞ্চুরি পার হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন খড়গপুর শহরে গড়ে চার থেকে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে খড়গপুর শহরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে।