প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি সাড়া,শেষপর্যন্ত বেহাল রাস্তা সংস্কারের নেমে পড়লেন গ্রামবাসীই

KGP 24X7(SABANG): বেহাল রাস্তা সারানোর জন্য বারবার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ বয়নি। তাই পঞ্চায়েত দফতরের মুখাপেক্ষী না থেকে শেষ পর্যন্ত রাস্তা সারাতে উদ্যোগী হয়েছেন স্থানীয়রাই। এবার,নিজেদের খরচে রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হলেন  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দশগ্রাম অঞ্চলের মুসলিম পল্লী এলাকার বাসিন্দারা।

দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মুসলিম পল্লী এলাকার আজিত আলি সাহার বাড়ি থেকে কাচারি বাগান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার মোরাম রাস্তাটি। দীর্ঘ বেশকয়েক বছর ধরে ভাঙা, খানাখন্দে ভরা,জরাজীর্ণ,বিপজ্জনক হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই রাস্তার উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী।

তাঁদের আশা ছিল, গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে হয়তো  গ্রামের কাঁচা রাস্তা একদিন পাকা হবে। অন্তত তা ঢালাই রাস্তায় পরিণত হবে। অভিযোগ,গত বেশকয়েক বছর ধরে আবেদন-নিবেদনে শুধু আশ্বাস মিলেছে। কাজের কাজ কিছু হয়নি। এবছরও বৃষ্টিতে গ্রামের রাস্তার অবস্থা বেহাল। কাদা রাস্তায় হাঁটা দায়। তাই আর অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের টাকা খরচ করে রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে এলেন গ্রামের বাসিন্দারাই।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ”আমরা গ্রামের রাস্তা সংস্কারের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, থেকে সকলকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। তাই অবশেষে আমরা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করতে শুরু করলাম।” গত কয়েক বছর আগে রাস্তায় মোরাম দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে গ্রামের রাস্তার কোন কাজ হয়নি বলে গ্রামবাসীদের দাবি। এনিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এব্যাপারে উক্ত এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সানাউল দিলবার মীর অবশ্য বেহাল রাস্তার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, সত্যিই এই বর্ষার জন্য রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়ে পড়ে রয়েছে। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। তাই গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন। এই রাস্তার জন্য ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তায় তৈরি হওয়ার জন্য স্কিম এপ্রুভল হয়ে গেছে। এলাকায় বোর্ড লাগানো হয়েছে। অতিরিক্ত বর্ষার জন্য মোরাম ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি খুব শীঘ্রই এই রাস্তার কাজ শুরু হবে, মানুষের ভোগান্তি মিটবে।

অন্যদিকে এ-ব্যাপারে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অতনু সিংহ বলেন, শুধু মুসলিম পল্লী নয়। পুরো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোরামের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মোরাম আনার জন্য ফিফটিন ফিন্যান্স থেকে সমস্যা রয়েছে। আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে বেশ কয়েকবার মোরাম আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।

মোরাম খাদান গুলো বন্ধ থাকার কারণে, গত তিন-চার মাস ধরে মোরাম কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে সমগ্র সবং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ও এসডিও সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে খুব শীঘ্রই এই রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস মিললেও, আদবে কবে সেই কাজ শুরু হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।