সবংয়ের দশগ্রামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে রক্তদান শিবির

নিজস্ব সংবাদদাতা,(সবং): করোনাকালে অক্সিজেন এর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে রক্ত সংকট। চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন থ্যালাসেমিয়া রোগীরা। এদিকে বিভিন্ন ক্লাব থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের রক্তদান শিবিরও প্রায় বন্ধের মুখে। দু-একটি রক্তদান শিবির হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

আর যার ফলে জেলার ব্লাড ব্যাংক গুলোতে প্রবল রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। যার জেরে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে রোগীর আত্মীয় স্বজনদের। কোথাও আবার হন্য হয়ে রোগীর পরিবারের সদস্যরা ক্লাব কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু রক্তদান শিবির না হওয়ার কারণে রক্তের কার্ড মিললেও ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে মিলছেনা রক্ত। এমত পরিস্থিতিতে রক্তের সংকট মেটাতে এগিয়ে এলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সবং ব্লকের দশগ্রাম হাট সংলগ্ন এলাকায়, বিবেক উদয় নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ও মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতায় একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেনিটাইজেশন প্রক্রিয়া, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সেনিটাইজেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়েছে রক্তদান শিবির। এই রক্তদান শিবিরে এলাকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রী বয়স্করাও রক্ত দান করেন। প্রায় ৫০ জন রক্তদান করেন এই শিবিরে।

প্রতিটি রক্তদাতাদের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। এদিনের এই রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন, মূল উদ্যোক্তা সুশোভন দাস, সুহৃদবিলাস দাস,অজিত বেরা,শৈবাল ঘোষ,পিন্টু গিরি সহ অন্যান্যরা। এদিনের এই রক্তদান শিবিরের ব্যাপারে মূল উদ্যোক্তা সুশোভন দাস বলেন,করোনা আবহে রক্তদানের সংখ্যা কমেছে। যার ফলে ব্লাড ব্যাংক গুলিতে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। সেই রক্তের সংকট যতটা মেটানো যায় সেই জন্য এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, যুবক এবং সাধারণ মানুষদের নিয়ে বিবেক উদয় নামে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যানারে এই শিবিরের আয়োজন করেছি।

প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি দিন ধরে গ্রামে গ্রামে প্রতিটি মানুষকে বুঝিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার সবচেয়ে ভালো লাগছে যে গ্রামের যেসব সাধারণ মানুষ রক্ত দেখে ভয় করত তারা আজ এগিয়ে এসেছেন রক্ত দিয়েছেন আমি এবং আমার সংগঠনের সদস্যরা এতে খুব খুশি। আগামীতে এই সংগঠন মানুষের জন্য কাজ করবে প্রয়োজনে আবারও রক্তদান শিবির করবে বলে তিনি জানান।