সদ্য মা হওয়া এক মুমূর্ষ রোগীকে নিজের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন, সবংয়ের এক ব্যাবসায়ী

খড়গপুর ২৪×৭,সবং:  সোশ্যাল মিডিয়া মানেই আর পাঁচটা মানুষের কোথাও যেন একটা কুপ্রভাবের কথা মনে হয়।

কিন্তু কুপ্রভাবকে দূরে সরিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাড়া দিয়ে। সদ্য মা হওয়া এক মুমূর্ষ রোগীকে নিজের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন সবংয়ের এক ব্যাবসায়ী। অন্যান্য দিনের মতো গতকাল শনিবার সকাল বেলায় নিজের মোবাইলে ফেসবুক ঘাটছিলেন সবং ব্লকের তেমাথানি এলাকার ব্যবসায়ী সুশান্ত বেরা।

মোবাইলে ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎই আর্জেন্ট A+ রক্ত চেয়ে এক ব্যক্তির পোস্ট দেখতে পান সুশান্ত বেরা বাবু। ওই পোস্টে চাওয়া রক্তের গ্রুপ ও সুশান্ত বাবুর রক্তের গ্রুপ একই হওয়ায়। তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি। তিনি তৎক্ষণাৎ ওই পোস্টে দেওয়া নাম্বারে ফোন করেন এবং স্বইচ্ছায় রক্তদান করার কথা বলেন। তারপরই নিজের বাইকে করে দৌড়দেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে। পৌঁছেই মেদিনীপুর ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান করেন। সদ্য মা হওয়া মুমূর্ষ রোগীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন।

প্রসঙ্গত,গত মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দশগ্রাম অঞ্চলের হরেকৃষ্ণ বুথ এলাকার বাসিন্দা,অজয় নায়েকের স্ত্রী অঞ্জলি নায়েক বাচ্চা প্রসব বেদনায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারপর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয় ওই গৃহবধূর। তড়িঘড়ি বিকেলে ওই গৃহবধূকে সবং এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি সংকট জনক হওয়ায়। নার্সিংহোমের কর্মরত ডাক্তারা মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করেন।

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে ওই গৃহবধূ ছেলে সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর সন্তান ভালো থাকলেও মার অবস্থা সংকটজনক বলে জানান ডাক্তাররা। ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক্তাররা বলেন মার শরীরে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি A+ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন। রক্ত না দিলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এই কথা শোনার পর ভেঙে পড়েন অজয় নায়েক। তারপরই রক্তের জন্য জেলার ব্লাড ব্যাংক গুলিতে যান।

কিন্তু সেখানে বলে দেওয়া হয় পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত নেই। তখনই অজয় নায়েক বাড়ির পাশের এক ব্যক্তিকে ফোন করে বলেন, স্ত্রীর A+ (এ পজেটিভ) রক্তের প্রয়োজন। ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি এলাকার ওই ব্যাক্তি ফেসবুকে রক্ত চেয়ে পোস্ট করেন। ওই পোস্টে দেওয়া নাম্বার দেখে সবংয়ের তেমাথানি এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত বেরা পেশায় ব্যাবসায়ী পোস্টে দেওয়া নাম্বারে ফোন করেন এবং রক্তদান করার কথা বলেন। তারপর মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে গিয়ে রক্তদান করে প্রসূতি মা অঞ্জলি নায়েককে প্রাণে বাঁচালেন।

সুশান্ত বাবুর এই মূল্যবান কাজে খুশি ওই গৃহবধূর পরিবার। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী সুশান্ত বেরা বলেন, আমি সর্বদাই মানুষের বিপদে এগিয়ে আসি। এর আগেও বেশ কয়েকবার নিজের সামর্থ্য মত মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। আগামীতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবো। পরিবার সূত্রে জানা গেছে,রক্ত দেওয়া পর এখন মা ও ছেলে সুস্থ আছে।