রাতভর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না ভ্যাকসিন,সবংয়ে ক্ষোভ

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল:  রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে এই নিয়ে ভ্যাকসিন প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে ভ্যাকসিন নিয়ে দালালির।  পেছনের দরজা দিয়ে পরিচিতদের ও নেতাদের কাছের লোকজনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার। যদিও এই শ্রেণীর মানুষজনকে রাত জেগে লাইনেও দাঁড়াতে হচ্ছে না।

আর কোনও কষ্টও করতে হচ্ছে না। এমনকি এইভাবে পেছনের দরজা দিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রতিবাদ করা হলে ন্যায্য ভ্যাকসিন প্রাপককে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সবং ব্লকে। যদিও সবং ব্লকের স্বাস্থ্য বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের সরবরাহ কম বলে স্বীকার করেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর ভ্যাকসিনের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য এখন মানুষ রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। সবং গ্ৰামীণ হাসপাতালের সামনে রাত নয়টা থেকে মানুষজন ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। এঁদের বেশিরভাগ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রাপক। অনেকে তো আবার বিকাল থেকে লাইন দিচ্ছেন পরের দিন সকালে ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য। তবে সশরীরে নয়।

ছোটো ইট পেতে কিংবা গুটি দিয়ে লাইন লাগাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তো মশারি নিয়ে এসে খাটিয়ে শুয়ে পড়ছেন। কেউবা মাটিতে বসে  একটি টোকেন পাওয়ার প্রতীক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন। সবমিলিয়ে এক ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য সকলে আকুল হয়ে উঠছেন। আর সেই অবস্থায় ভোরের আলো ফোটার পর টোকেন দেওয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুনতে হচ্ছে আর দেওয়া হবে না। অনেকের তো অভিজ্ঞতা আরও ভয়ঙ্কর।

টোকেন নিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য ভেতরে ঢোকার পর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরেই শুনতে হচ্ছে ভ্যাকসিন শেষ। পরে দেওয়া হবে। এইভাবে বহু দ্বিতীয় ডোজ প্রাপককে একাধিক বার ফিরে যেতে হয়েছে। হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এরকমই একজন দ্বিতীয় ডোজ প্রাপক শংকর ঘোষাল। তিনি জানালেন ইতিমধ্যে চারবার ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু ভ্যাকসিন পান নি। এমনকি শেষবার তাঁকে ভেতরে ঢুকিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে অন্য কয়েকজনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আর দেওয়া হবে না। তিনি বলেন ” আমার পরে যারা বাইরে থেকে আসছেন তাঁরা পেয়ে যাচ্ছেন।

জায়গা ধরে রাখার জন্য লম্বা করে গুটি সাজানো রয়েছে। কেউ আবার মাটিতে বসে পড়েছেন, কেউ আবার মশারি খাটিয়ে শুয়ে পড়েছেন।

অথচ তাঁদের আগে থেকে দাঁড়িয়ে থেকে আমি পাচ্ছি না।” সবংয়ের একটি অঞ্চলের এক মহিলা বাসিন্দা হরি রানি পাল তো সরাসরি বলেই ফেললেন ” ভ্যাকসিন নিয়ে দালালি ও দুর্নীতি হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে ভ্যাকসিন পেয়ে যাচ্ছে। আর রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে। যদিও এই ব্যাপারে সবং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুভাষ কান্ডার বলেছেন ভ্যাকসিন নিয়ে দালালির কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ ঠিক নয়।

নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিবারকে কিছু দেওয়া হয়েছে। তবে এবার থেকে আর যাতে কোনও ভ্যাকসিন প্রাপককে ফিরে যেতে না হয় তারজন্য নামের তালিকা তৈরি করে তাঁদের অগ্ৰাধিকারের ভিত্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অপরদিকে রাত থেকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে তিনি বলেন চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের জোগান কম থাকার জন্য এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই দৃশ্য দেখতে তাঁর ভালো লাগছে না বলে জানালেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন সোমবার সবং ব্লকে ছয়শো কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

তারমধ্যে চারশো সবং গ্ৰামীণ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুশো চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ দ্বিতীয় ডোজ। প্রথম ডোজ কিছু রয়েছে। সেগুলি দেওয়া হয়েছে লোকশিল্প ও বাইরে পড়তে যাবেন এমন কয়েকজনকে।