বর্ষায় বন্ধ অস্থায়ী কাঠের সেতু! ডেবরায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন, তিনটি ঘাট এলাকার বাসিন্দারা

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বর্ষাকাল হলেই নৌকা। আর বাকি সময়ে কাঠের সেতু। এইভাবেই নদী পারাপার করে চলেছেন ডেবরা থানার তিনটি ঘাট এলাকার বাসিন্দারা। যদিও তারমধ্যে লোয়াদা এলাকার মানুষজন একটু হলেও ভাগ্যবান। কারন এখনও পর্যন্ত নদী পারাপার করার জন্য নৌকার আশ্রয় নিতে হয়নি।

নদীতে জল বাড়লেও অস্থায়ী কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার করা যাচ্ছে। এছাড়া এখানে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। অ্যাপ্রোচ রোড প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। ফলে শীঘ্রই পাকা সেতু দিয়ে পারাপার করতে পারবেন বাসিন্দারা। কিন্তু ট্যাবাগেড়িয়া ও জগন্নাথপুর ঘাট পারাপারের জন্য এখন নৌকাই সম্বল। কারন নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় অস্থায়ী কাঠের সেতু তুলে দেওয়া হয়েছে।

ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন নৌকাতেই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। এখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাকা সেতুর। ডেবরা থানার সত্যপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ট্যাবাগেড়িয়া থেকে নদী পার হয়ে ভরতপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মকারিমপুর যাতায়াত করেন বহু মানুষ। বর্ষার সময় নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। সেকারনেই এখন নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে।

অপরদিকে সত্যপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রাইপুর থেকে নদী পার হয়ে পৌঁছাতে হয় ভরতপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর। এখানেও সারা বছর অস্থায়ী কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার করতে হয়। আর বর্ষার মরসুমে প্রায় চার মাস নৌকায় পারাপার করতে হয়। যার ব্যতিক্রম এই বছরেও হয় নি। ফলে এই দুটি এলাকায় মানুষজনকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসুবিধা বিশেষ হয় না। কারন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা পাওয়া যায়। কিন্তু রাত হলেই সমস্যা ভয়ংকর আকার ধারণ করে।

ট্যাবাগেরিয়া ও জগন্নাথপুর এই দুটি ঘাট পারাপারের জন্য রাতের দিকে কোনও নৌকা পাওয়া যায় না। ফলে বাড়ি ফেরতা কিংবা অসুস্থ মানুষজনকে ডেবরায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। আর এই অবস্থা আজকের নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই অবস্থা চলছে। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পাকা সেতুর দাবিতে বহু আন্দোলন ও আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এই ব্যাপারে ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ অলোক আচার্য বলেছেন এই বিষয়টি তাঁদের এক্তিয়ার ভুক্ত নয়। বিধায়ক বলতে পারবেন।

আর বিধায়ক তথা রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হুমায়ূন কবির বলেছেন ট্যাবাগেড়িয়া ঘাট থেকে পারাপারের জন্য একটি পাকা সেতুর প্রয়োজন রয়েছে। সেই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও সময় লাগবে বলে তিনি জানালেন। তবে জগন্নাথপুর ঘাট নিয়ে এখনই সেরকম চিন্তা ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।