নদীর জলস্তর বাড়ছে, জলমগ্ন ঘাটালের বেশকিছু এলাকা

KGP 24X7(GHATAL): টানা বৃষ্টির ফলে জলস্তর বাড়ছে নদী গুলিতে। ঘাটালের ঝুমি নদীর জল বেড়ে প্লাবিত বেশকিছু এলাকা। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে শিলাবতী নদীর জল। ঘাটাল পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। ৩টি ওয়ার্ডে পৌরসভার পক্ষ থেকে সরকারি নৌকা নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে ঝুমি নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল ব্লকের মনশুকা-১, মনশুকা-২, ইড়পালা ও সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। এভাবে টানা বৃষ্টি হতে থাকলে বা জলাধার থেকে আরও বেশি জল ছাড়লে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ঘাটালে। ঘাটালের মনশুকা এলাকায় জলের তোড়ে ঝুমি নদীর উপর থাকা দুটি বড় কাঠের সেতু ভেঙে গেছে। বেশকিছু বাঁশের সাঁকো ভেঙেছে গড়বেতা ও মেদিনীপুর সদর ব্লক এলাকাতেও। নদী বাঁধে নজরদারি চালাচ্ছে সেচ দপ্তর।

পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৎপর ঘাটাল ব্লক ও মহকুমা প্রশাসন। ঘাটালের মহকুমা শাসক শৌভিক চট্টোপাধায় জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে বৈঠক করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাটাল পৌরসভা এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। মশুকার দিকে কিছু এলাকায় জল ঢুকেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঘাটালে একটি এনডিআরএফ এর টিম রয়েছে। পরিস্থিতির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।’

অতিবৃষ্টি হলেই ফি বছর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় ঘাটালে। শিলাবতী, রূপনারায়ণ, ঝুমি, কেঠিয়া নদীর জলে প্লাবিত হয় ঘাটাল শহর সহ গ্রামীণ এলাকা। ২০১৭ সালে ঘাটালের প্রতাপপুরে শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল ঘাটাল, দাসপুরের ৮১ মৌজা। পরিস্থিতি এতটায় খারাপ হয়েছিল যে, হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জলবন্দি হয়ে পড়েছিল বেশকিছু পরিবার। স্রোতের মুখ থেকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করতে হয়েছিল জলবন্দি মানুষজনকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ঘাটালে এবারে পরিস্থিতি একটু অন্য রকম। অন্যান্য বার ঘাটাল শহরে জল ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয় আশপাশের আজবনগর, শ্রীপুর, দেওয়ানচক সহ বিভিন্ন এলাকা। ঝুমি নদীর জলের চাপ বেশি হওয়ার মনশুকার দিকে আগে জল ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা কুহেলী বর্মণ, মানস সামন্তরা বলেন, এবার হুগলী জেলায় গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদীতে বেশি জল বাড়ায় জলের চাপ বেড়েছে ঘাটালের ঝুমি নদীতে। কজওয়ে দিয়ে ঝুমি নদীর জল ঢুকেই প্লাবিত হয়েছে মনশুকা, সুলতানপুর, ইড়পালা সহ কিছু এলাকা। তুলনা মূলক ভাবে শিলাবতী নদীতে জলের চাপ কম হওয়ায় ঘাটাল শহর জলমগ্ন হচ্ছে ধীর গতিতে।

ঘাটাল্র শহরের পুরাতন বাসট্যান্ড এলাকার দোকাদাররা দোকান থেকে জিনিসপত্র নিরাপদ জায়গায় সরাতে শুরু করেছে। ঘাটাল পৌরসভার পৌর প্রশাসক বিভাস ঘোষ বলেন, ১০টি ওয়ার্ড সম্পূর্ন রূপে জলমগ্ন হয়েছে। ২টি ওয়ার্ড আংশিক ভাবে জল মগ্ন। পৌরসভা এলাকার মানুষজনকে সতর্ক করা হয়েছে। নৌকা সহ সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’ ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাজি বলেন, ঘাটাল ব্লকের ৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জল মগ্ন হয়েছে। কিছু মাটির বাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রাথমিক সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’