দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে চালু হল ডেবরার লোয়াদা সেতু

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: আংশিক হলেও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। আংশিক খুলে দেওয়া হলো ডেবরা থানার লোয়াদা সেতু। কংসাবতী নদীর উপর এই সেতু বৃহস্পতিবার জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনই লোয়াদায় নদীর ফেরিঘাট বন্ধ করা হচ্ছে না।

এই ফেরিঘাট চালু রেখেই সেতুটি আংশিক খুলে দেওয়া হলো। টার্গেট নেওয়া হয়েছে পুজোর আগেই এই সেতু জনসাধারণের প্রয়োজনে পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য। পরিকল্পনা রয়েছে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে এই সেতু উদ্বোধনের। এইদিন এই সেতু খুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যেকের চোখে মুখে স্বপ্ন পূরণের আনন্দ। আর হবে নাই বা কেন।

সেই বাম আমলে ২০০৯ সাল থেকে এই সেতুটি নির্মাণ হয়ে পড়ে ছিল। শুধুমাত্র অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না করার কারনে চালু করা যাচ্ছিল। আবার অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির জন্য সেতুর দুই প্রান্তে জমি অধিগ্রহণের জন্য কাজ আটকে ছিল জমির মালিকদের একাংশের গররাজির কারনে। পরে অবশ্য সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। এইদিন লোয়াদা সেতু আংশিক খুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেবরার বিধায়ক তথা রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হুমায়ূন কবির, পূর্ত দফতরের কার্যনির্বাহী আধিকারিক তপোজ্জ্বল মন্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক সেলিনা খাতুন, বিডিও শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত, ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ কর সহ অনেকে।

এই ব্যাপারে মন্ত্রী হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন জরুরী ভিত্তিতে এই সেতু আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। আপাতত এই সেতু দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, মোটরবাইক, সাইকেল ও পায়ে হেঁটে যাওয়া যাবে। তাও সেটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নজরদারি করা হবে। সেতুর দুই প্রান্তে পুলিশ পাহারা থাকবে নজরদারির জন্য। আর ফেরিঘাট আপাতত চলবে। অপরদিকে পূর্ত দফতরের কার্যনির্বাহী আধিকারিক তপোজ্জ্বল মন্ডল জানালেন সেতুর কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয় নি। অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কিন্তু মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা ভেবে আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছেন কাজের সময় যেন কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখতে। এই সেতু আংশিক খুলে যাওয়ায় ডেবরা থানার লোয়াদা-ষাঁড়পুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের লোয়াদা থেকে অপর প্রান্তে গোলগ্ৰাম গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নন্দবাড়ি পর্যন্ত যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হল। বিশেষ করে রোগী নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গোটা এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হলেন।

তারসাথে কিছুটা হলেও চাপ কমল ফেরিঘাটের উপর। এদিকে এইদিন কাঠের সেতু দিয়ে পার হতে গিয়ে ট্যাবাগেড়িয়া ফেরিঘাটে একটি পিকআপ ভ্যান নদীর জলে পড়ে যায়। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই।