EXCLUSIVE: শশুর বিজেপি করায়,জননী সুরক্ষা যোজনা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত অন্তঃসত্ত্বা বৌমা

KGP 24X7:  শ্বশুর বিজেপি করেন। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বড় বৌমাকে। বঞ্চিত রয়েছেন জননী সুরক্ষা যোজনার সুযোগ সুবিধা থেকে। এখনও পর্যন্ত এই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জননী সুরক্ষা যোজনায় কোনও সুবিধা পাওয়া তো দূরাস্ত। কার্ড পর্যন্ত পাননি।

অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত পপরআড়া দুই নম্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান কার্ড পাওয়ার জন্য একটি সার্টিফিকেট আজ পর্যন্ত দেন নি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান। তাঁদের দাবি এরকম বিষয় নিয়ে তাঁদের কাছে কেউ আসেন নি। তবে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর স্বামী উত্তম দাস গত ১৬ জুন খড়গপুর দুই নম্বর ব্লকের বিডিওকে অভিযোগ করেছেন।

কিন্তু তারপরেও কোনও কাজ হয় নি বলে অভিযোগ। যদিও বিডিও সন্দীপ মিশ্র জানিয়েছেন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।   পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রের খড়গপুর দুই নম্বর ব্লকের পপরআড়া দুই নম্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের জিঙ্গা গ্ৰামের বাগানপাড়ার বাসিন্দা মানিক দাস। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ” আমি বিজেপি করি।

ছেলে উত্তম দাস গিয়েছিল প্রধানের কাছে জননী সুরক্ষা যোজনার কার্ডের জন্য একটি সার্টিফিকেট আনতে। তখন প্রধান ও উপপ্রধান আমার ছেলের গায়ে জব কার্ড ও রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্ড ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলে বাবা বিজেপি করে। আমরা কোনও সুযোগ সুবিধা দিতে পারব না। তারপর ছেলে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানায় লিখিতভাবে। কিন্তু তারও কোনও সুরাহা আজ পর্যন্ত হয় নি।” তিনি বলেন ” আমি বিজেপি করি।

কিন্তু ছেলে কোনও পার্টি করে না। আমার বিজেপি করার খেসারত বৌমাকে দিতে হচ্ছে।” আর বঞ্চিত গৃহবধু দুর্গা গোয়ালা দাস বলেছেন ” জননী সুরক্ষা যোজনায় কোনও সুবিধা পাই নি। আমার স্বামী উত্তম দাস গ্ৰাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সবকিছু ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে আমরা বিজেপি করি। তাই কিছু দেওয়া হবে না।” যদিও প্রধান কাকলি মান্না জানিয়েছেন ” দেখতে হবে। তবে আশা কর্মীরাও কিছু জানায় নি।” আর উপপ্রধান সনাতন বেরা জানিয়েছেন ” কেউ আসেনি।

মিথ্যা কথা বলছে। আসতে তো হবে। আসলে করে দেওয়া হবে।” অপরদিকে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন ” তৃণমূল সব জায়গায় এটাই করছে। তৃণমূলের কালচার এটা। শ্বশুর বিজেপি করেন বলে বৌমাকে এভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে।