Monday, September 27, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরসরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ চালু করায়, রেলকে 'শো-কজ, নোটিশ...

সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ চালু করায়, রেলকে ‘শো-কজ, নোটিশ পাঠালো প্রশাসন

- Advertisement -

KGP 24X7: রাজ্য সরকারের কড়া বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ চালু করার কারন দর্শানোর চিঠি দেওয়া হল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার খড়গপুর মহকুমা শাসক এই শোকজ চিঠি পাঠিয়েছেন খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষকে।

আইএনটিইউসির একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মহকুমা শাসক এই কারন দর্শানোর চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সিডবলুএম এইধরনের কোনও চিঠি প্রাপ্তির বিষয় স্বীকার করে নি। তবে এই বিষয়ে কোথাও একটি ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারনা তৈরি হয়েছে বলে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ মনে করছেন। এদিকে খড়গপুর মহকুমা শাসকের এই ভূমিকায় খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও খুশীর হাওয়া।

- Advertisement -

কারন এই পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য সরকারের কড়া বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ফের ওয়ার্কশপ চালু করা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা চেয়েছিলেন খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের কড়া বিধিনিষেধ মেনে চলুক। কিন্তু সেটি না হওয়ায় কর্মীরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারউপর কোভিড বিধি মেনে ৫০ শতাংশ কর্মীদের নিয়ে রোটেশানালি কাজ করানো হলেও বাকি কোনও বিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

বিশেষ করে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সমস্ত স্তরের কর্মীদের এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ হয় নি। দ্বিতীয় ডোজ তো দূরের কথা। অনেক কর্মীর প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন হয় নি। ফলে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক নিয়েই সর্বস্তরের কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। এই বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ভ্যাকসিন চলে আসার পর থেকে কর্মীরা দাবি করে আসছেন ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু আজ পর্যন্ত খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করতে পারে নি। প্রতিটি কর্মীদের বাধ্য হয়ে খড়গপুর রেলওয়ে মেইন হাসপাতালে গিয়ে অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া পার করে ভ্যাকসিন নিতে হচ্ছে।

আবার ভ্যাকসিন না থাকার কারণে অনেককেই দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে কর্মীদের সময় ও শক্তির অপচয় হচ্ছে। তাছাড়া ওয়ার্কশপের ভেতরে বিভিন্ন শপগুলিতে নিয়মিত স্যানিটাইজেশন করা হয় না বলে অভিযোগ। ফলে যে কোনও সময় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সর্বস্তরের কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত এই রাজ্যে কড়া বিধিনিষেধ চালু হওয়ার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন অর্থাৎ এক জুন মঙ্গলবার থেকে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ চালু করা হয়। যদিও কড়া বিধিনিষেধের প্রথম পর্বের ১৫ দিন ওয়ার্কশপ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এই ব্যাপারে খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন জানিয়েছেন আইএনটিইউসির একটি অভিযোগের ভিত্তিতে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন, অতিমারি আইন ও রাজের মুখ্যসচিবের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারন বিশ্লেষণ করে জানাতে। এছাড়া ওয়ার্কশপ চালু করার কারনও ব্যাখ্যা করার কথা বলা হয়েছে।

অপরদিকে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সিডবলুএম বিজয় কুমার রথ বললেন ” কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারনা তৈরি হয়েছে। রেলের হেড কোয়ার্টারের নির্দেশ মেনে ওয়ার্কশপ চালু করা হয়েছে। আর কোভিডের সমস্ত বিধি মেনে ওয়ার্কশপ চালু করা হয়েছে। কর্মীর সংখ্যা অর্ধেক রেখে কাজ হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত খড়গপুর মহকুমা শাসকের এইধরনের কোনও চিঠি পান নি। চিঠি এসেছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। যদি এরকম কোনও চিঠি পাঠানো হয় তাহলে জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি জানালেন। আর দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে মেন্স ইউনিয়নের অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক অজিত ঘোষাল বলেছেন ” খড়গপুর মহকুমা শাসক চিঠি দিতেই পারেন। তার জবাব সিডবলুএমকে দিতে হবে।

আর জবাব কি দেয় দেখি। তারপর যা বলার বলা হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।” তবে এবারে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষকে মহকুমা শাসকের পাঠানো চিঠি নিয়ে রেল ও রাজ্য সরকারের দ্বন্দ্ব কোনদিকে মোড় নেয় সেইদিকে সকলে তাকিয়ে রয়েছেন। কারন খড়গপুর শহরে রেল ও রাজ্য সরকারের চলতি দ্বন্দ্বের মধ্যে এই চিঠি আলাদা একটি মাত্রা এনে দিতে চলেছে সেই বিষয়ে কোনও সংশয় নেই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!