ঝড়ের আতঙ্কে মরল ছাগল! ক্ষতিপূরণ চেয়ে সবং ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন মালিকের, ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল আবেদনপত্র

KHARAGPUR 24X7(SABANG): ইয়াস ঝড়ের আতঙ্কে মরল ছাগল! ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ ছাগলের মালিক। এমন আশ্চর্য জনক ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকে। ‘ইয়াস’ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গত ৩ জুন থেকে ড্রপবক্সে আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগে। গত ৪ জুন এমনই একটি আবেদন জমা পড়েছে, সবং ব্লকের ৪ নম্বর দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

আবেদন কারীর নাম তাপস কর। বাড়ি সবংয়ের কোলন্দা গ্রামে। আবেদনকারী তাঁর আবেদনে লিখেছেন, “গত ইংরেজির ২৬-০৫-২০২১ তারিখে ইয়াস ঝড়ের কারনে আমার ছাগল আতঙ্কে মারা গেছে। যাহাতে আমি ছাগলের ক্ষতিপূরণ পেতে পারি তার জন্য আবেদন করছি।”

এই আবেদন পত্র ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মজাদার এই আবেদন পত্র নিয়ে হাসির খোরাক চলছে নেট দুনিয়ায়। ভাইরাল হওয়া আবেদনপত্রে লাল স্কেচ দিয়ে হাইলাইট করা আছে ওই লাইনটি। আবেদনপত্রের কোনে লাল কলমে লেখা ৩২৫৫১/২৫৩। শুধু এই আবেদনই নয়। সবং ব্লকের বিলকুয়া গ্রামের বাসিন্দা রামপদ জানা তাঁর আবেদনে লিখেছেন, ‘ঘুর্ণিঝড়ে তাঁর পুকুরে ৩০০০০০০০ (তিন কোটি) টাকার মাছ মারা গেছে।’

এমন সব আবেদন জমা পড়ার কথা স্বীকার করেছেন, সবংয়ের বিডিও তুহিনশুভ্র মহান্তি। বিডিও বলেন, ‘নানা রকম আবেদন জমা পড়ছে। আবেদন জমা পড়ার পর তদন্ত করে দেখা হবে ক্ষয় ক্ষতির সত্যতা।’

সবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তের কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন,এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আবেদনটি করা হয়েছে। অন্য কেউ হয়তো আবেদন লিখে দিয়েছে। আসলে গ্রামের সাধারণ মানুষ তারা। তবে ওই ব্যক্তির আবেদন পত্রটি দেখে, স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। আমরা বলেছি, বিডিও সাহেব উনার লোকজন দিয়ে তদন্ত করে দেখার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা তৈরি করুন।

এপ্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আতঙ্কে ছাগল মারা যাওয়ার আবেদনকারী তাপস করের সঙ্গে। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমার ঘর বাড়ির তেমন কিছু ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। গোয়ালের বাইরে ছাগলটি বাঁধাছিল। ঝড়ের সময় ভয়ে মারা গেছে। সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে শুনে বিডিও’র কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদনও করেছি।